Home » , , » চিলাহাটি থেকে শেষদিন : অবসরে গেলেন টিটি রানী আপা

চিলাহাটি থেকে শেষদিন : অবসরে গেলেন টিটি রানী আপা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 02 January, 2020 | 10:28:00 AM

আপেল বসুনীয়া,চিলাহাটি ওয়েব : ১৯৮৪ সালের ১৩জ জুলাই বাংলাদেশে রেলওয়ের নারী টিটিই (ট্রেন টিকিট এক্সামিনার) হিসাবে যোগদান করেছিলেন আলিয়া জাহান ওরফে রাণী। নিষ্ঠার সঙ্গে চলন্ত ট্রেনে ট্রেনে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দীর্ঘ চাকুরী জীবনের তিনি পরিসমাপ্তি ঘটালেন। তিনি বিদায় বছরের ৩১ ডিসেম্বর নীলফামারী থেকে রাজশাহী গামী আন্তঃনগর তিতুমির এক্সপ্রেস ট্রেনে শেষ ডিউটি করছিলেন। নতুন বছরের পহেলা জানুয়ারী তিনি অবসরে গেলেন। অত্যন্ত বিনয়ী ওই নারী নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্বে অবিচল ছিলেন। এজন্য পেয়েছেন কর্তৃপরে ভূঁয়সি প্রশংসা। তিনি অবসরে যাওয়ায় শীঘ্রই রেলপ্রশাসন তাকে সংবর্ধনা প্রদান করবেন বলে জানানো হয়েছে। রেলের দুই নারী টিটির মধ্যে রানী আপা অবসরে যাওয়ায় রইল এখন একজন। তার নাম নার্গিস পারভীন টুনি। নার্গিস পার্বতীপুর ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনের দায়িত্বে থাকেন। দীর্ঘ দিনের চাকুরী জীবনে রানী আপা নীলফামারী চিলাহাটি-রাজশাহী অথবা নীলফামারী চিলাহাটি-ঢাকা রেলপথে ট্রেনযাত্রীদের কাছে রাণী আপা নামে পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত রেলপথের যাত্রীরা কেউ তাকে খালা আবার কেউ বড় আপা বলে সম্বোধন করেছিল।প্রবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ওই নারীর বিদায় বেলায় সহকর্মীরা কেঁদেছেন। চিলাহাটি  থেকে রাজশাহী যাবার পথে তিতুমির ট্রেনে যখন তিনি চাকুরী জীবনের শেষ দায়িত্বটি পালন করছিলেন তখন তিনি নিজে থেকে যাত্রীদের বলছিলেন আজ থেকে আর দেখা হবেনা। পরিচিত যাত্রীরাও রানী আপার ভালবাসায় চোখের পানি মুছেছিলেন। আলিয়া জাহান রানী আপা জানান, সান্তাহার কলেজ থেকে বিএ পরীার পর ১৯৮৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর রেলওয়েতে চাকরির পরীক্ষা দেন তিনি। ১৯৮৪ সালে ১৩ জুলাই স্টেশনের টিকিট কালেক্টর পদে যোগদান করেন তিনি। ২০১৩ সালের ১৩ জুলাইয়ে টিটি হিসেবে পদোন্নতি পান। সান্তাহার জংশন রেলষ্টেশন হলো তার প্রধান অফিস। রুটিন মাফিক এখান থেকে তিনি রাজশাহী-পার্বতীপুরগামী উত্তরা, নীলফামারী গামী তিতুমীর এক্সপ্রেস, ও ঢাকাগামী নীলসাগর ট্রেনের টিটির দায়িত্ব পালন করেন।তিনি জানান, প্রতিদিন সকালে সান্তাহার থেকে ট্রেনে উঠতে হয় তাকে। নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ফেরার সময় আবার সান্তাহারে এসে নেমে যান। আবার নীলফামারী থেকে রাতে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী নীলসাগরে ডিউটি করতেন। দিনে-রাতে ট্রেনে এ কাজ করতে কোনো সমস্যা হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বড় রকমের সমস্যা কোনো দিন হয়নি। তবে অনেকে ট্রেনের টিকিট কাটে না।বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের প্রবণতা অনেকের মধ্যে আছে। তাদের কীভাবে মোকাবিলা করেন? এই প্রশ্নের জবাবে আলিয়া জাহান বলেন, নারী হওয়ার সুবিধাও আছে। কেউ বেশি ঝামেলা করতে চায় না। তাড়াতাড়ি টাকা দিয়ে টিকিট কিনে নেন। তবে বর্তমানে বিনা টিকেটের যাত্রী নেই বললেই চলে। যাত্রীদের মাঝে টিকেট কাটার জন্য সচেতনা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। পারিবারিক বিষয়ে তিনি জানান, তারা বাবা আলিফ উদ্দিনও ছিলেন রেলওয়ে কর্মচারী। স্বামী শাকিল আলম আদমদিঘি উপজেলার সান্তাহার বাজারে একজন ব্যবসায়ী। দুই মেয়ে রয়েছে আলিয়ার। বড় মেয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। আর ছোট মেয়ে লেখাপড়া করছেন সান্তাহার কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে। সান্তাহার হাউজিং কলোনিতে বসবাস তাদের। জুনিয়র টিটিই আব্দুল আলিম বলেন, রাণী আপা ছিলেন আমাদের মায়ের মত। নারী পুরুষের পার্থক্য বুঝিনি তার কাছে। অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিনা টিকিটের যাত্রীরা কখনই রেহায় পায়নি তার হাত থেকে। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন উদার। অনেক সময় দেখেছি শিার্থীদের তিনি খাবার কিনে দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মিহির কান্তি গুহ জানান, আলিয়া জাহানের অবসর রেল অঙ্গনে এক প্রকার আবেগ সৃষ্টি করেছে। তার বিদায় আমরা স্মরণীয় রাখতে চাই। খুব শিগগিরি রেল ভবনে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। উল্লেখ যে, নারী টিটির পাশাপাশি বাংলাদেশে নারীরাও ট্রেন চালায়। বর্তমানে ১৫ জন ট্রেন চালক নারী রয়েছে।