Home » » একমাত্র ছেলের চোখ হারানোর শোকে কাতর বাবা মা

একমাত্র ছেলের চোখ হারানোর শোকে কাতর বাবা মা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 05 December, 2019 | 11:00:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : পড়া লেখায় ভাল ফল করলেও বেশিদুর এগুতে পারেনি কৃষকের ছেলে রাকিবুল ইসলাম। তাই সদ্য বিএ পাস করে বাড়ির পাশে গড়ে ওঠা একটি কলেজে অফিস সহকারী পদে চাকরি নেন তিনি। সদ্য চাকরিতে যোগদানকারী রাকিবুলের দিন বেশ ভাইল কাটছিল। কিন্তু কলেজের দুই বখাটের মারপিটে একটি চোখ হারিয়ে সব স্বপ্ন যেন তার ফিকে হয়ে যায়। বুকের ধন একমাত্র ছেলের চোখ হারানোর শোকে তার বাবা মা এখন পাগল প্রায়। পুর্ব প্রকাশ, রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুর ময়নাকুঁড়ি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা প্রায় সময় কলেজ ফাঁকি দিয়ে একই শ্রেণির ছাত্রী নুশরাত জাহানকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সময় ক্ষেপন করে থাকে । গত ২৫ শে নভেম্বর সকালে তাঁরা দুইজন কলেজে এসে কলেজ থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। বিকেলে কলেজ ছুটি হলে কলেজের অফিস সহকারী মোঃ রাকিবুল ইসলাম তাদের দুজনের বই খাতা গুলো অফিসে রেখে দেন। ছুটির পর তারা দুজন অফিসে বই খাতা নিতে এলে কলেজের অধ্যক্ষ তাদেরকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দেন। এর পর থেকে নুশরাত জাহান কলেজে আসা বন্ধ করে দেয়। এ দিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি রাকিবুলের মাধ্যমে তাদের অভিভাবককে জানালে শিক্ষার্থী মোস্তাফিজার রহমান অফিস সহকারী রাকিবুলের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার মোস্তাফিজার রহমান তার বন্ধু বান্ধব নিয়ে কলেজের পাশে মাঠে অবস্থান করে। এ সময় অফিস সহকারী ঐ পথ ধরে আসার সময় তার পথরোধ করে তাকে বেদম ভাবে মারপিট করে তার বাম চোখ অকেজো করে দেয়। তার আত্মচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চক্ষু বিভাগে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার বেগতিক দেখে তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান আগারগাঁও ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার বাম চোখটি অকোজো হওয়ার সংবাদ পেয়ে এলাকাবাসী বখাটেদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেছে। এ ব্যপারে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ এলাহী বকস্ বাদী হয়ে দুই বখাটের বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু বাদীর অভিযোগপত্র নিয়মিত মামলা হিসাবে থানায় নথিভুবক্ত হলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি। অন্যদিকে একমাত্র ছেলের চোখ হারানোর শোকে তার বাবা আখের আলী ও মা সুরাইয়া খাতুন এখন পাগল প্রায়। তারা দুজন নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়ে দিনরাত ছেলের জন্য শুধু কেঁদেই চলেছে। এক চোখা ছেলের ভবিষ্যত নিয়ে এখন তাদের কষ্টের শেষ নেই। ওই মামলার তদন্তকারী অফিসার বদরগঞ্জ থানার এসআই গোলাম রব্বানী বলেন, আসামীরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছেনা।