Home » , » ডোমারে মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন

ডোমারে মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 16 December, 2019 | 9:21:00 PM

আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, চিলাহাটি ওয়েব : রাজাকারের পুত্র কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কারনে জেলার ডোমার উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন ডোমার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোঃ নুরন্নবী। ১৬ ডিসেম্বর সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ মাঠে সরকারী ভাবে বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা ওই অনুষ্ঠান বর্জন করে মাঠ ত্যাগ করে চলে যান। ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোঃ নুরননবী অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের বাবা শওকত আলী ছিলেন রাজাকার সদস্য। তিনি উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পিস কমিটির সভাপতি ছিল। এলাকার কুখ্যাত রাজাকার সামছুল হক টগরার ঘনিষ্ঠ সহচর থেকে তোফায়েলের বাবা যুদ্ধকালিন সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় ও লুটপাতে সহযোগীতা করে। তার ছেলে তোফায়েল ছিল বঙ্গবন্ধুর হত্যার আতœস্বীকৃতির ফ্রিডম পার্টির ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে উপজেলার সম্বয়নকারী। ১৯৯২ সালে তোফায়েল ডোমারের চয়ন হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। সে আগে থেকেই মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের অবজ্ঞা করে আসছিল। এ সব ঘটনা থেকে পরিত্রান পেতে এই রাজাকারপুত্র সুযোগ বুঝে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে। এই অনুপ্রবেশে সে উপজেলা আঃলীগের সাধারন সম্পাদক পদটি বাগিয়ে নিয়ে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতিকের উপর ভর করে বনে যায় উপজেলা চেয়ারম্যান। উপজেলা চেয়ারম্যান হবার পর তোফায়েল আরো বেপরোয়া উঠে। তার চেম্বারে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবেশ করতে দেয়না। তার দাম্ভিকতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেই রাজাকারের পুত্র ও ফ্রিডম পার্টির নেতা আজ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের উপজেলা চেয়ারম্যান পদকে পুঁজি করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবে এটি আমরা মুক্তিযোদ্ধারা মেনে নিতে পারিনি। রাজাকারের ছেলে জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে আমরা জাতীয় পতাকার অবমাননা মনে করে সরকারী ভাবে বিজয় দিবসের উপজেলার মাঠের অনুষ্ঠান বর্জন করে সকল মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এসে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান পালন করছি। ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল জব্বার বলেন, সরকার রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে সাহসিকতার প্রমান দিয়েছেন। তিনি বলেন মুক্তিযোদ্ধারা একহয়ে সকলের সিদ্ধান্তে এই অনুষ্ঠান বর্জন করেছে। ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক আল আমিন রহমান অভিযোগ করে জানায় তোফায়েল আহমেদ সব সময় ডোমারের মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের অবজ্ঞা করে আসছেন। তিনি কোন মুক্তিযোদ্ধাকেই মুল্যায়ন করেননা। আমাদের পিতারা (মুক্তিযোদ্ধারা) তার অনুষ্টান বর্জন করেছে ।যৌতিক কারণে আমরাও বর্জন করেছি ।আমাদের দাবী ,আগামীতে কোন স্বাধীনতা বিরোধীরা যেন দলের কোন পদ বা কোন মনোনয়ন না পায় । ডোমার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মুন্জুরুল ইসলাম জানান,আমার চাচা আব্দর রউফ ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইফ ।আমি প্রত্যক্ষদশী ,তোফায়েলের বাবা আমাদের বাড়ীঘর পুড়িয়ে দিতে খান সেনাদের সহযোগীতা করেছেন তিনি খান সেনাদের সন্দেশ সরবরাহ করতেন । এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নিবার্হী অফিসার ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ডোমার উপজেলা শাখার কমান্ডার উম্মে ফাতিমা জানান, বিজয় দিবস অনুষ্টানে সম্মিলিতভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবধর্না দেওয়া হয়েছে ।তবে তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অংশটুকু বর্জন করেছে ।উপজেলা প্রশাসন থেকে তাদের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে । এ বিষয়ে তাফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা যে অভিযোগ তুলেছে তা সঠিক নয়। ডোমার উপজেলা আঃলীগের অভ্যন্তরীন কোন্দলে তারা একটি পক্ষ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ তুলছে। সকালে মুক্তিযোদ্ধা সহ আমরা স্থানীয় স্মৃতিসৌধ্যে পুস্পমাল্য অর্পন করি। এ ছাড়া কুচকাওয়াজ মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের রজনীগন্ধা দিয়ে বরন করে নেয়া হয়। সরকারী প্রজ্ঞাপনের আলোকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে ডোমার উপজেলার বিজয় দিবসের সরকারী অনুষ্ঠানে আমি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি। এ সময় বাহিরে কি হয়েছে আমার জানা নেই। মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ছিলো। তাদের সন্তানরাও খেলাধুলায় অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন আমি বোড়াগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ছিলাম ।পরে উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হই তৃনমুলের ভোটের মাধ্যমে। গত উপজেলা নির্বাচনে দলের প্রধান আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে সেই কারনে জনগন আমাকে ভোট দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে। একটি পক্ষ আমার সাফল্যে ইর্ষন্বিত হয়ে এসব করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।