Home » » নীলিমা শামীম এর এক গুচ্ছ কবিতা

নীলিমা শামীম এর এক গুচ্ছ কবিতা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 21 November, 2019 | 4:23:00 PM





























আশার স্বপ্ন গুলি 

 ॥ নীলিমা শামীম ॥ 

লোকেরা বলে আমি নাকি কবি ?
পারিনা যখন নিজেকে সামলাতে
বেশামাল আমি শুনে রেগে যাও তুমি
অগোছালো আমি পরিপাটি তুমি
এটা জীবন না জীবনের ছবি।

 পুরুক আগুনে আমার কান্না হাসি/
তোমাকেই আমি তোমাকেই ভালবাসি/
সে যাই হোক তুমি আমার অনন্যা/
 কি যে লাবন্য ছড়াও রুপেরি বন্যা।

 তুমি কি বুঝনা তোমাতেই খুজে পাই
জীবনের সবটুকু না পাওয়ার পাওয়া
ভালোবেসে তুমি এসো মোর দ্বারপ্রান্তে
আমি হারাতে চাই অবলীলায় দূর অজান্তে।

একটু একটু করে সময় যেমন এগিয়ে চলছে
সামনের দিকে, ঠিক তেমনি শুধু তোমার
 হৃদয় টা ক্ষত বিক্ষত করিতে দিওনাগো
 বেধে রাখিও ওই অন্তরের অন্তস্থলে।

 এলোমেলো ওই চুলে যখনি পরে এ চোখে
আমি দিশেহারা হই,আপ্লুত হই অপরান্থে
তুমি এলে এই বর্ষায় খুলে দিলে হৃদয়ের বন্ধ দ্বার
আমি হলেম ক্ষুদ্র হলো যে আমার হার।

 এক শ্বাপ্নিল রাতে এলে তুমি চুপিসারে
আর তক্ষুনি- এ বেহিসাবী মন দিল অভিসার
 হিসেবের শুরু হলো দক্ষিনা বাতাসের ক্ষন
আমি যেনো দেখিলাম এক অবাঞ্চিত দুঃস্বপন।
 রাখবো দুটি হাত তোমার হাতের উপরে
হেটে যাবো অচেনা পথে অজানা প্রান্তরে
পাতিব সংসার অগোছালো জীবনের বাতিঘরে
 জ্বালাবো আলো দুজন অচেনা পথে ধীরে ধীরে।।

 ভালোবাসার নীল দোপাট্টা


 আমার বুকে যত যন্ত্রণা দিবানিশি,
তার সবই তোমার দেয়া আঘাতে।
আমি জানি না আমাকে দুঃখ দিয়ে
কি এমন সুখ পাও তুমি, হে নারি!
কেন বুকের মাঠে শুধুই জ্বালাও
 বিসুভিয়াসের অগ্নিশিখা?

 তুমি জি জানো হে প্রিয়তমা!
আকাশের চাঁদটা এখনও জোসনায়
 খোঁজে অবিরাম কাঁঠালচাপার বাগান,
যেখানে তুমি দেহকাব্যের ভাঁজে ভাঁজে
 উদ্দাম যৌবনের লাস্যে, সব চাঁদনি রাতে
আঁকতে সঙ্গসুখের রসালো মানচিত্র।

 কিভাবে তুমি বেমালুম ভুলে গেলে
জীবনের সেইসব সুখজমিন?

তুমি না বলতে অহোরাত্র-
আমার তন্ত্রীতে তোমার স্বর্গবাস,
আমার নিঃশ্বাসে আমার বিশ্বাসে
আমার লোমশ বুকের প্রশস্ততায়
আমার প্রতিটি দেহবল্লরী
 তোমার মিলনকাব্যের মহাউল্লাস।

 তৃষিত আমি, ভালোবাসার কাঙ্গাল
চঞ্চুতে ওষ্ঠ রেখে থিতু হয়েছিলাম।
একমুঠো সুখ দিলে যদি,
 কেন ভুলে গেলে আজ হে নারি!

 আজও আমি মোহনার জলে
মুহুরির বালুকাবেলায় শুধুই
তোমার অগোছালো শরীর দেখি।
 দেখি কিন্নরী তুমি দু'বাহু বাড়িয়ে
উত্তুঙ্গ নেশায় আমার বুকে খুঁজছো
তোমার আমার হারিয়ে যাওয়া
 ভালোবাসার সোনালী দোপাট্টা।


 দ্বীখন্ডিত 

 দেহটা আজ দ্বিখন্ডিত হল তোমার
 আঘাতে রক্তাক্ত করে দিলে নীলিমাকে
 দিগন্ত ছুঁতে চায়না হৃদয়টা আর
 তোমার প্রিয়ার স্থানে থাকে দ্বিপাবলি
 .....প্লিজ প্লিজ প্লিজ/ ছুঁয়ো না ছুঁইয়োনা ঘ্রৃনায়
 দেহ জ্বলে পুরে হল ছাই,
এই হৃদয় অার দেখাবার
জন্য অাগের মত নাই।
কেউ ওখানে নষ্ট করেছে,
ভ্রষ্ট করেছে আমার প্রেম
আঘাতে আঘাতে জর্জরিত
করেছে এই কোমল মন।
করিনি কোনো প্রতিবাদ
করেছি শুধুই নিজেকে আঘাত
আমি নিরালায় থাকিতে ভালবসি
সে হল উড়ন্ত বন্য পাখি
তাই হাল ছেড়ে তাকেই দিলাম
মুক্ত ডানা আর পিঞ্জরের খিল খুলে
তুমি ইচ্ছে মত কর ডাকাডাকি।


 রাত জাগা পাখি



 এই শুনো প্রিয়তমা তুমি কি থাকবে আজ পাশে
তুমি হীনা যে ঘুম আসেনা এই দু চোখে অশ্রু ঝরে বালিশে।

 কামনার রস জাগিয়াছে প্রিয়তি দেহের বসন ছাড় খুব আরতি
কিসের লজ্জা এই আখি পাতে আমি আছি শুধু দেখোনা মুখ পাতি।

 জেগে থেকো সারা রাত আমি সোহাগিনী বানাবো তোমাকে
খুলে রেখো দুটি চোঁখ দেখো তুমি আমার ভালোবাসাটাকে

 আমি যে দেবো ডাক চুপিসারে নীরব আঁধারে
নিয়ে যাবো তোমাকে রাতের অভিসারে, অনেক দূরে।

ধীরে ধীরে এসো আমার বাহুডোরে যেন কেউ দেখে না ফেলে
 অন্ধকার করে বেরিয়ে এসো যেনো না জাগে কেউ কপাট খুললে।
 লুকিয়ে এসো তুমি অভিসারিনী রাতের আঁধারে
নিয়ে যাবো তোমাকে রাতের অভিসারে, দুরের সাগড় পাড়ে

 ঝড়ো হাওয়া হয়ে আজ হারাবো দূর সীমানায়
মাঝরাতে যাবো চলে আধারের ওই নিষিদ্ব জল মোহনায়।

 দিপালী জ্বালিয়ে আজ ভেসে যাবো প্রেমের আহবানে
নিয়ে যাবো তোমাকে রাতের অভিসারে, জাগিয়ে শিহরন।
 ঘুমহারা চোখে দেবো একরাশ আদর মেখে।
কোমল ছোঁয়ায় ওঁই হৃদয়ে আর দেহে দেব আমার ছবি একে।

হৃদয়ে রেখো বিশ্বাসটুকু যতনে আর সঙ্গোপনে।
নিয়ে যাবো তোমাকে নীলিমার ওই বিশাল নীল আকাশ পানে।

 আশার স্বপ্ন গুলি

 লোকেরা বলে আমি নাকি কবি ?
পারিনা যখন নিজেকে সামলাতে
বেশামাল আমি শুনে রেগে যাও তুমি
অগোছালো আমি পরিপাটি তুমি
এটা জীবন না জীবনের ছবি।

 পুরুক আগুনে আমার কান্না হাসি
তোমাকেই আমি তোমাকেই ভালবাসি
সে যাই হোক তুমি আমার অনন্যা
কি যে লাবন্য ছড়াও রুপেরি বন্যা।
 তুমি কি বুঝনা তোমাতেই খুজে পাই
জীবনের সবটুকু না পাওয়ার পাওয়া
ভালোবেসে তুমি এসো মোর দ্বারপ্রান্তে
আমি হারাতে চাই অবলীলায় দূর অজান্তে।

একটু একটু করে সময় যেমন এগিয়ে চলছে
সামনের দিকে, ঠিক তেমনি শুধু তোমার
হৃদয় টা ক্ষত বিক্ষত করিতে দিওনাগো
বেধে রাখিও ওই অন্তরের অন্তস্থলে।

 এলোমেলো ওই চুলে যখনি পরে এ চোখে
আমি দিশেহারা হই,আপ্লুত হই অপরান্থে
তুমি এলে এই বর্ষায় খুলে দিলে হৃদয়ের বন্ধ দ্বার
আমি হলেম ক্ষুদ্র হলো যে আমার হার।

 এক শ্বাপ্নিল রাতে এলে তুমি চুপিসারে
আর তক্ষুনি- এ বেহিসাবী মন দিল অভিসার
 হিসেবের শুরু হলো দক্ষিনা বাতাসের ক্ষন
আমি যেনো দেখিলাম এক অবাঞ্চিত দুঃস্বপন।

 রাখবো দুটি হাত তোমার হাতের উপরে
হেটে যাবো অচেনা পথে অজানা প্রান্তরে
পাতিব সংসার অগোছালো জীবনের বাতিঘরে
জ্বালাবো আলো দুজন অচেনা পথে ধীরে ধীরে।।

 খাচা  

 পিঞ্জরের পাখি আমি উড়িতে চাই আকাশে
তুই কেনো বাধিতে চাস শিকল বেদে খাচাতে।
যদি ভালবাসোস মোরে মন দিয়ে দেনা দেনারে
 আমিও মুক্ত ডানা মেলে ভালবাসবো শুধুই তোরে।
 বন্ধি জীবন চাইনা আমি হতে চাই আকাশ গামি
তুইকি জানিতে চাসনারে আমার অন্তরের কাক্রানি।
খাচার মাঝে আছে তোর কড়া পাহারাদারী
বাহিরে আছে জানোস আমার পাখপাখালীর বাড়ি।

 মুক্ত পাখির দল যখন উড়ে ওই দুর দুরান্তের শিষে
আমি জানালার দ্বার খুলে দেখি অস্রুজলে ভেসে।
সবাই যখন আড্ডার ছলে থাকে ওই নীল আকাশ দিগন্তে
আমি দুচোখ মুছি শাড়ীর আচল তলে নিরজন দুয়ারে।

 শ্রাবন বৃষ্টি 

 শ্রাবন ধারাই আজ করে লুকোচুরি
রিক্সের হুট তুলে পরদার আড়ালে।
দুজনায় বসে আছি খুব কাছাকাছি।
 অবগাহনের অবডালে দুজন পাশাপাশি।

 লজ্জার আবরন গেছে আজ সরিয়ে,
 তোমার বাহুতে আছি শুধু জড়িয়ে।
ঝিরি ঝিরি মিষ্টি কাপনের কাপেশে
তুমি আমি আছি বিহবলতার আবেশে।

 প্রেমিক জুগল আছি অনাবিল পরশে
ইস মধু কুঞ্জনের মৌমাছি কুহুরুন ইস
ঐ চোখের মায়ায়ে যাই আমি হাড়িয়ে
 আহা ভ্রমরার কলতান বুঝি করে মাড়িয়ে।

 বৃষ্টির জল্কনার ফোটাতে মরি হায়
 লালিমায় ঠোট খানি কাপে থর থর
শীতের কাপুনিতে দেহ মন জড় সড়
বুকেরি কাপন সরে দুজনায় সরোবরে ।।

 আনমনা ভাবনা

 ভরদুপুরে হূদয় মাঝে দাও তুমি উঁকি
অতিথি পাখি হয়ে হূদয় কার্ণিশে থাকি,
তুমি কেনো ভাবছো বলো অন্যরকম কিছু
 দীর্ঘশ্বাসের প্রহর টুকু নেয় যে তোমার পিছু!!

 পাখি হয়েও বুঝে সে যে আমার মনের ভাবনা
 রৌদ্রদ্বীপ্ত খড়কুটো খুজে তবুও ছাড়তে রাজি'না,
উদাস দুপুর দেখে পঙী পৌঁছায় মনের আকুলতা
 ছটফটানি দেখে নাকি বুঝে ব্যাথার ব্যাকুলতা!!
 প্রশ্নবিদ্ধ? করে পাখি পিঁউ কোকিল মিষ্টি কণ্ঠে
আনচান মনের ব্যাকুল প্রত্যাশা উড়ো নীড়ন্ঠে
লাজুকতা নিয়ে পাখি আনমনে হাসে নীরবান্তে
ব্যাকুলতায় বিস্মিত হয়ে ভাবি বোবার অজান্তে!!

 নির্জনতার প্রহর ভেঙে আঁখি মেলে দেখি হঠাৎ,
সাধের পোষ্য ময়না- টিয়া করছে দুজন বিবাদ,
 হূদয় প্রসারিত করে খুলে খাচার দুয়ার তৎখনাৎ
সকল বাধন ছিন্ন-ভিন্ন দুজনেই উড়লো ফুরুৎ!!

 অপেক্ষার প্রহর কঠিন তবু থাকি প্রতীক্ষার সাথে!
বেলায় বেলায় যায় যে ডুবে- চিরচেনা অবলার ঘাটে;
 মনের কথা বলবো আমি কাকে - সরল বিশ্বাসে?
একটু মুখ ফসকালে কারোর কতোকিছুই তো রটে।

 মানুষ হয়ে বুঝ মানেনা - পাখিরে বলবো কি
 নদীর স্রোতে গা ভাসায় - কি থাকে আর বা'কি,
দক্ষিণের জানালা খানি আমি- যখনি খুলে রাখি
প্রেমিক পাখি যায় ডেকে - দেখ,আমি এখানে থাকি!!

 যে প্রেম ছলনায়

 রেটিনাতে চেয়ে দেখ খুজে পাবে ত্যোমায়
হৃৎপিন্ডটা সার্জারী করো খুদিত তোমায়,
সাহি রকটা কেটে জানতে চাও ওখানটায়
প্রতিটা রক্তকনিকারা চেয়ে আছে তোমায়!!

 হাড্ডিসার ভঙ্গপাজরে খুজো পাবে তোমায়
ওষ্ট যুগলের স্পন্দিত স্পন্দনে দেখবে তোমায়,
পাজরের চূর্ণতায় আছো মিশে দেখো তোমায়
ব্রেইনের মগজের নিউরোট্রান্সমিটারগুলিতে
 মিশে গেছো অনিমেষ সেখানেও দেখো তোমায়!!

 রাগান্বিত ভাবমূর্তিতে দেখো নিকোটিনের নেশায়
দেহের প্রতিটি লোমহর্ষক অনুভুতিতে পাবে তোমায়
 নিতান্তই এই দেহমনে আবির্ভাব হয়েছিল তোমায়
আজ তুমি নেই শুধুই অযাচিত উগ্রতা আর ক্রোধময়!!

 বিভ্রান্তকর পরিস্থিতিতে ফেলে গিয়েছিলে সেই তুমি
প্রশ্নবোধক করেছিল অযথায় এই আমাকে শুধু তুমি
প্রশ্নবিদ্ধ প্রতি পদে পদে নিঃস্ব করেছো আমায় তুমি
আজ চেয়ে রও আমার গতিবিধি অনুসরণ সেই তুমি??
 ছলনাময়ী আমি নই ছলনার কারিগর শুরু থেকে তুমি!!

 প্রশ্ন রয়ে যায়!

একটা মেয়ে তার ভালোবাসার
মানুষটির উপর ঘন - ঘন রাগ
করে কেনো জানেন ?

 মেয়েটি তার ভালোবাসার
মানুষটির কাছে একটু সময় চায়, আরেকটু
 বেশি ভালোবাসা পেতে চায় ।
আর সে জানে সে যদি রাগ করে,
তবে তার ভালোবাসার/ মানুষটি তাকে প্রতিদিনের
 থেকে একটু বেশি সময় দিবে ।

 হয়তো কম তবুও অন্য দিনের
চাইতে বেশি, তার রাগ ভাঙ্গানোর
জন্য নানা রকম চেষ্টা করবে ।

 ভালোবাসার মানুষটির সাথে এই
রাগ - অভিমানের খুনসুটি চলতেই থাকে ।
এই রাগ অভিমানের পর
যে ভালোবাসার আগমন ঘটে, তার
গভীরতা একটু বেশি থাকে ।

 তাই রাগটাও মেয়েরা করে বেশি,
শুধু একটু বেশি সময় কাছে পাওয়ার
জন্য, ভালোবাসার জন্য ।

 রাগ করার পর কেউ এসে রাগ
ভাঙ্গালে, এক আলাদা রকমের
ভালো লাগে যে,
অনুভুতি টা বলে বোঝানোর মতো না।

 বিস্ময় এক কথা 

 রথ যাত্রার শোভাযাত্রা ছিল শহর ময়
 তাইতো তোমার আমন্ত্রনে ভীষণ কষ্ঠ হয়,
গত কাল অনেক ট্রাফিকজ্যাম ছিল ,
যেতে যেতে পথে হলো দেরি তারপর---
 সব কিছু উপেক্ষা করে ফিরে এলেম ,
নিজেই নিজের কাছে ।
তোমার গন্তব্যে যাওয়া হলোনা ।
 জানি সব প্রোগ্রাম এর জন্য ,
আমি নই উপযুক্ত তবুও কেনো যে!
 নিমন্তন্য করো প্রিয় বারে বার!
 শিক্ষাঙ্গন এর উপমঞ্চে ছিলেম প্রতিউমান ।
তুমি হাত না বাড়িয়েই নাকি করেছো অভিমান।
কেনো ? এই প্রশ্ন আজ বিবেকের কাছে?
ভুল হয় কভু নিজ সত্ব্যার নিখীরে নিখুঁত সুরক্ষা,
সত্য রহে সতীত্ব্যের সৎ সভারে ।
আজ ,কাল ,পরশু অন্যদিন যাবো তোমার দ্বার প্রান্তে ,
নিশ্চয়ই নিশ্চিত এক মহা অনুষ্টানে!
সাক্ষাৎ করবো দুজন বিস্বস্ত কোনোখানে ,
তোমার উপস্থাপনা রইবে এই মনে।