Home » » আটোয়ারীতে কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য জমজমাট

আটোয়ারীতে কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য জমজমাট

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 14 November, 2019 | 11:05:00 PM

এ রায়হান চৌধূরী রকি, আটোয়ারী প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য দেদারছে চলছে। চলমান জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা উপলক্ষে সারাদেশে সকল প্রকার কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হলেও এখানে ওই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে এক শ্রেণীর শিক্ষক তাদের প্রাইভেট বানিজ্যের পাশাপাশি কোচিং বানিজ্য চালিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার ( ১৪ নভেম্বর) সকালে সরেজমিন উপজেলা সদরে অবস্থিত ফকিরগঞ্জ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র) উপস্থিত হলে দেখা যায় ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আজাহারুল ইসলাম একই সাথে পাশাপাশি দু‘টি কক্ষে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাইভেট বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সময় আটোয়ারী সরকারী পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে (জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র) গেলে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক শচীন্দ্র নাথ ঝাঁ, মোঃ আঃ সালাম ও মোঃ হাসান আলী পৃথক পৃথক কক্ষে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাইভেট বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, প্রাইভেট ও কোচিং বানিজ্যের মোহে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে স্থায়ী বসবাস ছেড়ে এক শ্রেণীর শিক্ষক উপজেলা সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে কাক ডাকা ভোর হতে শুরু করে প্রায় সকাল ১০টা পর্যন্ত এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সরেজমিন নিউরন কোচিং সেন্টার, আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ ইউনুস আলী, তারা মোহন বর্মন, মোঃ ধজিবুল ইসলাম, মো: নজরুল ইসলাম ও আটোয়ারী সরকারী পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আওয়াল হোসেন, মো: ফারুক হোসেন, মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কাসেম, বড়সিংগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: আবু বক্কর সিদ্দিক, হাজী সাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: শাহিনুর জব্বার শাহিন সহ আরো অনেক শিক্ষকের বাসায় গেলে দেখা যায় একেক জন শিক্ষক একই সাথে ২/৩টি ব্যাচের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী (ছেলে ও মেয়ে) নিয়ে প্রাইভেট বানিজ্য চালিয়ে আসছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিভাবক অভিযোগ করেন, ছেলে ও মেয়েদের পৃথক পৃথক ব্যাচের ব্যবস্থা ছাড়াই প্রাইভেট শিক্ষকগণ স্কুলের ক্লাসে গুরুত্ব না দিয়ে প্রাইভেট ও কোচিং বানিজ্যে অধিক গুরুত্ব দিয়ে খাকেন। কাক ডাকা ভোর হতে শুরু হয়ে আবার বিকেলে ৩-৪টা থেকে শুরু করে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত এই ব্যবসা জমজমাট ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে যেসময় এলাকার পরিবেশ কোলাহল মুক্ত ও রাস্তাঘাট অনেকটা জনশুণ্য ঠিক সেই মুহুত্র্ েশিক্ষার্থীরা প্রাইভেটের নাম করে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে আবার রাতে প্রাইভেট বানিজ্য চলার কারণে প্রাইভেটে ও বাড়ী ফেরার সময় বয়সন্ধিঃ বয়সের শিক্ষার্থীরা অবাধে মেলা-মেশার সুযোগ পায়। এতে শিক্ষার্থীদের বিপথে ধাবিত হওয়ার প্রবনতা লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি আটোয়ারী সরকারী পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী সাদিয়া সামাদ লিসা হত্যার বিষয়টিও কাকডাকা ভোরে শুরু হওয়া এমনকি গভীর রাত অবধি প্রাইভেট ও কোচিং বানিজ্য চলার কারণ হতে পারে বলে অনেকে ধারনা করছেন। এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আঃ লতিফ বলেন- এটা বিধি পরিপন্থি। বিশেষ করে পরীক্ষা চলাকালীন সময় এটা পুরো পুরি নিষেধ। আমাদের শিক্ষকদের এটার কোন সুযোগ নেই। তারপরও কেউ যদি স্কুলে প্রাইভেট পড়িয়ে থাকে তাহলে সেটা বে-আইনী। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে জানাতে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অত:পর জেলা শিক্ষা অফিসার মো: শাহীন আক্তার কে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি জানান, ঘটনাটি দু:খ জনক, আমি শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করে দিয়েছি। পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সার্বিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসান(অ:দা:) কে জানালে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না, যেহেতু জানলাম অবশ্যই তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিব। এলাকার অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, উপজেলায় চলমান প্রাইভেট ও কোচিং ব্যবসার কারনে বিদ্যালয় ভিত্তিক পড়ালেখা মূখ থুবরে পড়তে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে গরীব শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ অবস্থা হতে উত্তরনের জন্য সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনাকরছেন এলাকাবাসী।