Home » » বদরগঞ্জে আগাছা নাশক ভুলভাল ওষুধ প্রয়োগে পুড়ে গেছে কৃষকের ধানক্ষেত

বদরগঞ্জে আগাছা নাশক ভুলভাল ওষুধ প্রয়োগে পুড়ে গেছে কৃষকের ধানক্ষেত

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 02 September, 2019 | 12:30:00 AM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধ,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে কীটনাশক ব্যবসায়ীর ভুল পরামর্শক্রমে জমিতে আগাছা নাশক ওষুধ প্রয়োগ করায় নিমিশেই পুড়ে গেছে কৃষকের ধানক্ষেত। উপজেলার বিঞ্চুপুর ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যপারে ভুক্তভোগী কৃষক ফারুক হোসেন গতকাল রবিবার পুড়ে যাওয়া ফসলের ক্ষতিপুরন চেয়ে পৌর বাজারে অবস্থিত মেসার্স মোর্শেদ সার বিতানের মালিকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বিঞ্চুপুর ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ চাঁদনি পাড়ার কৃষক ফারুক হোসেন (৪৮) চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে উন্নত জাতের আমন ধানের চারাগাছ রোপন করেন। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে জমিতে আগাছা ভরে গেলে তিনি বদরগঞ্জ পৌর বাজারের মেসার্স মোর্শেদ সার বিতানে গিয়ে আগাছা দমনের জন্য ভাল ওষুধের খোঁজ করেন। এ সময় সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী ঈমান আলী তাকে প্যারাটক নামক একটি ওষুধের শিশি হাতে ধরিয়ে দিয়ে তা জমিতে প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু গত শুক্রবার কীটনাশক ব্যবসায়ীর ভুল পরামর্শে ধানীয় জমিতে প্রয়োগের অনুপযোগী ওষুধ প্রয়োগ করার ফলে কৃষক ফারুক হোসেনের আমন ক্ষেতের চারাগাছ সমুলে পুড়ে যায়। এই ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী কৃষক পুনরায় সারের দোকানে গেলে সার ব্যবসায়ী সহজসরল কৃষককে পুড়ে যাওয়া ক্ষেতে নাটিভো ও ডায়াথন নামে ওষুধ স্প্রে করার পরামর্শ দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে ধান ক্ষেতের সমস্ত চারাগাছ পুড়ে হলুদ ও লালচে বর্ণ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে কৃষক ফারুক হোসেন ধানক্ষেত পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপুরন চেয়ে কীটনাশ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। মেসার্স মোর্শেদ সার বিতানের মালিক অভিযুক্ত ঈমান আলী সাংবাদিকদের বলেন, কৃষক ফারুক হোসেন আমার দোকান থেকে আগাছা নাশক ওষুধ কিনেছেন কিনা বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার অজান্তে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটতেও পারে। তাই ভুক্তভোগী কৃষক ওই জমিতে নাটিভো ও ডায়াথন নামক ওষুধ প্রয়োগ করলে আশা করি ভাল ফসল হবে। এছাড়া তিনি আমার বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগ করে লাভ হবেনা। কারণ আমার দোকানের লাইসেন্স আছে। উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম মোস্তফা মোঃ জোবাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শোনার পর তাৎক্ষনিক ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের ধানক্ষেতের বাস্তব অবস্থা দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বিএসকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দেখি তিনি কি রিপোর্ট করেন। কৃষি অফিসার আরো বলেন, ধান ক্ষেতের আগাছা নাশক ওষুধের পরিবর্তে কোন কীটনাশক ব্যবসায়ী যদি কৃষকদের ভুলভাল ওষুধ দেয় তাহলে আমার পক্ষ থেকে ওই কীটনাশক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ইউএনও স্যারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ রইলো।