Home » » পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন শুরু ॥ রেলমন্ত্রীর পরিদর্শন

পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন শুরু ॥ রেলমন্ত্রীর পরিদর্শন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 14 September, 2019 | 11:25:00 PM

বদরুদ্দোজা বুলু পার্বতীপুর প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : দীর্ঘ ৫ মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল শনিবার সকাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে পুনরায় পাথর উত্তোলন শুরু হয়েছে। গত ৩ এপ্রিল খনির পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত গিয়ার বক্সের পিনিয়াম নষ্ট হলে বন্ধ হয়ে যায় পাথর উত্তোলন। গত ৯ সেপ্টেম্বর চীন থেকে আমদানীকৃত গিয়ার বক্সের পিনিয়াম দিয়ে ত্রুটি সারানো হলে আজ শনিবার সকাল থেকে পূনরায় তিন শিফটে পাথর উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছ্ েবলে জানান খনি কর্তৃপক্ষ। এ উপলক্ষে শনিবার সকাল ১০টায় মধ্যপাড়া পাথরখনি পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন এমপি। পরিদর্শন শেষে পাথর খনি উর্দ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে বাংলাদেশ রেলপথে মধ্যপাড়ার পাথর পরিবহন ও ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন মন্ত্রী। পরিদর্শনে তার সাথে ছিলেন রেলপথ মন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ মোফাজ্জাল হোসেন, রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) এম সামসুজ্জামান, যুগ্ম মহাপরিচালক (জেডিজি) মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী ও রেলের পশ্চিমযোনের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) হারুন-অর রশিদ। পাথর খনির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো: ফজলুর রহমান, মহাব্যবস্থাপক (খনি ও পরিচালনা) আবু তালেব ফারাজী, খনির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মাানীয়া-ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)’র চেয়ারম্যান ড. সিরাজুল ইসলাম কাজী, নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাবেদ সিদ্দিকী ও খনি বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার মাল্টসু প্রমূখ। পরে রেলমন্ত্রী খনির ভূগর্ভ ও উৎপাদনের বিভিন্ন দিক ঘুরে ঘরে দেখেন। খনি কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পেট্রোালিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)’র সাথে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা চুক্তি হয় বেলারুশের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) সাথে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী খনির দায়িত্ব গ্রহন করে এবং ২৪ ফেব্রয়ারী উৎপাদনে যায়। দায়িত্ব গ্রহনের ৬ মাসের মধ্যে তিন শিফটে উৎপাদন শুরু করে। এসময় উৎপাদন হতে থাকে প্রতিদিন ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাজার মে. টন পাথর। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ সময়মত খনির অতি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও খনির উন্নয়ন ডিজাইন সরবরাহ করতে না পারায় ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২ বছর পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকে। খনি সূত্রে বলা হয়েছে, গত ২০০৭ সালে খনি বাস্তবায়নকারী উত্তর কোরীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নামনাম দৈনিক তিন শিফটে ৫ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করে এর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু প্রায় ৭ বছর ধরে তিন শিফটে পাথর উত্তোলনের কার্যক্রম শুরুই করতে পারেনি এ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। ফলে খনিটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে বন্ধের উপক্রম হয়।