Home » » কিশোরগঞ্জে ড্রাগন ফল চাষ করে স্বাবলম্বী অমল রায়

কিশোরগঞ্জে ড্রাগন ফল চাষ করে স্বাবলম্বী অমল রায়

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 22 August, 2019 | 10:42:00 PM

মিজানুর রহমান কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : ড্রাগন ফল চাষ করে অর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন অমল রায়। দারিদ্রের কষাঘাতে এক সময় যিনি জর্জরিত হয়ে পড়েছিলে তিনি এখন অর্ধ্ব কোটি টাকার মালিক। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা বগুলাগাড়ী গ্রামের মনমোহন রায়ের দ্বিতীয় পুত্র অমল রায় পিতার অভাব অটানের সংসারে বেশিদুর পড়ালেখা করতে পারেনি। ১৯৯২ সালে এসএসসি পাশ করে সংসারের হাল ধরেন। এরেই মধ্যে বড়ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। সংসারের ঘানির জোয়াল টানতে টানতে হাপিয়ে পড়েন এক সময়। এসময় তার এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি নাটোরের কৃষি গভেষণা কেন্দ্র থেকে ১০০পিচ ড্রাগন ফলের চারা সংগ্রহ করে ২০শতাংশ জমিতে লাগান। চারা লাগানোর ১৮ মাস পর পাতায় পাতায় ফল ধরতে শুরু করে। ড্রাগন এফলের স্বাদ ও উপকারিতা সর্ম্পকে এলাকার লোকজন না জানায় তিনি পড়েন মহাবিপাকে। প্রথম মত্তসুমের উৎপাদিত ফল নিয়ে তিনি বড়বড় শহরে গিয়ে ফেরি করে বিক্রি করেন। এমনকি অনেককে বিনাপয়সায়ও দিতে হয়েছে। কিন্তু এখন মত্তসুরে শুরুতে ব্যবসায়ীরা তার বাড়ীতে এসে ড্রাগন ফলের জন্য অগ্রীম টাকা রায়না করে যায়। গত বুধবার বিকালে চাঁদখানা বগুলাগাড়ী গ্রামে ড্রাগন ফলের বাগান দেখতে গেলে এসময় অমল রায়ের সাথে বিস্তারিত কথা হয়। অমল রায় জানান, এফলের মত্তসুম হচ্ছে চৈত্রিমাস থেকে অগ্রাহয়ন পর্যন্ত। ফুল থেকে ফল পাঁকা পর্যন্ত সময় লাগে দু মাস। একটি মত্তসুমে তিনি ৫ থেকে ৬ বার ফল কাটতে পারেন। চলতি মত্তসুমে তার বাগানে থেকে এ পর্যন্ত তিনি ৭ মন ফল বিক্রি করেছে ৮৪ হাজার টাকা। আরও ৭মন ফল উৎপাদন হবে বলেন তিনি আশাবাদি। সর্ব্বেপরি মত্তসুমে তিনি প্রতিকেজি ড্রাগন ৫০০টাকা কেজি দর হিসেবে ১লাখ ৬০হাজার থেকে ১লাখ ৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রি কববেন। এছাড়াও তিনি মায়ানমারের লাল কলার পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেছেন। উৎপাদন ও ভালো দাম পেলে তিনি এটিও চাষ করবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন অমল চন্দ্র একজন ভালো চাষি। তিনি তার ড্রাগন ফল চাষের বিষয়ে প্রায়ই পরামর্শ নিতে আসেন। এই ফলে মিনাবেল জাতীয় পর্দাথ আছে। এটি খেতে খুবই সুস্বাধু।