Home » » ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী

ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 02 August, 2019 | 12:43:00 AM

আজম রেহমান,ঠাকুরগাঁও ব্যুরো,চিলাহাটি ওয়েব : ঠাকুরগাঁওয়ে বুধবার দুপুর পর্যন্ত একজন ডাক্তারসহ ১০ ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করেছে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ জন আর বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৭ জন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা, তবে এখনো ঠাকুরগাওয়ে আক্রান্ত হয়েছে এমন কোনো রোগী পাওয়া যায়নি, আক্রান্তদের সকলে ঢাকা থেকে এলাকায় আসা। সদর হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা চালু হলেও লোকবলের অভাবে বিঘœ হচ্ছে চিকিৎসা। সর্বশেষ একজন ডাক্তার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আসছে ঈদে ঢাকা থেকে আসা লোকজন বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশংকা করছেন কেউ কেউ। জেলায় ডেঙ্গু নিয়ে নানা আতংক চালু থাকলেও সেটা প্রকট হয় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে যখন ঠাকুরগাঁওয়ের ছেলে ফিরোজ কবির স্বাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত লাশ হয়ে ফেরত আসলো। ফিরোজের লাশ ঠাকুরগাঁও এলে শোকের সাথে ডেঙ্গু আতংকও দানা বাঁধতে থাকে। সোমবার পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যেখানে ৬ ছিল মঙ্গলবার সে সংখ্যা বেড়ে এক লাফে ১০ জনে দাঁড়ায়, আরো কয়েক জনকে সম্ভাব্য ডেঙ্গু রোগী হিসেবে সন্দেহ করছেন ডাক্তাররা, তাদের রিপোর্ট এলে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তারা জানান। এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ঠাকুরগাঁও সূর্যের হাসি ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রেজওয়ানা রমজান রিমপী। রিমপীর অবস্থা অন্য সব রোগীদের চাইতে একটু খারাপ এটা নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ তোজাম্মেল হক। হাসপাতালে কেবিন না পেয়ে তিনি একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন গতকাল রাতে। রিমপী টেলিফোনে জানান, ২০/২৫ দিন কাজের কারণে ঢাকার বেইলি রোডে অবস্থানকালীন তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এদিকে সদর হাসপাতালে গতকাল রাতে আরো নতুন যারা ভর্তি হন, তারা হলেন, সদর থানার মুজাবান্নি প্রধান পাড়ার আব্দুস সালাম(২৬) যিনি নারায়নগঞ্জে একটি রি রোলিং মিলের শ্রমিক, সদর উপজেলার পাটিয়াডাঙ্গী গ্রামের রানা(৩৩) যিনি বঙ্গবন্ধু হাসপাতালের আনসারের চাকুরিরত অবস্থায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এছাড়া ভর্তি হন টঙ্গীর গার্মেন্টস শ্রমিক আশরাফুল (২৩), তার গ্রামের বাড়ি আটোয়ারি। আগে থেকেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীরা হলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উত্তর বঠিনা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সুমি আক্তার(২৪),পীরগঞ্জ উপজেলার ভবেশ রায়ের ছেলে ঢাকায় টেইলারিং কারিগর স্বপন রায়(২১), পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে গাজীপুরের টেক্সটাইল শ্রমিক পাইলট(২০)। চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে যাওয়া রোগীরা হলেন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের দমিজুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম(১৯),সদর উপজেলার ফকদনপুর গ্রামের রতিশ বর্মনের ছেলে শহর বর্মন(১৯) ও দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ এলাকার খাইরুল ইসলামের ছেলে রুবেল (৩০) । হাসপাতালের ফিমেইল মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ঢাকার ডেফোডিল বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমি আক্তার বললেন, এ হাসপাতালে চিকিৎসা এবং বেডগুলো ভালো হলেও চরম নোংরা হওয়ায় বাথরুমে যাওয়া যায় না, ওয়ার্র্ডের মেঝেতেও বাথরুমের পানি এসে ভরে যায়। একই অভিযোগ অন্য রোগীদের ক্ষেত্রেও। হাসপাতালের সুপারেনটেন্ডেন্ট ডাঃ প্রভাস কুমার এ ব্যাপারে দায়ি করলেন লোকবলের সমস্যাকে । সিভিল সার্জন জানালেন, আগে সে ব্যবস্থা না থাকলেও মঙ্গলবার থেকে সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষাগুলো করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ডেঙ্গু রোগী যেন ঢাকা থেকে এতো লম্বা জার্নি না করেন, সে ব্যাপারে ডেঙ্গু রোগীদের পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও বর্তমানে জেলায় ডেঙ্গুর প্রধান চিকিৎসক ডাঃ তোজাম্মেল হক বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে এডিস মশা আছে , তবে তা ডেঙ্গু আক্রান্ত নয়। আগামী ঈদে প্রতিবারের মতো ২০/৩০ হাজার মানুষ যদি ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও ফেরৎ আসেন তবে ডেঙ্গুর এই স্থিতিশীল পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়তে পারে বলে আশংকা করলেন এই বিশেষজ্ঞ। তবে তিনি নিজে সহ সে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য হাসপাতালের ডাক্তার নার্সসহ সকল কর্মচারির ঈদ ছুটি বন্ধ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে জেলা প্রশাসক ড. এবিএম কামরুজ্জামান সেলিম ইতিমধ্যেই হাসপাতাল পরিদর্শন করে পৌরসভা কর্মচারি কর্মকর্তাদের ধর্মঘটের মুখেও বিশেষ ব্যবস্থায় বুধবার হাসপাতালের আশপাশের ড্রেনগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় মশা নিধনের ওষুধ দেয়ার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করেছেন বলে জানালেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে সবকিছু স্বত্বেও ঈদের বাড়ি ফেরার বাঁধভাঙ্গা উচ্ছাস কোনোভাবেই ডেঙ্গু আতংক কেড়ে নিতে পারবে না, সেটাই আশা করছে ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষ।