Home » » বাঁশের সাঁকোই ১০ গ্রামের মানুষের আশার আলো

বাঁশের সাঁকোই ১০ গ্রামের মানুষের আশার আলো

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 17 July, 2019 | 6:14:00 PM

দেলোয়ার হোসেন বাদশা,চিরিরবন্দর প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও দিনাজপুররের চিরিরবন্দর উপজেলার রাণীরবন্দর নশরতপুর ইউনিয়নের নশরতপুর ঈদগাহ্ মাঠ সংলগ্ন ইছামতি নদীর উপর ব্রীজ তৈরী না হওয়ায় ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থ্যার ভোগান্তি লাঘবে স্থানীয় জনগন ওই নদীর উপরে বাঁশের সাঁকো তৈরী করে চলাচল করতো। কিন্তু সেটি ঝড়ে ভেঙ্গে পড়ায় চলাচল বন্ধ হলে চরম বিপাকে পড়ে এলাকাবাসী। এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই কালবৈশাখীর তান্ডবে হঠাৎ পুরোনো সাঁকোটি ভেঙে গেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ায় দুর্ভোগ দূর করতে স্থানীয় গছাহার গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে গত এক সপ্তাহ ধরে এলাকাবাসী বাঁশ, অর্থসহ শ্রম দিয়ে ওইস্থানে বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেন। গ্রামবাসীর উদ্যোগে নির্মিত প্রায় ৭০ ফুট দীর্ঘ এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে ১০ গ্রামের মানুষ চলাচল, কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে ও হাটবাজারে নিতো। ইছামতি নদীর পশ্চিমপাড়ে নশরতপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলার সবচেয়ে বড় হাট রাণীরবন্দরহাট।
ওপারে আলোকডিহি, গছাহার, চকগোবিন্দ, দক্ষিণ পলাশবাড়ি, খানসামা উপজেলার দুবলিয়া, গোয়ালডিহি, লালদিঘী এবং নীলফামারী সদরের বড়–য়া গ্রাম। সাঁকো তৈরি বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছত্রধর দাস (৬৮) বলেন, এখানকার সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদেরকে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটারের মতো এলাকা ঘুরে রাণীরবন্দরে যাতায়াত করতে হয়।
অথচ সাঁকোটি তৈরি হলে কোমলমতি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীসহ অসুস্থ মানুষ ও বৃদ্ধদের বেশী উপকার হবে। তিনি আরো জানান, সাঁকোটি তৈরিতে বাঁশসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় ও শ্রমিকদের মজুরিসহ প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে চাইল্ড কেয়ার স্কুল কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় লোকজন আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া গ্রামের প্রতিটি পরিবার সাধ্যমতো সাঁকো তৈরির কাজে বিনা পয়সায় বাঁশ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।
বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে ৮জন শ্রমিক বাঁশ সংগ্রহের কাজ করেন। সাঁকো তৈরিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা এ কাজের দেখভাল করছেন। সাঁকো তৈরির সময় নদীর পাড়ে ছিলেন গছাহার গ্রামের ও চাইল্ড কেয়ার স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র নাহিদ রানা সাগর। সে জানায়, নদীর পশ্চিমপাড়ে রাণীরবন্দর এন আই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ওয়েসিস স্কুল, চাইল্ড কেয়ার স্কুল, রাণীরবন্দরহাট, রাণীরবন্দর পোষ্ট অফিস, রাণীরবন্দর মহিলা কলেজ, নশরতপুর রহমানিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসা, রাণীরবন্দর দারুল ইসলাম আলিম মাদরাসা ও রাণীরবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। নদীর পূর্বপাড়ের বিভিন্ন গ্রামের ছেলেমেয়েরা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে।