Home » » তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপড়ে পানিবন্দি ৫ হাজার পরিবার

তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপড়ে পানিবন্দি ৫ হাজার পরিবার

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 11 July, 2019 | 11:18:00 PM

এম এ মোমেন, নীলফামারী ব্যুরো,চিলাহাটি ওয়েব : উজানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃস্পতিবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেলা ১২টা থেকে তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে নদীর বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। তিন ঘন্টার ব্যাবধানে আরো ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বেলা ৩টা থেকে ২০ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে নদীর বিপদসীমা ৫২ মিটার ৬০ সেন্টিমিটার। তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর র্তীরবর্তী নীলফামারী জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি চরগ্রামের পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ। পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পুর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানা যায়,‘উজানে বৃস্টি আর পাহাড়ী ঢলে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। যা সকাল ৬টায় তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীরা দুই সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রাবহিত হয়। সকাল ৯টায় দুই সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমা বরাবর প্রবাহিত হলেও বেলা ১২টা থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিকাল ৩টা থেকে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’ তিস্তার পানি বৃদ্ধি হয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর র্তীরবর্তী নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই,খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ১৫টি চরগ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব গ্রামের পাঁচ সহ¯্রাধিক পরিবার হাঁটু সমান পানিতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খাঁন বলেন, ‘বুধবার দিবাগত রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। যা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেরস্বর ও পুর্ব ছাতনাই মৌজার প্রায় নয় শত পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করতে থাকে। দুপুরের দিকে এসব পরিবারগুলোর বাড়ি ঘরে হাঁটু সমান পানিতে পানিবন্দী হয়ে পড়ে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পনিবন্দী মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসতে বলা হচ্ছে। একই উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দুইটি মৌজা চরখড়িবাড়ি ও পূর্বখড়িবাড়ি মৌজা প্লাবিত হয়ে দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি যে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে যে কোন সময় চরখড়িবাড়ি মৌজায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত দুই কিলোমিটারের বালুর বাঁধটি হুমকির মুখে পুড়েছে। যে কোন সময় বাঁধটি বিধ্বস্ত হয়ে অনেক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।’ খালিশা চাপনী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ইউনিয়নের ছোটখাতা ও বাইশপুকুর গ্রামের প্রায় সারে চার শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হোসেইন বলেন, বৃহস্পতিবার তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিয়নের হলদিবাড়ি ও ভবনচুর গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বিকাল পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত ছিল বলে জানান তিনি। পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,‘ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বেলা ১২টায় বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। তিনটায় ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সব কয়টি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছারা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধের দুর্বল স্থানগুলো শক্তিশালী করণে জরুরী রক্ষণা বেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে।