Home » » ঘূর্ণিঝড় ফণীর জন্য বিপুল প্রস্তুতি ভারত, বাংলাদেশে

ঘূর্ণিঝড় ফণীর জন্য বিপুল প্রস্তুতি ভারত, বাংলাদেশে

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 02 May, 2019 | 1:32:00 PM

চিলাহাটি ওয়েব,ঢাকা অফিস : ভারতীয় আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস ঠিক থাকলে, ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার বাতাসের শক্তি হাজার কিলোমিটার ব্যাসের বিস্তার নিয়ে এ ঝড় শুক্রবার দুপুর নাগাদ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। উত্তরমুখী গতিপথ ধরে রাখলে কিছুটা দুর্বল হয়ে শনিবার সকাল নাগাদ ফণী হানা দিতে পারে বাংলাদেশের সীমানায়। যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল ফণীর তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেখানে দশ কোটির বেশি মানুষের বসবাস। ফলে দুর্যোগ মোকাবিলায় বুধবার থেকেই বিপুল প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারত ও বাংলাদেশ সরকার। বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী ভারতীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বেশ কিছু জেলায় জারি করা হয়েছে সতর্কতা। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরও সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে।
অবস্থান : পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসারে অবস্থানরত ঘুর্ণিঝড় ফণী অনুমিতভাবেই বুধবার ভারতের অন্ধ্র উপকূলের কাছাকাছি এসে সামান্য দিক বদলে উত্তর দিকে যাত্রা শুরু করেছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় এ ঝড় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ১২০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ১১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১০৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১০৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
শক্তি : ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আঘাত হানবে কখন : বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ঘণ্টায় মোটামুটি ৬ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছিল ঘূর্ণিঝড় ফণী। ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরের পর পুরীর কাছে গোপালপুর ও চাঁদবালির মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে এ ঝড়। আর বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস বলছে, বর্তমান গতিপথ অব্যাহত থাকলে ভারতের ওড়িশায় আঘাত হানার পর পশ্চিমবঙ্গ হয়ে শনিবার সকালে বাংলাদেশে আসতে পারে ফণী। কিন্তু গতিপথ বদলে সমুদ্রের কোলঘেঁষে সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানলে এ ঝড় খুলনা, মোংলা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
সংকেত : ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ফণী আরও এগিয়ে এলে বৃহস্পতিবার দেশে বিপদ সংকেত জারি করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস : গত এক সপ্তাহ ধরে আশপাশের আকাশ থেকে মেঘ টেনে নেওয়া ফণী উপকূলে হাজির হবে প্রবল বৃষ্টি নিয়ে। তখন ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ উপকূলের নিচু এলাকা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। 

সূত্র : বিডিনিউজ