Home » » আরও ১৫ নতুন ট্রেন শিগগিরই চালু হচ্ছে

আরও ১৫ নতুন ট্রেন শিগগিরই চালু হচ্ছে

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 07 May, 2019 | 12:00:00 PM

চিলাহাটি ওয়েব,ঢাকা অফিস : রেলের উন্নয়নে নতুন ট্রেন ও বিশেষ অ্যাপ চালুসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরে ২২০টি অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করা হবে। এসব কোচ দ্বারা ১৫টি নতুন ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য ভারত থেকে ২০টি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হচ্ছে। রেলের লোকবল আর ইঞ্জিন স্বল্পতার মধ্যেও সর্বোচ্চ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছেন রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, ‘শুধু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, নতুন ট্রেন চালুসহ যাত্রীসেবা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব কাজ করতে চাই।’
রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) শামছুজ্জামান জানান, রেলওয়েতে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নতুন রেলপথ নির্মাণসহ বহু যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩০টি অত্যাধুনিক ব্রডগেজ ইঞ্জিন আনা হয়েছে।
এ বছরে আরও ২০টি ব্রডগেজ ও ২০০টি মিটারগেজ কোচ রেলওয়ে বহরে যুক্ত হচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যে অন্তত ১৫টি নতুন ট্রেন চালুর নির্দেশনা রয়েছে রেলপথমন্ত্রীর। সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে ২০টি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হচ্ছে। এসব ইঞ্জিন দ্বারা নতুন ট্রেন চালানো হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ভারতের রেলওয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব ইঞ্জিন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইঞ্জিনপ্রতি প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা ভাড়া হতে পারে জানিয়ে শামছুজ্জামান আরও জানান, পৃথিবীর অনেক দেশে ইঞ্জিন ভাড়া দেয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। দু’দেশের সরকার পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। ইঞ্জিনগুলো বিনা ভাড়ায় পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে কাক্সিক্ষত ইঞ্জিনগুলো দেশে চলে এলে ভারতীয় ইঞ্জিনগুলো ফেরত দেয়া হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা-পঞ্চগড়, ঢাকা-বেনাপোল রুটে অত্যাধুনিক দুটি দ্রুতগতির নতুন ট্রেন চালানো হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-সিলেট, সিলেট-চট্টগ্রাম, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আরও তিনটি নতুন ট্রেন চালানো হবে। চলতি বছরে জামালপুরবাসীর জন্য আরও চারটি নতুন ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন ট্রেনগুলো বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশন, তারাকান্দি, সরিষাবাড়ি, জামালপুর ও ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা যাবে।
আবার ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, সরিষাবাড়ি, তারাকান্দি হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনে যাবে। এছাড়া ঢাকার আশপাশের জেলার সঙ্গে স্বল্প দূরত্বের বেশ কয়েকটি নতুন ট্রেন চালু করা হবে। ২০০টি মিটারগেজ কোচ রেলবহরে যুক্ত হলে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের পুরনো ও জরাজীর্ণ কোচ পাল্টে আধুনিকায়ন করা হবে।
‘২৫০ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ’ প্রকল্প পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ চিলাহাটি ওয়েব ডটকমকে জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ৫০টি যাত্রীবাহী কোচের মধ্যে ৩৩টি চলে এসেছে। বাকি ১৭টি কোচ এ মাসের ১৫ তারিখে রেলওয়ে বহরে যুক্ত হবে। এ কোচগুলো নিয়ে অন্তত তিনটি নতুন ট্রেন চালানো যাবে। অপরদিকে ২০০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী বগির চালান জুন থেকে আসা শুরু করবে। সব মিলিয়ে চলতি বছরের মধ্যে সব কোচ রেলবহরে যুক্ত হবে। তিনি বলেন, আরামদায়ক এসব কোচ দ্বারা নতুন ট্রেন চালানোর পাশাপাশি পুরনো বগিগুলো পরিবর্তন করা হবে। রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, রেলওয়েতে ইঞ্জিন সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। চলমান ট্রেনগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন দ্বারা চালাতে গিয়ে সিডিউল ঠিক রাখা যাচ্ছে না। প্রায় সময় চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ছে। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারত থেকে ২০টি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হচ্ছে। রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের ২ হাজার ৯২৯ কিলোমিটার রেলপথে মাত্র ২৭৩টি ইঞ্জিন দিয়ে ৩৫২টি যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনা করা হয়। এসব ইঞ্জিনের ২০ বছরের আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধশত বছরের পুরনো ইঞ্জিনও রয়েছে।
সূত্র জানায়, ১৯৬১ সালে আমেরিকা থেকে ২২শ সিরিজের (এমইজি-৯) ১১টি, ১৯৬৯ সালে কানাডা থেকে ২৩শ সিরিজের (এমইএম-১৪) ৮টি, কানাডা থেকে ১৯৭৮ সালে ২৪শ সিরিজের (এমইএম-১৪) ৯টি এবং ১৯৮১ সালে হাঙ্গেরি থেকে ৩৩শ সিরিজের (এমএইচজেড-৮) তিনটি ইঞ্জিন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের জন্য আনা হয়। হাঙ্গেরি থেকে আনা তিনটির আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ হয়েছে। এ তিনটি ইঞ্জিনের মেয়াদ ফুরিয়েছে ১৪ বছর আগে। এ পুরনো ইঞ্জিন দিয়ে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনের গতি যথাযথভাবে বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিয়াজাহান  জানান, সম্প্রতি ঢাকা-রাজশাহী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলে আরও দুটি অত্যাধুনিক নতুন ট্রেন চালু করা হবে। রেলওয়েতে দিন দিন যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৮ সালে যাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ কোটি। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ফলে নতুন ট্রেন এবং চলমান ট্রেনগুলোয় কোচ বাড়ানোর বিকল্প নেই। যাত্রীসেবা বৃদ্ধি ও চাহিদা পূরণে বুলেট ও ইলেকট্রিক ট্রেন চালুরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মিয়াজাহান আরও জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা/লাকসাম দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন’ শীর্ষক একটি সমীক্ষা প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-খুলনা ও ঈশ্বরদী-রাজশাহী রুটে এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ও জয়দেবপুর-টাঙ্গাইলে এলিভেটেড রেলওয়ে নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ফলে রেলওয়ে বহরে কোচ যুক্ত হলে নতুন ট্রেন চালানো শুরু হবে। কোনো কোচ যাতে পড়ে না থাকে, সেজন্যই ভারত থেকে ভাড়া করে ২০টি ইঞ্জিন আনা হচ্ছে।
রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন জানান, বাংলাদেশ রেল হবে উন্নত দেশের রেলের মতো। এজন্য যা যা করণীয়, তা আমরা করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছি। চলতি বছরে আমাদের হাতে পর্যাপ্ত যাত্রীবাহী কোচ চলে আসবে। এসব কোচ দিয়ে অন্তত ১৫টি নতুন ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমি কাজ করতে চাই, ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। এজন্য সবার সহযোগিতাও চাই। চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং ৩০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্লান বাস্তবায়ন হলে রেলে আমূল পরিবর্তন আসবে।