Home » » জন্মস্থানে শেষকৃত্য হওয়ার ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে না সুবীর নন্দী’র

জন্মস্থানে শেষকৃত্য হওয়ার ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে না সুবীর নন্দী’র

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 08 May, 2019 | 12:08:00 AM

চিলাহাটি ওয়েব,ঢাকা অফিস : একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী’র শেষ ইচ্ছা ছিল তার মৃত্যুর পর শেষকৃত্যটা যেন হয় জন্মভূমি হবিগঞ্জে। 
সম্প্রতি হবিগঞ্জ জালাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসবে অতিথি হিসেবে বক্তৃতা কালে এই ইচ্ছার কথা তিনি বলেছিলেন। কিন্তু তার সেই ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে না। ঢাকাতেই তার শেষকৃত্য হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে- সুবীর নন্দীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে হবিগঞ্জে। সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সকল শ্রেণি-পেশার লোকজন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের শোক প্রকাশ করছেন। হবিগঞ্জের সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে তার মৃত্যু নিয়ে।
হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট  আবু জাহির বলেছেন, সুবীর নন্দী ছিলেন হবিগঞ্জ জেলার তথা সারা দেশের গর্ব। তার মৃত্যুতে হবিগঞ্জের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, হবিগঞ্জবাসী যখন আমাকে উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য সর্বদলীয় নাগরিক সংবর্ধনা দেয়; সেখানেও তিনি অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে আমার কর্মকান্ডের প্রসংশা করেছিলেন। তিনি আমাকে কর্মবীর বলে সম্বোধন করেছিলেন। আমি তার এই প্রসংসায় উজ্জীবিত হয়েছিলাম।
সুবীর নন্দীর শিক্ষক সরকারি বৃন্দাবন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নিখিল ভট্টাচার্য্য বলেন, আমি আজ বিষণ্ণ। আমার সুবীর আর নেই। এই খবর যেন বিশ্বাসই হতে চায় না। আমি তার এই মৃত্যু সহ্য করতে পারছি না। আমি যখন কলেজে হিসাব বিজ্ঞান পড়াতাম, সুবীর তা বুঝতো না বলে আমি ধমক দিতাম। সে তখন শুধু হাসতো। সুবীর অত্যন্ত অমায়িক ছিল এবং গান দিয়ে কলেজকে মাতিয়ে তুলতো। সবাই তাকে ভালবাসে। তিনি আরো বলেন, সুবীরের বাবা হবিগঞ্জে বাসা বিক্রি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার শেষ ইচ্ছা ছিল জীবনের শেষ সময়ে হবিগঞ্জে বসবাস করা। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারি জায়গার পাওয়ার চেষ্টা করতেও বলেছিলাম আমি।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ বলেন, সুবীর নন্দী ছিলেন নিরহংকার এবং অমায়িক মানুষ। তিনি ছিলেন সঙ্গীত ভূবনে উজ্জ্বল নক্ষত্র। আমরা যখন কোনও প্রোগ্রামের জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানাতাম, তিনি অত্যন্ত খুশী মনে তা গ্রহণ করতেন। তার মৃত্যুতে জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। জেলা প্রশাসন থেকে সরকারি জায়গার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে তার একটি ইচ্ছা ছিল পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করা। আমরা সেই লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি।
হবিগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সুবীর নন্দী হবিগঞ্জের সুর বিতানে উস্তাদ বাবর আলীর কাছ থেকে গান শিখেছিল। আমরা যখন ছাত্র আন্দোলনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতাম, তখন সেখানে সে গান গাইতো। সে ছিল অত্যন্ত প্রগতিশীল। সংস্কৃতি পরিবারে তার জন্ম। হবিগঞ্জের সাথে সবসময় ওতোপ্রতোভাবে জড়িত ছিল। হবিগঞ্জের সাংস্কৃতিক জগতের উন্নয়নে সে চিন্তা ভাবনা করতো। পৈত্রিক সম্পত্তি না থাকায় শেষ জীবনে একটি বাসা করার জন্য চেষ্টা করলেও তার সেই চেষ্টা পূরণ হয়নি।