Home » » সিএনএসের কারসাজি : ঈদের আগে ভোগান্তিতে রেলযাত্রীরা

সিএনএসের কারসাজি : ঈদের আগে ভোগান্তিতে রেলযাত্রীরা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 22 May, 2019 | 4:07:00 PM

চিলাহাটি ওয়েব,ঢাকা অফিস : এবার ঈদযাত্রায় যাত্রীদের সুবিধার্তে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক স্টেশন থেকে টিকিট ক্রয়ের সুবিধা এবং অনলাইন থেকে ৫০ শতাংশ টিকিট কাটার সুযোগ। কিন্তু সুযোগ থাকলে কী হবে, গত সোমবার সকাল থেকে রেলের অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইটে ঢোকাই যাচ্ছে না। তাদের সার্ভার ডাউন হয়ে গেছে। এই কাণ্ডের পর ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন যাত্রীরা। সোশ্যাল সাইটে প্রতিবাদ চলছে রেলওয়ের অনলাইন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান 'কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমের (সিএনএস)' বিরুদ্ধে।
সিএনএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। প্রতি ঈদ কিংবা লম্বা কোনো ছুটির আগেই তাদের সার্ভার ডাউন হয়ে যায়। কিন্তু তেলেসমাতি ব্যাপার হলো; সার্ভার ঠিক হওয়ার পর দেখা যায় টিকিট হাওয়া! একই ঘটনা ঘটছে অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে। অনেকে ঢুকতেই পারছেন না অ্যাপে; আর যারা ঢুকতে পারছেন, তারা টিকিট কাটতে পারছেন না। এবার ৫০ শতাংশ টিকিট দেওয়ার কারণে সিএনএসের সাইটে ব্যবহারারীর সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু এত ক্রেতাকে সেবা দেওয়ার মতো সক্ষমতা ওই কম্পানির নেই বলে জানা গেছে। তারপরেও এই অথর্ব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বজায় রেখেছে রেলওয়ে।
নথি থেকে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে টেকনো হ্যাভেনের সঙ্গে অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বিষয়ে রেলওয়ের চুক্তি হয়। যাতে শর্ত ছিল, ৫ বছর পর সব প্রযুক্তি অবকাঠামো এবং যন্ত্রপাতি রেলের কাছে হস্তান্তর এবং রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই ব্যাপারে প্রশিক্ষণ প্রদান। টেকনো হ্যাভেন যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করলেও রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেয়নি। এরপর একই শর্তে সিএনএস-ডেফোডিলসকে যৌথভাবে নিয়োগ দেয় রেল। সর্বশেষ ২০০৭ সালে নিয়োগ পায় সিএনএস। এদের কেউই শর্ত পূরণ করেনি বলে অভিযোগ।
আরও দুঃখজনক ব্যপার হলো, যাত্রীদের এসব ভোগান্তির অভিযোগ জানানোর কোনো জায়গা নেই। গত ২৮ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা 'রেল সেবা' নামক অ্যাপে ৯৯৯ এবং ৩৩৩ কল সেন্টারের নাম্বার দেয়া আছে। কিন্তু ৩৩৩ নম্বরে ফোন করলে দায়িত্বরত এক কর্মী বলেন, সার্ভার ডাউন বা এই জাতীয় অভিযোগ তারা গ্রহণ করেন না। রেল সেবা অ্যাপের এমন ভোগান্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের বিষয়ে কথা বলতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
সিএনএসের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অনেকদিনের। বিশেষ করে নতুন 'রেল সেবা' অ্যাপ নিয়ে যাত্রীদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। প্রয়োজনীয় সুবিধা যুক্ত না করেই স্রেফ লোক দেখানো একটা অ্যাপ লঞ্চ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, তারা অ্যাপটির মাধ্যমে টিকেট ক্রয় করলেও ট্রেনের ছাড়ার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর পাচ্ছেন টিকেট। অনেকেই অভিযোগ করছেন, ঈদের আগে যাত্রীরা যাতে অনলাইনে টিকিট কাটতে না পারেন, সেজন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এসব কারসাজি করা হচ্ছে। এতশত অদক্ষতা দেখিয়েও কোন জাদুবলে সিএনএস বহাল তবিয়তে রেলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে, এমনটাই প্রশ্ন রেলযাত্রীদের।


 সূত্র : কালের কণ্ঠ অনলাইন ২০ মে, ২০১৯ 
www.kalerkantho.com