Home » » কিশোরগঞ্জে ভেড়ভেড়ী মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ বন্ধ

কিশোরগঞ্জে ভেড়ভেড়ী মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ বন্ধ

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 26 April, 2019 | 11:16:00 PM

মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : জমি আছে, বরাদ্দ এসেছে, ঠিকাদার কাজও শুরু করেছিল কিন্তু একটি মহলের স্বার্থের কারণে স্কুলের বহুতল ভবনের কাজ শুরু হচ্ছে না। ঘটনাটি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ভেড়ভেড়ী মাঝাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ভেড়ভেড়ী মাঝাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণের জন্য ১ কোটি ১৫ লক্ষ ৬ শ’ ৪১ টাকা বরাদ্দ এসেছে। ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হলেও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করতে দিচ্ছে না এলাকার কয়েকজন স্বার্থান্বেসী ব্যক্তি। ভবন নির্মানের জায়গায় লে-আউট দেয়া হলে এতে একটি মহল বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী। জানা গেছে, ১৯৪০ সালে একটি আধা পাকা বিল্ডিং স্থাপন করে ১একর ৮৬ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় ভেড়ভেড়ী মাঝাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এরপর গত ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে প্রতিদিন গড় উপস্থিতি ৪৩৯ জন শিক্ষার্থীর। জায়গা সংকুলানের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিফ্ট ১১ শাখায় বিভক্ত করে কোন রকমে পাঠদান চালাচ্ছেন। ফলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৪ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মানের জন্য ১কোটি ১৫লাখ ৬৪১ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিলকিছ বেগম অভিযোগ করে বলেন, এলাকার কয়েকজন শিক্ষাবিরোধী স্বার্থান্বেসী ব্যক্তি খেলার মাঠ রক্ষার নামে ভবন নির্মাণের বিরোধীতা করে মানববন্ধন করাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এটি তাদের ভবণ নির্মান বন্ধের পাঁয়তারা বলে দাবী করেন। ভবনটির কাজ শুরু করা না হলে বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরৎ যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটবে। শিক্ষাথীর অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান- স্কুলের জায়গায় ভবন নির্মানের জন্য ঠিকাদার খনন কাজ শুরু করেছে। কিন্তু একটি মহল মাঠ নষ্ট হওয়ার দাবি করে ভবনের কাজ শুরু করতে দিচ্ছে না বলে তারা দাবি করেন। তারা আরও জানান- ভবনটি হলে মাঠের কোন ক্ষতি হবে না। ভবনটি হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার সুষ্ঠ পরিবেশসহ শিক্ষার মান বাড়বে বলেও তাদের দাবী। অভিভাবক ও এলাকাবাসী ভবনের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের তরিৎ হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। উপজেলা প্রকৌশলী কেরামত আলী নান্নু বলেন,ভবন নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। ঠিকাদার কাজও শুরু করেছিল কিন্তু এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ কারণে ঠিকাদার নির্মাণ সামগ্রীর অন্যান্য মালামাল নিয়ে আসতে চাচ্ছে না। নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে আসলে সেগুলো চুরি যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ঠিকাদার। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগকারীদের ভবণ নির্মাণ বন্ধের বিষয়ে কোন যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাইনি। ভবন নির্মাণ কাজ কোন কারণে বন্ধ হলে বরাদ্দ ফেরত যাবে এবং ওই বিদ্যালয়ে আর কোন ভবন হবে না।