Home » » শিশু হয়ে শিশুর দায়িত্ব

শিশু হয়ে শিশুর দায়িত্ব

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 02 April, 2019 | 12:12:00 AM

বদরুদ্দোজা বুলু, পার্বতীপুর প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : কিছু ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠলে মাঝে মাঝে আবার আমার বিবেকটা উসখুস করতে থাকে। আর সেই ছবি নিয়ে কিছু কথা লিখতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে দ্রুত লিখতে লিখতে যেন কম্পিউটারের কিবোর্ডটের বাটনগুলো ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যায়। কিন্তু তেমন কিছু লিখতে পারি না। কে শেখাবে মানবিক বিপর্যস্ত মানুষের জীবনের না বলা কথা। যারা লিখতে পারে তারা ঘাপটি মেরে বসে থাকে বড় বড় আসন ধরে। তারা নিজেরাও লিখবে না আবার কাউকে লেখা শেখাবে না। কিছু মানুষ আছে অন্যের ভালো চায় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রের শিক্ষক বা ওস্তাদ আছে, তারা মনে করে যদি শিস্য বা ছাত্র কোন এক সময়ে আমার ওস্তাদ বা শিক্ষক যদি হয় ! তখন আত্মসম্মানবোধ হারাতে হতে পারে। ওই সব বোকা রামদের বলছি শোন, বাপ কোনদিন বড় বাপ হতে পারে না। কিন্তু কারো কারো আবার বড় বাপ হয়ে যায়।
কিছু মানুষ আছে তাদের মেধা প্রকাশ করতে চায় না। যারা চায় না তাদের দিয়ে এ সমাজের বা দেশের কি উন্নয়ন ঘটাতে পারে ? অথচ কিছু মেধাবি মানুষ তাদের মেধাকে নিজের কাছেই সীমাবদ্ধ করে রাখে। ভাবেনা আগামী প্রজন্মের কথা। মেধা নিয়ে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নেবার আগে আপনার মেধা বিকাশ করুন অন্যের মাঝে। হয়তো একদিন আপনিও ইতিহাসের খাতায় স্বর্ণাক্ষরে আপনার নামটি লেখা থাকবে। মনে রাখবেন ছাত্ররাও একদিন কোন না কোন ছাত্রের শিক্ষক হবে। তারও কিছু ছাত্র তৈরী হবে।
একজন শিশু হয়ে যদি আরেকটির শিশুর দায়িত্ব নিতে পারে তবে কেনো আপনার মেধা দিয়ে সমাজের বা দেশের সেবা করবেন না ? ভালো করে দেখুন উপরের ছবিতে একটি শিশু আরেকটি শিশুকে কতো আদর করে খাওয়াতে দেখা যাচ্ছে। একজন পাগলি যদি সন্তানের মা হতে পারে তবে পাগলির শিশুটির পিতাতো অবশ্যই আছে। ঠিক তেমনি ছবিতে যে শিশু দুইটি দেখা যাচ্ছে তাদেরও পিতা-মাতা আছে। কিন্তু শিশু দুইটির পিতা-মাতা আজ কোথায় ? সন্তান জন্ম দিলেই কি পিতা-মাতার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় ? সন্তান জন্ম দেয়া অন্যায় নয়, সন্তান জন্ম দিয়ে লালন পালন না করাটাই আমার কাছে অন্যায়।

যাই হোক আমার মনে হয় উপরের ছবিটি ওরা ভাই-বোন। আর ভাই-বোনের কথা মনে পড়লেই একটি ছায়াছবির গানের কথা মনে পড়ে গেলো। “বাপের চোখের মনি নয়, মায়ের সোনার খনি নয়, ভাইয়ের আদরের ছোট বোন,একটি বিনা তার মোরা একটি পরিবার দু’জনেই কতো যে আপন”। আমার কাছে মনে হলো শিশুটিকে তার বড় ভাই মায়ের মতো আদর দিয়ে খাওয়াচ্ছে। দু’জনার মুখে আনন্দের হাসির প্রতিচ্ছবিটা দেখে তাই মনে হবে সবার। ছবিটি দেখে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে তা হলো শিশু দু’টির পিতা-মাতা দিনমজুর। তারা কাজে গেছে। হয়তোবা শিশুটির মা বেঁচে নেই। কোলের শিশুটি তার ভাইয়ের কাছে রেখে গেছে। ক্ষুধার যাতনায় হয়তো সে যখন কাঁদতেছিলো তখন বড় ভাই একটি ছোট ষ্টীলের মগ বা গ্লাসের মধ্যে গরম দুধ কিনে এনে তার ছোট বোনকে ঠান্ডা করে চিনামাটির প্রিজে করে খাওয়াচ্ছে। আর দু’জনার মুখে কি আনন্দের হাসি। এ হাসিটি আমার কাছে শ্রেষ্ঠ। ছবিটি জুম করে দেখেছি বহুবার। আমার কাছে মনে হলো কোন এক কয়লা খনি এলাকায় অথবা কোন ইটভাটায় রাখা কয়লার স্তুপের পাশে এ ছবিটি তোলা হয়েছে। বড় শিশুটির পায়ে কালো কালো ময়লার দাগ ও তার বসে থাকা স্থানটি কালো দেখাচ্ছে। যা আমি সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করেছি।

এ ছবিটির উপর ভিত্তি করে আমার লেখার কারণ হলো একজন শিশু হয়ে যদি আরেকটি শিশুর দায়িত্ব নিতে পারে তবে কেনো এরকম শিশুর দায়িত্ব নিতে পারে না এ সমাজ ? দেশের বড় বড় শহরের ফুটপাতে, ওভারব্রীজে কিংবা রাস্তার ধারে পলিথিন দিয়ে ঘেরা ঘর তৈরী করে বসবাস করছে। ভোর হতেই ওরা ছুটে চলে দু’মুঠো অন্যের সন্ধানে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার করে একটু লবন ভাতের আশায়। তবুও ওরা ভালো থাকতে চায়, একটু শান্তি চায়, শান্তিতে ঘুমাতে চায়। কিন্তু থাকতে পারে কি ? শিশুশ্রম আইনত অপরাধ। তবে কর্ম ছাড়া ক্উে একমুঠো ভাত খেতে দেয় না।

রাজনৈতিক যখন সরগম তখন এসব শিশুদের ডেকে নিয়ে পিকেটিং করানো হয় যা টিভিতে দেখা যায়। ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে বা অর্থের লোভে পড়ে ওরা হয়ে যায় এক সময় সন্ত্রাসী। বেড়ে যায় দেশ ও সমাজে অশান্তি। শিশুদের দিয়ে যেন রাজনৈতিক কোন কাজে ব্যবহার করা না হয়,সেদিকে দৃস্টি দেয়ার দাবি সচেতন মহলের। সেই সাথে ভাইয়ের কোলে বোনের হাসিটা যেন ম্লান হয়ে না যায়। আমরা অনেকেই কোটি টাকার বাথরুম বা টয়লেট তৈরী করে তা ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু ভাবিনা কবরের নিজ ঘরের কথা, আখেরাতের কথা,এ সমাজের কথা। আসুন এ সমাজে ছড়িয়ে ছিটে থাকা মানুষ ও শিশুদের পাশে দাঁড়াই। শিশু হয়ে শিশুর দায়িত্বটা যেন এ সমাজ নিতে পারে। এরকম দৃশ্য যেন আর দেখতে না হয়। নিজের বিবেককে বিবেক হিসেবে জাগ্রত করি,এ সমাজের উন্নয়ন ঘটাতে পারি তথা দেশের উন্নয়ন করতে পারি। বিবেক থাকলে বিবেচনা করা যায়। আর বিবেক আছে বলেই শিশু হয়ে শিশুর দায়িত্বভার পালন করছে।