Home » » কিশোরগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে চর্তুমুখী লড়াইয়ের জোড় গুঞ্জন

কিশোরগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে চর্তুমুখী লড়াইয়ের জোড় গুঞ্জন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 07 March, 2019 | 11:08:00 PM

মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : কিশোরগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হলেও ভোটাদের অনাগ্রহে প্রার্থীদের ক্লান্তিহীন গণসংযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং চেয়ারম্যান পদে চর্তুমুখী লড়াইয়ের জোড় গুঞ্জন চলছে। কে হবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ? চায়ের টেবিল সহ সর্বত্রই আলোচনার এখন মুল উপজীব্যই এটি। ভোটের হিসাব মিলাতে ব্যস্ত এখন ভোটাররা। ভোটের বাকযুদ্ধ করতে অহেতুক হাতাহাতিও হচ্ছে। সহোদর ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভোট ভিক্ষা করতে গিয়ে নির্বাচনী মাঠে দু’ভাইয়ের বচসার পরে এক ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনাও এখানে ঘটেছে। ভোটারদের মধ্যে ভোটের আমেজ ও উৎসব বিরাজ করলেও এ ঘটনায় অনেকে শংকিত হয়েছে। তবে প্রার্থীরা সকলেই চান ভোট নির্ঝঞ্ঝাট, অবাধ ও সুষ্ঠু হোক। ভোট অবাধ ও সুষ্ঠ না হওয়ার ব্যাপারে অনেক প্রার্থী আংশকায় রয়েছে। এখানে প্রচারণার দাপট অনেক বেশী থাকলেও ভোটাদের ভোট নিয়ে অনাগ্রহের বিষয়টি প্রার্থীদের ভাবিয়ে তুলছে। বাজার ও শহরগুলো যখন জমে উঠে, নিবার্চনী প্রচারণার দাপটে তখন অনেকে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। গণসংযোগেও বেশ পাল্লা দিচ্ছে প্রার্থীরা। রাত-দিন সমানে চষে বেড়াচ্ছেন। মনে হয় ঘুমানোরও সময় নেই তাঁদের। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বদ্ধিতা করছেন। এ মধ্যে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তারা হলেন, নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী শাহ মোঃ আবুল কালাম বারী পাইলট(আনারস), নৌকা প্রতীক প্রার্থী জকির হোসেন বাবুল, লাঙ্গল প্রতীক প্রার্থী মোঃ রশিদুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রশিদুল ইসলাম রশিদ (ঘোড়া)। নির্বাচনী যুদ্ধে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী জাকির হোসেন বাবুল খুব সহজেই নৌকা প্রতীক নাগালে পেলেও নির্বাচনী যুদ্ধে আপন দলের পরীক্ষিত দু’জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে। তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ক্ষমতাকালে তিনি উপজেলা পর্যায়ে একটি দৃষ্টিদন্দন ফুটবল টুর্ণামেন্ট উপহার দেয়া সহ কিশোরগঞ্জ ডায়েবেটিক হাসপাতাল নির্মাণ, শিল্পকলা একাডেমী নির্মাণ, উপজেলা অডিটোরিয়াম হল নির্মাণ ও আরো অনেক দৃশ্যমান উন্নয়নের সফল রূপকারতিনি দাবি করেন। আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসাবে দলকে সংগঠিত করলেও অতিতের কিছু কর্মকান্ডে নেতা-কর্মীরা বিরূপ হয়ে উঠে। এবারের নির্বাচনে নেতা-কর্মীদের ক্ষোভের চিত্র ফুটে উঠে। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবুল কালাম বারী পাইলট ও গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিপ্লব কুমার সরকার সাথে অনেক নেতা কর্মী যোগ দেয়ায় তাঁর শিবির ছত্রভঙ্গ হয়। এতে করে ভোট ব্যাংকে টান পড়ার আশংকা রয়েছে। নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচরণাকালে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বাবু তপন কুমার সরকারের সাথে তাঁর সহোদর ছোটভাই উপজেলা পরিষদ স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপ্লব কুমার সরকার বচসার পর বড়ভাই তপনের মৃত্যুটি জাকির হোসেনের ভোট ব্যাংক ভারী হবে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে অপর পক্ষ এটিকে তাঁর জন্য ক্ষতিকর বলে দাবী করছে। নির্বাচনের শেষ প্রান্তে নৌকার পক্ষের শক্তি এক হলে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা থাকবে। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আর এক নতুন মুখ আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালাম বারী পাইলট। তিনি কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আনারস প্রতীক নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে অনেকেই ডাইনামিক প্রার্থী হিসাবে দেখছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোন অপবাদ শোনা যায়নি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের তিনিও একজন যোদ্ধা। সব ইউনিয়নে তাঁর ভোট রয়েছে বলে শোনা যায়। আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর তৃণমুল নেতা-কর্মীরা (একাংশ) পাইলটের সাথে একাট্রা হয়ে নির্বাচন করছে। নির্বাচনকালীন উপজেলা ছাত্রলীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পিছনে জাকির হোসেন বাবুলের হাত রয়েছে বলে ছাত্রলীগ মনে করে। তাই পুরো ছাত্রলীগ এখন পাইলটের পক্ষে মরণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে পাইলটকে জয়ী করার জন্য। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বয়সে নবীন হলেও পাইলটের জয়েরমালা আশা করে অনেকে। তবে নৌকা প্রতীক সমর্থিত ভোটারের বাইরে ভোট আদায় না করতে পারলে তাঁর জন্য ‘দিল্লী বহুত দুর’ হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তৃণমূল জনপ্রতিনিধি থেকে উপজেলা পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বকারী মোঃ রশিদুল ইসলাম ভোটের রাজনীতিতে একজন অভিজ্ঞ মানুষ। প্রার্থীদের মধ্যে তিনি সবচে’ বর্ষীয়ান। তিনি উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। রশিদুল ইসলাম ক্ষমতাশীল অবস্থায় ভিক্ষুক ও মাদকমুক্ত কিশোরগঞ্জ ঘোষণা সহ অনেক ইতিবাচক কাজের অংশিদার হয়েছেন। তাঁর ভাগ্যেও খুব সহজেই লাঙ্গল প্রতিক জুটলেও ঠিকাদার রশিদুল ইসলাম রশিদ এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রশিদ হাইলবিং করেছিল লাঙ্গল প্রতীক পাওয়ার জন্য। ব্যর্থ হয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জাপার নেতা-কর্মীর একটি অংশ ঠিকাদার রশিদুল ইসলাম রশিদের সাথে এখন কাজ করছে। লাঙ্গলের ভোট প্রতিটি ইউনিয়নে থাকলেও দলের কর্মীরা বিভক্ত হওয়ায় ভোট ব্যাংকে টান পড়ার আশংকা রয়েছে। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার না থাকলেও ধুমকেতুর মত আবির্ভূত হওয়া ঠিকাদার রশিদুল ইসলাম রশিদ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন । প্রতিদ্বদ্ধি হিসাবে তাঁর নামও উল্লেখ করা যায় । শ্রমিক থেকে ঠিকাদার হওয়ার গল্প আনাচে-কানাচে শোনা গেলেও বিত্ত বৈভবের মালিক যে তিনি হয়েছেন দান-খয়রাতে তা প্রতীয়মান হয়। নির্বাচনে আসার আগে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে দু’হাতে খরচ করেছেন। নির্বাচনেও তার খরচের দৌরাত্বের কথা শোনা যায়। তিনি জাতীয় পাটির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন যুদ্ধে হেরে গিয়ে তিনি বিদ্রোহী হয়েছেন বলে তাঁর কর্মীরা দাবী করেন। তবে জাপার সাধারণ সম্পাদক আলম হোসেন বলেন, তাঁর দাবী হাস্যকর। তিনি জাপার সাধারণ সদস্যও নন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, নির্বাচনের প্রারম্ভে রশিদ একটা অবস্থানে থাকলেও এখন আর ফ্যাক্টর না।