Home » » বদরগঞ্জের নদ-নদীর বালু উত্তোলন অব্যাহত

বদরগঞ্জের নদ-নদীর বালু উত্তোলন অব্যাহত

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 06 March, 2019 | 11:14:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে থেমে নেই অবৈধভাবে নদ নদীর বালু উত্তোলণ। প্রভাবশালী বালু খেকোদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের তহশিলদাররা এই কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় বালু উত্তোলণ বন্ধ হচ্ছেনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাদের প্রত্যক্ষ মদদে বালু উত্তোলণ হচ্ছে মর্মে যথাযথ কর্তৃপক্ষ নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে। জানা যায়, উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনেশ্বরী ও চিকলী নদী থেকে সারা বছর ধরে বালু উত্তোলণ করা হয়। প্রশাসনিকভাবে বালু উত্তোলণের অনুমতি না থাকলেও প্রভাবশালী বালুখোরা সংশ্লিষ্ট এলাকার তহশিলদারগণের প্রত্যক্ষ মদদে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। গতকাল বুধবার রাধানগর ইউনিয়নের পাঠানেরহাট এলাকায় সরেজমিনে গেলে চোখে পড়ে ওই এলাকার সায়েম খান ও মিলন মিয়া নামে দুই ব্যক্তি চিকলী নদীর পাঠানেরহাট ব্রীজের কাছ থেকে বালু উত্তোলণ করছেন। এতে করে নদীর গোড়া রক্ষা বাঁধ ও কোটি টাকার ব্রীজটি হুমকীর মুখে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়াও যমুনেশ্বরী নদীর লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মাধাইখামার এলাকায় ও কুতুবপুর ইউনিয়নের সোনারপাড়া এলাকায় ডেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে সোনারপাড়া গ্রামের বিপ্লব মিয়া, আফছার আলী, মির কাশেমসহ বেশ কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি। তারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে অঘোষিত বালু মহল গড়ে তুলেছেন। সেখান থেকে রাতদিন বালু উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আর এ সব বালু বিক্রির লভ্যাংশ চলে যাচ্ছে কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তা ও কুতুবপুর ইউনিয়নের তহশিলদারের পকেটেও। এপ্রসঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের তহশিলদার হেলাল উদ্দিন তার পিয়নকে দিয়ে বালু উত্তোলণকারীদের কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে টাকা পয়সা নেওয়ার ফলে আমরা উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছিনা। এ সময় বালু যমুনেশ্বরী নদীর উত্তোলনকারী আফছার আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রশাসনের অনুমতি না থাকলেও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সবাইকে ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলণ করছি। আপনারা সাংবাদিক মহল কত লিখতে পারেন লিখে যান তবুও বালু উত্তোলন আমাদের অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে এলাকাবাসী বালু উত্তোলণ বন্ধের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়নের তহশিলদার হেলাল উদ্দিন বলেন, বালু উত্তোলণকারীদের সাথে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। সম্প্রতিকালে যমুনেশ্বরী নদীর বালু উত্তোলণকারী বিপ্লব মিয়াসহ ১২জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর চেয়ে আমার কিছু করার ক্ষমতা নেই। অপরদিকে রাধানগর ইউনিয়নের তহশিলদার শওকত আকবর মোবাইল ফোনে বলেন, চিকলী নদীর ব্রীজের কাছ থেকে বালু উত্তোলণ করা হচ্ছে বিষয়টি আমার জানা নেই। ওই এলাকায় গিয়ে খোাঁজখবর নিয়ে দেখব।