Home » » একই সময়ে ঘন্টাধ্বনী বাজিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো বাংলাদেশের শিশুরা

একই সময়ে ঘন্টাধ্বনী বাজিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো বাংলাদেশের শিশুরা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 13 March, 2019 | 11:48:00 PM

বদরুদ্দোজা বুলু,পার্বতীপুর প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : বাংলাদেশের শিশুরা ১৩ মার্চ বুধবার দুপুর ১২টায় একই সঙ্গে, একযোগে বাংলাদেশের শিশুরা এক মিনিট ধরে ঘন্টা বাজিয়ে সকল প্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষার অধিকার আদায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলো নীতি নির্ধারক ও দেশবাসীর। We ring the bell" নামক বিশ্বব্যাপী ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ও অ-প্রতিবন্ধী শিশুরা ২০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘন্টা, ঢোল, বাদ্যযন্ত্র এমনকি থালা বাসনে আওয়াজ তুলে প্রতীকী এ কর্মসূচী পালন করেছে। একই সময়ে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ এবং ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী "ডব ৎরহম ঃযব নবষষ" নামক এই ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর We ring the bell" এর মূল বার্তা হল: ” আমরা চাই প্রতিবন্ধীসহ সকল শিশু বিদ্যালয়ে আসুক”। যে সমস্ত প্রতিবন্ধী শিশু স্কুলে যেতে পারেনা তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অন্য সকল প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধী নয় এমন সকল শিশু, তাদের শিক্ষক, অভিভাবক মিলে এ কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ঠ নীতি নির্ধারন কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আকর্ষন করলো। দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় মন্মথপুর ২ নং সরকারী প্রাথমিক ও মন্মথপুর কো-অপারেটিক উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত একযোগে ঘন্টাধ্বনী বাজালো দিনাজপুরের শিশুরা। এ কর্মসূচীতে বিশিষ্টজন ও নীতি নির্ধারনী কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বতীপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি),আবু তাহের মোঃ সামসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সাত্তার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ ও কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ) এর নির্বাহী পরিচালক মতিউর রহমান। এছাড়াও এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ প্রশাসন, স্কুলের শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ, ইউপি সদস্য, এনজিও প্রতিনিধি সাংবাদিক ও কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ)‘ নির্বাহী পরিচালক সহ দেশী বিদেশী ভোলান্টিয়ার গণ। সারাবিশ্বব্যাপি এই কার্যক্রমটি একইভাবে উদযাপন করছে প্রতিবন্ধী ও সাধারণ স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের আঙ্গিনায় একত্রিত হয়ে ১ মিনিটব্যাপি বেল ও ড্রাম বাজিয়ে অসাধারণভাবে কোলাহল তৈরী করেছে। We ring the bell" ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি একই দিন বেল রিলে ও সিগনেচার ক্যাম্পেইন নামে আরো দু’টি পৃথক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় । উদ্দেশ্য একটাই প্রতিবন্ধী শিশুদের বিদ্যালয়ে গমনের বিষয়ে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন করা এবং তাদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার হওয়া । এই কর্মসূচীর মাধ্যমে তারা প্রতিবন্ধী শিশুদের বিদ্যালয় গমনে প্রতিবন্ধকতা দূর করার মাধ্যমে সকল প্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য নীতি-নির্ধারক ও সংশ্লিষ্ঠদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। We ring the bell" ক্যাম্পেইনটি নেদারল্যান্ড ভিত্তিক লিলিয়ান ফাউন্ডেশনের একটি উদ্যোগ যা বাংলাদেশে এর কৌশলগত অংশীদার ডিআরআরএ (ডিজ্যাবল্ড রিহ্যবিলিটেশন এ্যান্ড রিসার্চ এসোসিয়েশন) সারাদেশে পালন করছে। বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষায় সহায়তা প্রদান ও সকলকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসার জন্য লিলিয়ান ফাউন্ডেশন ডিআরআরএ-কে সহায়তা করছে এবং ডিআরআরএ এর স্থানীয় অংশীদার কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ)‘র মাধ্যমে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় তা বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু বাংলাদেশে ও সারা বিশ্বে এ বিষয়ে সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। এসব স্কুল প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আক্ষরিক ও চরিত্রগতভাবে আরও বেশি প্রবেশগম্য হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণ যেন প্রতিবন্ধী শিশুদের চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং শিক্ষা যে প্রতিবন্ধী শিশুরও মৌলিক অধিকার সেটা যেন সকলে অনুধান করে। এ প্রকল্পের বৈশ্বিক লক্ষ্য হলো :- ২০০০ সালে জাতিসংঘের ২০০ টি দেশ আটটি বিষয়ে সহ¤্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে সম্মত হয়। এর মধ্যে একটি লক্ষ্য হল ২০১৫ সালের মধ্যে শতভাগ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাবে, যা এখনো অর্জিত হয়নি। সারা বিশ্বে অনেকশিশু (৮৯% পর্যন্ত) বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, কিন্তু প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশ সমূহে মাত্র ১০% প্রতিবন্ধী শিশু স্কুলে যায়। এমনকি নেদারল্যান্ডেও তাদের অংশগ্রহণ অনেক কম। We ring the bell" যদিও একটি বাৎসরিক অনুষ্ঠান, কিন্তু ২০১৯ সালে এর গুরুত্ব¡ সর্বাপেক্ষা বেশি। জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কঠোরভাবে কাজ করছে। ২০১৬ থেকে পরবর্তী সময়ের জন্য জাতিসংঘ নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করে তা অর্জনে কাজ করছে। এই নতুন লক্ষ্যের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হবে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্টাল গোলস এ সুবিধা পায়নি সেইসকল ব্যক্তিবর্গ। এরা হল বিশেষভাবে প্রতিবন্ধী শিশু ও পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি। ২০০০ সাল থেকে তারা খুব কমই উন্নয়ন করতে পেরেছে। এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়ার এটাই মূখ্য সময় এবং এই পরিবর্তনের ডাক বিশ্বব্যপি যত উচ্চ ঝংকার তুলবে বিশ্ববাসী সেই ডাক ততো ভাল শুনতে পাবে।