Home » » বদরগঞ্জে মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারীর বিরুদ্ধে নৌকা ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগে মানববন্ধন

বদরগঞ্জে মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারীর বিরুদ্ধে নৌকা ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগে মানববন্ধন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 10 March, 2019 | 11:16:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে ফ্রিতে মাছ দেওয়ায় জেলেদের নৌকা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী মোকছেদুল হক। এ ঘটনায় রবিবার উপজেলা মৎস্যজীবি সমিতির উদ্যোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে উপজেলার শতাধিক জেলে পরিবার। এ সময় তারা ওই ক্ষেত্র সহকারীর শাস্তির দাবি জানিয়ে ইউএনওর দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করে। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৭মার্চ) সকালে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনেশ্বরী নদীর ভাংড়ির ঘাটে নৌকার উপর বসে জাল মাছ ধরছিলেন স্থানীয় জেলে শ্রী কমল চন্দ্র দাস। এ সময় বদরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্রসহকারী মোকছেদুল হক সেখানে গিয়ে জেলের কাছে বিনা মুল্যে ধৃত মাছগুলো নিতে চান। কিন্তু তাকে মাছ না দেওয়ায় তিনি রাগান্বিত হয়ে অসহায় জেলেকে মারধর করে তার নৌকাটি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেন, এবং মাছ ধরার সুতায় বুনা জালখানা জোর করে ছিনিয়ে নেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা মৎস্য সমিতির ডাকে মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের লোকজন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে মানববন্ধন শেষে উপজেলা পরিষদের সামনে অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এব্যাপারে ভুক্তভোগী জেলে শ্রী কমল চন্দ্র অভিযোগ করেন বলেন, এখন শুকè মৌসুমে নদীতে পর্যাপ্ত মাছ না থাকায় ঘটনারদিন শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত আমি মাত্র আধা কেজি মাছ পেয়েছি। মাছগুলো তাকে ফ্রিতে দিয়ে দিলে আমার পরিবারের সদস্যরা অনাহারে থাকবে এই কথা বলার সাথে সাথে তিনি ভিষন রাগান্বিত হয়ে আমাকে মারধর করে আমার মাছ ধরার নৌকাটি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেন। এমনকি আমার কষ্টের টাকায় সুতোর বোনা মাছ ধরার জালখানা জোর করে তার বাড়ীতে নিয়ে যান। তিনি আরো বলেন, মোকছেদুল হক নদীতে মাছ ধরতে আসা সকল জেলেদের কাছ থেকে প্রতি মাস ৫-৬ শ করে টাকা নেন। যারা টাকা দিতে পারেনা তাদের কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে ফ্রিতে মাছ নেন। তবে উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী মোঃ মোকছেদুল হক দাম্ভিকতার সহিত বলেন, আমি দীর্ঘ এক যুগ ধরে এই অফিসে চাকরি করে আসছি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের যে কোন কর্মকর্তার সাথে আমার সক্ষতার কোন ঘাটতি নেই। তাই আমার বিরুদ্ধে কোথাও অভিযোগ করে লাভ হবেনা। এই বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি পুরো ঘটনাটি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলেন, ইউএনও স্যারের কাছে যখন অভিযোগ করা হয়েছে তাই আপনারাও তাঁর সাথেই কথা বলেন। এ ব্যাপারে আমার কিছুই বলার নেই। অন্যদিকে জেলা মৎস্য অফিসার বরুণ বিশ্বাস মোবাইল ফোনে বলেন, কারো বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানবন্ধন করা মোটেও শোভনীয় বিষয় নয়। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি সেখানে কি ঘটেছে।