Home » » মাত্র পনের মিনিট সময় চেয়েও পেলাম না

মাত্র পনের মিনিট সময় চেয়েও পেলাম না

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 07 February, 2019 | 11:30:00 PM

বদরুদ্দোজা বুলু,পার্বতীপুর প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : দোয়া পাওয়া সবার ভাগ্যে হয় না। আর কার দোয়া কখন কবুল হবে তা কেউ জানে না। মায়ের গর্ভে থাকা শিশুটি ছেলে নাকি মেয়ে আগে তা বলা যেতো না। তবে এখন বলা যায়। শিশুটি সুস্থ্য সবল নাকি অন্যকিছু। তবুও নাকি বলা সম্ভব। শতকরা কত ভাগ মা’ জানতে পারেন তার গর্ভে থাকা শিশুটির অবস্থা। সত্য মিথ্যা জানি না, তবে শুনেছি পিতার পূণ্যে পুত্র উদ্ধার। আবার পিতা-মাতার পাপের প্রায়াশ্চিত্ত নাকি সন্তানদেরকে ভোগ করতে হয়! সবই আল্লাহর ইচ্ছা। তিনিই এর ভালো মন্দ বলতে পারবেন। তবে যেভাবেই জন্ম গ্রহন করি না কেন, তা শুকরিয়া আদায় করতে হয়। মায়ের গর্ভ থেকে সুস্থ সবল এবং শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুও জন্ম গ্রহন করে। অনেকেই বলেন গর্ভকালীন সময়ে সচেনতার অভাবে এমনটি হতে পারে। আবার জন্মের পরবর্তী সময়েও শিশু প্রতিবন্ধী হতে পারে। অনেক প্রতিবন্ধীদের বিদ্যা বুদ্ধিতে অনেকে খ্যাতি অর্জন করেছে। দেশের অনেক এনজিও প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন। তারা সবখানেই বলেন, প্রতিবন্ধী শিশু সমাজের বোঝা নয় আমাদের সম্পদ মনে করে তাদেরকে লালন পালন করে শারীরিক ও মানসিক পরিবেশ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ) এর নির্বাহী পরিচালক মতিউর রহমান জানান, সাকিব আল হাসানসহ বেশ কিছু প্রতিন্ধীকে তারা দাতা সংস্থার (পিআরআইডিই) মাধ্যমে তাদেরকে সার্বিক সহযোগীতা করে আসছেন। এছাড়াও সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতনের কিছু অংশ প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্যয় করে থাকেন। সাকিব আল হাসান এর বাড়ী মোমিনপুর ইউপির গোবিন্দপুর সরদার পাড়া নামক গ্রামে। তার পিতার নাম আজিম উদ্দিন, পেশায় দিন মজুর। মাতা-হোসনে আরা গৃহিনী। তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট সে। এবারে সে মন্মথপুর কো-অপারেটিভ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। গত ১ ফেব্রেুয়ারী শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় এবারে পার্বতীপুর বিভিন্ন কেন্দ্রে ৫ জন প্রতিবন্ধী পরীক্ষা দিচ্ছেন। এসব পরীক্ষার্থীদের প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর যাবত লেখাপড়াসহ সার্বিক সহযোগীতা করে আসছে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার ২ নাম্বার মন্মথপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ)। এদের মধ্যে সাকিব আল হাসান এর হাতের দু’টি কবজি নেই ও ডান পায়ের অর্ধেক নেই। কৃত্রিম পা সংগ্রহ করে লেখা পড়া করে আসছে। সে এবারে উপজেলার মন্মথপুর কো-অপারেটিভ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। তার পরীক্ষা কেন্দ্র উপজেলার মোমিনপুর ইউপির যশাই উচ্চ বিদ্যালয়। পরীক্ষা কেন্দ্রের রুম নাম্বার ১ এর প্রথম সিটে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছু সময় বাড়তি পাওয়ার কথা থাকলেও তাকে দেয়া হচ্ছে না। সাকিব আল হাসান তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ রশিদকে নিয়ে দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট আবেদনও করেছিলেন। তার দুইটি হাতের কবজি না থাকায় বাড়তি সময়ের জন্য। কিন্তু সে বাড়তি সময় পাবে না বলে জানানো হয় তাকে। যশাই উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক আকতারুজ্জামান মোমেনি আজ বৃহষ্পতিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারী দিনাজপুরের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ তার পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শনে এসে প্রতিবন্ধী সাকিব আল হাসান এর সম্পর্কে জানতে পেরে তার জন্য বাড়তি সময় দিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে দোয়া দিয়েছেন তিনি। যেহেতু সাকিব আল হাসান তার দুইটি হাতের দশটি আংগুল না থাকায় দুই হাতের কবজি দিয়ে লিখতে পারে সেহেতু পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী সে পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বাড়তি সময় পাবেন না। যদি সে লিখতে না পারতো, সেক্ষেত্রে তার সহযোগী পরীক্ষার্থীকে লেখার জন্য বাড়তি সময় দেয়া হতো। সাকিব আল হাসান জানান, নৈবিত্তিক প্রশ্নের উত্তরের ঘরগুলো পূরণ করতে তার সমস্যার পাশাপাশি সময় লাগছে। এমনকি ঘরগুলো পূরণ করতে গোল বৃত্তের বাইরেও কলমের কালির দাগ পড়ছে। সে নিয়ে চিন্তিত। সাকিব বলেন, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। অথচ মানুষ হয়ে মানুষের কাছে সামান্য সময় চাওয়াটাই আইনের পরিপন্থি। আল্লাহর কাছে মানুষ বড় বড় পাপ করে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ ক্ষমা করেন,হায়াত চাইলে হায়াতও পাইতে পারেন। কারন আল্লাহ দয়ালু। কিন্তু মানুষ ........ ? আর আমি মাত্র পনের মিনিট বেশী সময় চেয়ে সময় পেলাম না।