Home » » বদরগঞ্জে খোলা তেলে গাড়ি চলে

বদরগঞ্জে খোলা তেলে গাড়ি চলে

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 21 January, 2019 | 1:15:00 AM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত তেলের পাম্প না থাকায় ভেজালমুক্ত জ্বালানী তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। পৌর শহর থেকে অদুরে দুই দুটি তেলের পাম্প স্থাপন করা হলেও জরুরী প্রয়োজনে তা যানবাহনের কাজে আসছেনা। যার ফলে ফুটপাতের খোলা তেলের উপর নির্ভর করছে চলছে উপজেলার প্রায় ২হাজার মাঝারী ও ভারী যানবাহনসহ ৫হাজার বাইকার। ভুক্তভোগীরা জানান, যানজটে ভরা একটি শহরের নাম বদরগঞ্জ। এই শহরের বুকচিরে নিয়মিত চলাচল করে হাজার হাজার যানবাহন। কিন্তু শহরের প্রানকেন্দ্রে হাতের নাগালে কোন তেলের পাম্প না থাকায় চালকদের প্রতিনিয়ত জ্বালানী সংকটের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এাড়াও পৌর শহরের কলেজ ঘুমটি থেকে নাগেরহাট বন্দর পর্যন্ত ১৮কিলোমিটারের মধ্যে কোন তেলের পাম্প নেই। এমনকি মহিলা কলেজ থেকে ১২কিলোমিটার পথ লালদিঘী বাজার এবং সিও অফিস এলাকা থেকে ১৪কিলোমিটার দক্ষিণে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প পর্যন্ত কোন তেলের পাম্প স্থাপন না হওয়ায় খোলা তেলের উপর নির্ভর করেই চলছে ছোট বড় ও মাঝারী যানবাহান। এই অঞ্চলের শিল্পপতি ও বিত্তবানরা ইচ্ছে করলেই যথাযথ স্থানে একাধিক তেলের পাম্প স্থাপন করে সাধারণ মানুষের সমস্যা লাঘব করতে পারেন। অথচ তারা সেদিকে নজর না দিয়ে পরিবেশ দুষণকারী ইটের ভাটার দিকে বেশি বেশি ঝুঁকে পড়ছেন। এবিষয়ে পৌর শহরের মোস্তাফিজার রহমান (৩৫) জানান, শুক্রবার বিকাল বেলা শহরের যানজটে বেশ কিছুক্ষন আটকা পড়ার কারনে আমার বাইকের তেল শেষ হয়ে যায়। আশেপাশে কোন তেলের পাম্প না থাকায় হক সাহেবেব মোড় ফুটপাত থেকে এক লিটার ময়লা যুক্ত খোলা পেট্রোল কিনে বাইকে ভরেছি। কিন্তু খোলা তেল ভরাব পর থেকে আমার বাইকের নানা রকম যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এখন মেকারের কাছে এসেছি বাইকটি মেরামত করতে। আলাউল হক লিয়ন নামে একজন ট্রাকের মালিক সাংবাদিকদের জানান, বদরগঞ্জে শহরের দুই প্রান্তে দুটি পাম্প থাকলেও সময় স্বল্পতার কারনে আমরা ফুটপাত থেকে খোলা তেল কিনেই গাড়ি চালাই। এছাড়াও বদরগঞ্জে অবস্থিত পাম্পের তেলের মান তেমন ভাল না হওয়ায় মাঝে মধ্যে আমি রংপুর শহরের পাম্প থেকে তেল ক্রয় করে থাকি। খোলা তেল ওজনে কম হলেও বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে। এদিকে উপজেলা নাগরিক সমাজের জনৈক সদস্য জানান, বদরগঞ্জে শিল্পতির অভাব না থাকলেও শহরের মধ্যে তেলের পাম্প করার মত মানুষের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। যে কারণে পর্যাপ্ত তেলের পাম্প স্থাপন করা হচ্ছেনা। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন বদরগঞ্জ পৌরশহরের জ্বালানী তেলের চেয়ে মটরবাইকের শো-রুম বেশি। দেশ বিদেশের এমন কোন ব্যান্ডের মটরসাইকেল নেই যা এখানে পাওয়া যায়না। অথচ, সেই বাইকগুলো চালানোর জন্য নির্ভেজাল জ্বালানীর কোন ব্যবস্থা নেই। দিনের পর দিন খোলা তেলেই চলছে মটরগাড়ি। এখানকার শিল্পতিরা কলকারখানা স্থাপন করে মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার চেয়ে অধিক লাভের আশায় পরিবেশ দুষণকারী ইটের ভাটা স্থাপন করতেই বেশি আগ্রহী। অন্যদিকে বদরগঞ্জ উপজেলার নাগেরহাট বন্দরের বদর বাবা ফিলিং স্টেশনের মালিক বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী উত্তম কুমার সাহা সাংবাদিকদের বলেন, নীতিমালা মেনে যে কেউ যে কোন স্থানে তেলের পাম্প স্থাপন করতে পারেন। তবে সকল প্রকার দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপদ স্থানে তেলের পাম্প স্থাপন করলে কোন প্রকার ঝুঁকি থাকেনা।