Home » » অনন্ত- অন্তরা (ত্রয়োদশ পর্ব)

অনন্ত- অন্তরা (ত্রয়োদশ পর্ব)

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 03 December, 2018 | 12:18:00 AM










> সৈয়দ মিজানুর রহমান < 
চুরুট টেনে তৃপ্তি মিটালাম ঠিক তবে চোয়াল ব্যথা হয়ে গেল বটে- রাতে আর সিগারেট না হলেও চলবে মনে হয় । তবে মাঝে মাঝে এই সময় কিছু অচিন মানুষের আনাগোনা দেখা যেত কিন্তু আজ দেখা গেল না- মাদকের চাপ কমে গিয়েছে ইদানিং- সেটাই হয়তো কারণ- যাহোক বাসায় যাই আধা ঘন্টা হয়েগিয়েছে- ঐ দিকে শঙ্করের খবরটা নিতে হবে-
বাসায় ঢুকে দেখি মোবাইল ৯৫% চার্জ হয়ে গিয়েছে, মোবাইল অন করে প্রথমে শঙ্করকে কল করলাম- হ্যালো শঙ্কর কী খবর তোর? জ্বী দাদা রক্ত পরীক্ষা দিয়াআইছি- আর ৩ পদের ওষুধ দেছে আরো কইছে ডাব খাইতি আর যা খাইতি হবে তা কাগজে লেইহা দেছে। তাই- তাহলে ঠিক মতো ঔষধ খেয়ে যা সাথে ঐগুলি খাবি- টাকায় হবে? না হলে চিন্তা করিস না আমি আগামী কাল এসে দিয়ে যাব কেমন-
 ঠিক আছে দাদা-
মন খারাপ করিস না –সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে- রাতে পেট ভরে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়িস- ভালো থাকিস- রাখছি । এখন কী করবো- রাতে আবার বাইরে খাবো নাকি কিছু একটা রান্না করবো- ইয়েস- নুডুস রান্না করবো- অল্প সময়ে সবচেয়ে সহজ রান্না ।
 যে কথা সেই কাজ রান্না আয়োজন শুরু করে দিলো । ২০ মিনিটে রান্না শেষ করে ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেস হয়ে রাতের খাবার শেষ করে এককাপ রংচা নিয়ে pc টা অন করলো- ইউটিউবে সার্চ করলো নতুন কোন গান আছে কিনা – না মিলল না – তাই আর কী করা রবিঠাকুরকে স্মরণ পড়লো- গান খুঁজতে গিয়ে Titanic এর গান মনে পড়ে গেল- Celine Dion এর সে বিখ্যাত গানটি My heart will go on>> “Every night in my dreams I see you I feel you,,,,,,,,,,” গান শোনার পর মন আমার ভীষণ চঞ্চল হয়ে উঠলো- অন্তরার জন্য ভেতরটা মুচড়ে উঠলো- কল দিলাম অন্তরাকে- ওপাশ থেকে হ্যালো- শুনতেই ভিতরটা কেমন করে উঠলো- আবেগী মন আঁকিবুঁকি করে উঠলো ভালবাসার ডানা মেলতে চাইলো – কিন্তু না পেরে থমকে গেল- বুকের মধ্যে চাপা দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কেমন আছো তুমি?
এইতো ভালো- কিন্তু এই তোমার সময় হলো? সেই কখন তোমায় ফোন করেছিলাম মনে আছে তোমার? হ্যাঁ মনে আছে বলেই কল করলাম- কিন্তু ঐ সময় কথা বলার মতো অবস্থা ছিল না তাই এখন কল করলাম – সরি – কিছু মনে করোনা ।
ঠিক আছে – মনে করার কিছু নাই – এটা হতেই পারে । তা তুমি কেমন আছো ?
হ্যাঁ এখন ভালো –
এখন ভালো কেন?? তাহলে আগে ভালো ছিলে না বুঝি?
 তা এক কথায় বলতে পারো ভালো ছিলাম না-
কিন্তু কেন ভালো ছিলে না বলা যাবে?
 শঙ্কর নামের একটি ছেলের অসুখ করেছে- চিকিৎসার টাকা নাই- তাই মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল- ঐ ছেলেটার হোটেল থেকে সব সময় চা খাই- ভালো ব্যবহার- ভালো মানুষ – শুধু গরীব এটাই তার অপরাধ- যাক বাদ দাও – এবার বল সারাদিন কেমন কাটলো তোমার? টিভি দেখা বই পড়া আর কী- এই ভাবে কেটে যায় দিন- তোমার কিভাবে কাটে দিন?
আগের দিন বই পড়া মাঝে মাঝে আড্ডা দেওয়া টিভি দেখা গান শোনা মনে মনে মনের মানুষ খোঁজ করা আবিষ্কার করার চেষ্টা করা- এই ভাবে কেটে যেত।
হ্যাঁ আমি ও খুব গান শুনি- বাহ্ অনেক মিল থাকলেও আমি আড্ডা মারি না – মনের মানুষ খুঁজি নাই- তাই আবিষ্কারের ব্যাপারটাই ছিল না । কিন্তু কেটে যেত বললে কেন?
তখন স্বপ্নের মানুষ খুঁজতাম আর এখন স্বপনের মানুষ খুঁজে পেয়েছি- সেটাই কারণ- বুঝলেন?
হি হি হি- সত্যিই কি তুমি খুঁজে পেয়েছো?
একদম খুঁজে পেয়েছি-
তুমি আমায় পেয়ে খুশী?
কোথায় পেলাম?- মাত্র খুঁজে পেয়েছি !
হি হি হি – দুষ্ট কোথাকার-
আমি খুঁজে পাওয়াকেই বুঝিয়েছি- এতো তাড়াতাড়ি পাওয়া লাগবে না --- বুঝলেন??
সে আমি জানি—তুমি এতো সস্তা কিছু নও – সস্তা হলে তুমিও আমাকে পাবে না- ও হিসেব প্রথমেই করেছিলাম--- তাই বুঝি?
একদম তাই—
এখন কয়টা বাজে ঘুমাবে না ?
না ঘুমাবো না –মনের মানুষ কাছে থাকলে ঘুম আসে নাকি আবার-
আমি তোমার কাছে কোথায়? আমি কোথায় আর তুমি কোথায়? তারপরও এতো কাছে মনে হয়?
হ্যাঁ মনে হয়—মনে হচ্ছে তুমি আমার পাশে বসে কথা বলছ- মাঝে মাঝে মনে হয় তুমি আমার কাঁধে মাথা রেখে নিবিড় আপনত্বে ভালবাসার জাল বুনে যাও— সে সাথে আমিও সেই বুননের গিঁটগুলি ঠিক মতো পড়লো কিনা দেখে যাই আপন মনে আর ভালবাসার রঙ ঢেলে দেই সেই বুনন জালের মাঞ্জা দিতে।
 প্রাণ জুড়িয়ে যায় কথা শুনে- জীবনটা কি কখনও এতো সুন্দর প্রাঞ্জল হতে পারে? ভালবাসা্র কথা নয় যেন ভালবাসার সরোবর । তুমি ছুঁয়ে দিলে মন আমার রঙ জাগালে প্রাণে দু’চোখ ভরে দিলে স্বপ্নে, নিঃশ্বাসে কষ্ট বেঁধে দিলে তোমার বিরহে । এই এখন আর কথা বলা যাবে না- এসো লিখি । কেটে দিলাম লাইন বাই ।
 ইস মনে হচ্ছে ভালবাসার নাড়ী কেটে দিয়ে চলে গেল!! একঘণ্টা কথা বললাম কিন্তু কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলাম বুঝতেই পারিনি- সব ভুলে গিয়ে ডুবে গিয়েছিলাম অন্তরার মায়ার বলয়ের প্রেমরসে- যাদুর কন্ঠ কী সুরে গেঁথে গেল হৃদয়ের ভাঁজে ভাঁজে অমরত্বের প্রসাধনী মেখে । জীবনে এই বুঝি ছিল পাওয়া যা অনন্ত যা নিরন্তন তৃষ্ণা মিটেও মেটে না জোয়ার ভাঁটার চিরন্তন খেলা ।
 অনন্ত তুমি আছো?
হ্যাঁ আছি প্রিয়তমা
 হি হি হি – কী ব্যাপার এতো আদর কেন?
কিছু না হলে কী আদরের টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে !!
 তাই বুঝি? তাহলে তার মিষ্টি বরষণের রিমঝিম বাদ্যি শোনাও – একা একা শুনলে তো চলবে না – এখন যে আমি আছি এই অন্তরা- অনন্ত জুড়ে । তুমি যে সম্পর্ক জুড়েছ বিনা সুতোর মালার মতো নাড়ীর সাথে নাড়ীর প্রতিস্থাপনের মধ্যদিয়ে অনুভবের সেতুবন্ধন- তখন তুমি চলে গেলে – সব বুঝেও নাড়ীর টান এড়াতে পারিনি- অস্তিমজ্জা ছুঁয়ে বেদনা মিশ্রণ অস্থিরতা অতিক্রম করে তোমার কাছে ছুটে যেতে মন চায় । বেশ বললে তুমি – অন্তরা যে অনন্ত জুড়ে সে তুমি বুঝে ফেলেছো- শুনে খুব ভালো লাগছে আমার ।
আমি শুধু বুঝিনি, আরও বলতে ইচ্ছে করছে- অন্তরা জুড়ে অনন্ত বলেই অন্তরা অনন্ত জুড়ে । তবুও আমার অনেক দেখার আছে এখনো । যদি বল কী ? আমি বলবো সেটা তোমার চারিপাশ- অন্যকিছু নয় ।
কতটা কাছে এলে হবে হৃদয় সিক্ত?
কতটা পথ হাটলে পাবো সন্ধান সে হৃদয়ের?
স্বপ্নে বাঁধা সংসার এতোদিনের, কতটা রঙ পাবো
ছুঁয়ে দিলে? সিন্ধুকে ভরা হৃদয়ের ভাঁজ কবে দিবে
খুলে? জুড়াবো দু’নয়ন অন্তর ভরে সুধাপানে ।
তুমি জানো না আমার মন কেমন করে? সারাক্ষণ দুই চোখ জুড়ে থাকো আমার, একটু সরে যাও না । জাদুমাখা ঐ মুখখানা কী মায়া মমতা দাও ছড়িয়ে! আমি হিম হয়ে আসি তোমার ভাবনার জ্বরে । ভেতরটা কেমন ক’রে বুঝাতে পারবো না – মনে হয়- না থাক – কেন থাকবে বল না প্লিজ- আমিতো বলতে পারি না, আমার প্রকাশ অনেক কম- তোমার প্রকাশে আমি বেশ মুগ্ধ হয়ে পড়ছি- আমি কী চাই জানো?
 কী চাও?
আমি চাই তোমার কথাগুলির মতো আমায় ভীষণরকম ভালবাসো- আমি যে ভীষণ রকম ভালবাসার কাঙ্গাল । পারবে না আমার শূন্যতা ভরে দিতে ? বলো পারবে না ? কানায় কানায় ভরে দেবে আমার উস্কখুস্ক তৃষ্ণায় উজাড় হওয়া মনটাকে । আমি শামুকমুখী তুমি তার বহিঃপ্রকাশ ।
আমি ও যে এই অমূল্য সম্পদ শুধু তোমার কাছে চাই- তুমি যদি সেই ভালবাসার আদ্রতা না দাও তাহলে আমি জ্বলে যাব- পুড়ে যাব- নিঃস্ব হব- বল তুমি দেবে না আমায় সিক্ত করে?
 আমার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টো আমাকে প্রশ্ন করা? আগে আমার কথার উত্তর চাই । তারপর আমি বলবো । রাগ করছো বুঝি? আমি আমার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাব- ভুল হতে পারে- তুমি ধরিয়ে দিলে আমি সুধ্রে নেব- তবু আমি চিরদিন শুধু তোমাকে চাই- চাই শুধু তোমারই ভালবাসা । সুখে দুঃখে যা কিছু তার সবটুকু তোমার সাথে ভাগাভাগি করে নেব- ‘ভালবাসায় তৃষ্ণার জল তোমার প্রেমে বন্দী চিরদিন সে প্রেমের লেনাদেনা দুটি মনের সন্ধি ।
এই প্রেমে ভরা ভালবাসা আমি দেবো না আর কাউকে’
বাহ্--- কী অনুভবের কথা!!!!
‘তোমার প্রেমে মত্ত আমি
 রবো আমি সাথী হয়ে জনম জনম তোমারই’
 আমার মন এখন কী বলছে জানো?
না জানি না – প্লিজ বলনা কী বলছে ?
এখন তোমার কাছে ছুটে যেতে ইচ্ছে করছে?
 কেন এমন মনে হলো লক্ষীসোনা ?
 ইস এই ভাবে বল না !! আমি এতো আদর সইতে পারবো না –
ঠিক আছে আর বলবো না – তবে তুমি এই গভীর রাতে আমার কাছে ছুটে আসতে এতো ব্যাকুল কেন এখনো বলো নাই কিন্তু –
বলবো না – তুমি বুঝি বোঝ না তাই না? – জানো না নারীর বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না?
বুঝি- আমি তোমার সামনে নেই – লিখে জানাতে সমস্যা কোথায়?
না তাও পারবো না – আমার কাছে মনে হচ্ছে তুমি আমার সামনে বসে কথা বলছ । এই কয়টা বাজে খেয়েল আছে? এখন ঘুমাতে হবে, না হলে ভার্সিটে যেয়ে ঝিমাতে হবে – এখন যাই --- তুমি ভালো থেক ।
 আমি জানি তুমি এটাই করবে- এই ভাবেই তুমি এড়িয়ে যাও – যাও-- আমার ও দিন আসবে—তুমি ঘুমাবে আরামে আমার ঘুম হারাম করে ।
 তাই বুঝি? তোমার ঐ দিন আসতে দিলে তো – তুমি ঘুমালে দেখবে আমি তোমার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি – দেখো অনেক ভালো ঘুম হবে তোমারও – সকালে বলো – আমি ঠিক বলেছিলাম কিনা – তোমার সাথে সাথে তোমার পাশে সারারাত অনুভবের পরশে জড়িয়ে থাকবো । শুভ রাত্রি – বাই ---
 ইস পাগল করে দিলে – আমি কিন্তু এখনি তোমার বাড়ি সামনে চলে আসব !!! হ্যালো- কই তুমি ? এই ভাবে চলে গেলে? হৃদয় জুড়ে আদরের উৎসব রেখে গেলাম তোমার জন্য ।

------- চলবে