Home » » ঠাকুরগাঁওয়ে সূর্যের আলো নির্ভর সেচযন্ত্র উদ্ভাবন

ঠাকুরগাঁওয়ে সূর্যের আলো নির্ভর সেচযন্ত্র উদ্ভাবন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 05 November, 2018 | 11:52:00 PM

আজম রেহমান,ঠাকুরগাঁও ব্যুরো,চিলাহাটি ওয়েব : সূর্যের আলো নির্ভর ভ্রাম্যমান সেচযন্ত্র উদ্ভাবন করেছে ঠাকুরগাঁওয়ের সলেমান আলী।এতে আমন মৌসুমে ডিজেলের দাম বাড়া আর নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তা ঘুচে গেছে । ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার মোলানী গ্রামের সলেমান আলী এক সময় আইপিএস তৈরি করতেন । সৌরবিদ্যুৎ নির্ভর সেচযন্ত্র চালুর পর থেকে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি । দু’বছর পরীক্ষামুলক ভাবে জমিতে সেচ দিয়ে সফলতা পেয়েছেন তিনি ।কৃষকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে তিনি তৈরি করেন সৌর সেচ যন্ত্র । উদ্ভাবক সলেমান আলী জানান,এ যন্ত্র দিয়ে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সেচ দেয়া যায় । সূর্য্যরে তাপ যতই বাড়ে পানির তীব্রতা ততই বাড়ে । ২ হাজার ৫শ ওয়ার্ডের সৌর প্যানেল দিয়ে মিনিটে ৭শ লিটার পানি উঠছে এ পাম্প থেকে। বিভিন্ন জায়গা নিয়ে সেচ দেয়া সম্ভব এই যন্ত্র দিয়ে । বহনযোগ্য বলে সেচ দেয়া যায় ঘুরে ঘুরে। মোবাইলে ফোনে ডাক পেলেই তিনি ভ্র্যাম্যমান সোলার পাম্প নিয়ে ছুটে যান কৃষকদের দোরগোড়ায়। এবার তার দুটি ভ্র্যাম্যমান সেচ পাম্প দিয়ে ১৯ একর জমিতে সেচ দিচ্ছেন এলাকার আমন ধানক্ষেতে । আর নিজের বাড়িতে সোলার বিদ্যুৎ দিয়ে চালাচ্ছে মাছের পোনা উৎপাদন। এই যন্ত্রদিয়ে মাছ চাষে পুকুরে পানি দিচ্ছেন তিনি। আশ-পাশের এলাকার কৃষকরা বলছেন, বিদ্যুত ও ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে প্রতি একরে সেচ খরচ হয় ৮ হাজার টাকা। তাও আবার বিদ্যুতের লোডশেডিং ও শ্যালো মেশিনের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। এতে কখন জমি শুকিয়ে ফেটে যায়, কখনও বা বিবর্ণ হয় ধানের চারা। সে তুলনায় সলেমানের এই সেচযন্ত্র দিয়ে পানি দিতে কৃষকদের খরচ পরছে ৬ হাজার টাকা। এতে সেচ খরচ সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানান তারা। মোলানী,ভেলাজানের কৃষক রফিকুল ইসলাম,ইদ্রিস আলী ও শাহীনুর আলম জানান, সলেমান আলীর সেচযন্ত্রে সুফল পাচ্ছেন তারা। আমন সহ বিভিন্ন ফসলে পানি নিতে পারছেন ইচ্ছে মতো। তাই গত বারের তুলনায় এবার ফলন বেশি পাওয়ার আশা করছেন এই কৃষকরা। ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, পরিবেশ বান্ধব এ প্রযুক্তি সদর উপজেলা ছাড়াও আরো তিন উপজেলায় সেচ সুবিধা নিচ্ছে কৃষকরা। এতে কৃষকদের ফসল উৎপাদন খরচও কমেছে। তিনি আরো জানান,সৌর বিদ্যুতের উদ্ভাবিত এ পাম্প ছড়িয়ে দিলে কৃষকের কমে আসবে উৎপাদন খরচ, বাড়বে ফসল উৎপাদন। তাই সহজ শর্তে ঋণ পেলে এই প্রযুক্তির সেচ পাম্প নিতে আগ্রহী এলাকার কৃষকরা।