Home » » বদরগঞ্জে প্রভাবশালীদের দখলে যমুনেশ্বরী নদীর জলমহল

বদরগঞ্জে প্রভাবশালীদের দখলে যমুনেশ্বরী নদীর জলমহল

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 26 November, 2018 | 10:59:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শংকরপুর বরাইবাড়ী জেলেপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবি মনছার আলী (৫০) সারা বছর নদ-নদীতে মৎস্য শিকার করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। জীবিকার তাগিদে মাছের সন্ধানে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়ে দিনরাত পড়ে থাকেন নদীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তরে। তার মতই এই অঞ্চলে রয়েছে প্রায় ৫শতাধিক জেলে পরিবার। যাদের রোজগারের একমাত্র পথ হচ্ছে নদীতে মৎস্য শিকার করা। কিন্তু বর্ষার পর পরই স্থানীয় প্রভাবশালীরা উপজেলার নাগেরহাট এলাকা থেকে শেখেরহাট এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনেশ্বরী নদীর ২৫ কিলোমিটার এলাকা জলমহল বাঁশঝাড় ও কাঁটা ফেলে দখল করে নেওয়ায় জেলে পরিবারের সদস্যরা এখন মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া স্বয়সম্বলহীন জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে না পেরে পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছে। গতকাল সোমবার যমুনেশ্বরীর নদীর চান্দামারীর ঘাট এলাকায় গেলে চোখে পড়ে বাঁশঝাড় দিয়ে নদী দখলের বাস্তব চিত্র। এ সময় বরাইবাড়ী জেলেপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবি গৌর চন্দ্র (৩৫) জানান, উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনেশ্বরী ও চিকলী নদীর ধারে বসবাস করেন প্রায় ৫শতাধিক পরিবার। যাদের একমাত্র পেশা হচ্ছে মাছ ধরা। কিন্তু নদী অঞ্চলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ব্যবসায়ী মনভাব নিয়ে পুরো নদীতে বাঁশঝাড়, গাছপালা ও কঁাঁটাকুটো দিয়ে নদীর জলমহল দখল করে নেওয়ায় জেলেদের মাছ ধরার পথ এখন বন্ধ হয়ে গেছে। ঢোলক চন্দ্র (৪৫) নামে অপর একজন জেলে জানান, নদী অঞ্চলের জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু প্রভাবশালীরা নিজনিজ দখলীয় নদীরর সিমানায় বাঁশের ফাঁদ তৈরি করে জাল দিয়ে সকল প্রজাতের মাছ ধরে সাবাড় করছে। অথচ, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সেদিকে নজর দিচ্ছেনা। নদীতে মাছ ধরতে না পারলে আমরা কিভাবে পরিবারের মুখে আহার তুলে দিব বলেন? আপনাদের সহযোগীতায় আমরা চাই একটি স্বচ্ছ নদী যেখানে সারা বছর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারি। এ ব্যাপারে এরশাদ ব্রীজ এলাকার প্রভাবশালী মোঃ মতলে উদ্দিন জানান, শুধু আমি একা নই। আমার মত আরো অনেকেই নদীতে বাঁশঝাড় (কঁাঁটা) ফেলে মাছের অভায়ারণ্য বাসস্থান গড়ে তোলার পর জাল ফেলে সমস্থ মাছ ধরে থাকে। আগে অন্যরা নদীতে কঁাঁটা ফেলা বন্ধ করুক তারপর আমিও বন্ধ করব। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ বলেন, নদীতে বাঁশঝাড় ও কাঁটা ফেলা নিষেধাজ্ঞা জারি করে সম্প্রতিকালে নাগেরহাট এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আবারো মাইকিং করা হবে। এরপরেও কেউ নির্দেশ না মানলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।