Home » » প্রধান শিক্ষক হঠাও বিদ্যালয় বাঁচাও

প্রধান শিক্ষক হঠাও বিদ্যালয় বাঁচাও

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 05 November, 2018 | 11:57:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : প্রধান শিক্ষক হঠাও, বিদ্যালয় বাঁচাও। এই শ্লোগান সামনে রেখে রংপুরের বদরগঞ্জে পানারহাট ঘিরনই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ বাণিজ্য ও তার নানা অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও নানা কর্মসুচী পালন করেছে এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার দিনব্যাপী বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এলাকার ৫শতাধিক জনতা একত্রিত হয়ে প্রধান শিক্ষক হঠাও আন্দোলনে নামেন। এ সময় তারা ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঝাড়–মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ, মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানান। পরে বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয়ের সকল কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। জানা গেছে, উপজেলার পানারহাট ঘিরনই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তাক আহম্মেদ সম্প্রতিকালে ৫টি পদে ৫জন প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রায় ৩০লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য বিশাল অংকের এই নিয়োগ বাণিজ্য করলেও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টির এতটুকুও উন্নয়ন হয়নি। যার ফলে এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তাক আহম্মেদ এর বিচারের দাবীতে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ, ঝাড়ু–মিছিল, কুশপুত্তলিকাদাহ ও মানববন্ধন করে। এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ বায়েজিদ বোস্তামি ও শাকিলা খাতুন জানায়, হেড স্যার (প্রধান শিক্ষক) এখানে থাকলে আমরা কাল থেকে স্কুলে আসব না। এসময় অভিভাবক সদস্য জিয়ারুল হক ও বকুল মিয়া সাংবাদিকদের জানান, প্রধান শিক্ষক ৫জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ৩০লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ, অদ্যবধি বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন হয়নি। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি সহ্য করে আসছি। কিন্তু এলাকাবাসীর চাপের মুখে প্রধান শিক্ষকের সাথে একই বিদ্যালয়ে চাকুরী করা দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এখানে থাকলে আমরা সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করতে বাধ্য হব। তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, আমি কোন নিয়োগ বাণিজ্য করিনি। একটি মহল আমাকে বিদ্যালয় থেকে তাড়ানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলে এলাহী বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাশেদুল হক বলেন, অভিযোগকারীদের লিখিত অভিযোগ পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।