Home » » বদরগঞ্জে পুকুরে ও জমিতে সমান তালে প্রয়োগ করা হচ্ছে মুরগীর বিষ্টা

বদরগঞ্জে পুকুরে ও জমিতে সমান তালে প্রয়োগ করা হচ্ছে মুরগীর বিষ্টা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 08 October, 2018 | 11:05:00 PM

আকাশ রহমান,বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের আদর্শ কৃষক লোকমান আলী (৬০)। গত ৩যুগ ধরে জমিতে জৈব সার প্রয়োগ করে ফসল ফলিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন তার জীবনের অনেকগুলো বছর। এখন একই জমিতে প্রতি বছর ৩/৪বার ফসল ফলাতে মহাব্যস্ত থাকেন তিনি। তার নিজের ব্যস্তার মতই এতোটুকুও জিরিয়ে নেওয়ার সময় পায়না জমিগুলো। আগের দিনে জৈব সারের উপর নির্ভর করে বছরে দুই ফসলী জমিতে ভাল ফসল ফললেও বর্তমান সময়ে রাসায়নিক সারের ছোঁয়ায় সেই একই জমির উর্বরতা শক্তি অনেকটা হারিয়ে গেছে। তাই রাসায়নিক সারের পাশাপাশি তাকে জৈব সার প্রয়োগ করতে হয় সমান তালে। কিন্তু নানা প্রতিকুলতায় রংপুরের বদরগঞ্জে জৈব সারের সংকট দেখা দেয়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে জমিতে প্রয়োগ করছেন পরিবেশ দুষণকারী মুরগীর বিষ্টা। হাটবাজারের কাছাকাছি কিংবা লোকালয়ের ঘেঁসা জমিগুলোতে এই বিষ্টা প্রয়োগের ফলে বাতাসের মাধ্যমে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে নির্মল পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, বদরগঞ্জ পৌরশহর সহ তার আশেপাশের এলাকায় লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগীর একাধিক ফার্ম রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই রাতারাতি গড়ে ওঠা এসব ফার্মের মালিক উপজেলার কৃষকদের কাছে সুলভ মুল্যে বিক্রি করছেন এই মুরগীর বিষ্টা (লিটার)। ফলে চাষীরা জৈব সারের বিকল্প হিসেবে ফসলী জমিতে প্রয়োগ করছেন বিষ্টা। পাশাপাশি মৎস্য চাষীরাও পুকুর ডোবাতেও অনায়াসে প্রয়োগ করছেন পরিবেশ দুষণকারী বিষ্টা। যার ফলে জল ও স্থলের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অসচেতন কৃষকরা ফার্ম থেকে মুরগীর কাঁচা বিষ্টার বস্তা সংগ্রহ করার পর সেগুলো শুকিয়ে ব্যবহারের উপযোগী করতে দুই তিন সপ্তাহব্যাপী সড়কের ধারে রোদে রেখে দেন। এতে করে মুরগীর বিষ্টার দুর্গন্ধে এলাকাবাসী ও পথচারীরা বিড়ম্বনার শিকার হয়ে থাকে। গতকাল সোমবার বদরগঞ্জ-নাগেরহাট সড়কের কাঁচাবাড়ী চৌপথিরহাট এলাকায় গেলে চোখে পড়ে সেখানকার জনৈক কৃষক জমিতে প্রয়োগ করার জন্য দুই ডজন বিষ্টার বস্তা নিয়ে এসে সড়কের ধারে শুকাতে দিয়েছেন। তাই ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন প্রকার যানবাহনের যাত্রী, পথচারী ও স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নাকের রুমাল দিয়ে চলাচল করছেন। এ সময় ওই এলাকার মাহফুজার রহমান নামে একজন ভ্যান চালক জানান, এই অঞ্চলের কিছু কৃষক ও মৎস্যচাষীরা প্রায় সময় বিষ্টার বস্তা এনে রাস্তার ধারে রাখেন। যার ফলে দুর্গন্ধে চলাচল করা দুষ্কও হয়ে পড়ে। এপ্রসঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, গোবর সার সংকটের কারণে আমরা জমিতে মুরগীর বিষ্টা প্রয়োগ করে থাকি। এতে করে পরিবেশ দুষিত হলেও আমাদের কিছু করার নেই। তাছাড়া মাছের খাদ্যের মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারীরা সল্পমুল্যে মুরগীর বিষ্টা কিনে এনে পুকুরে প্রয়োগ করছেন। এ সময় জেনারেল ভুট্র নামে একজন ব্যক্তি বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সচেতন হলে মৎস্যচাষীরা কখনো পুকুরে মুরগীর বিষ্টা প্রয়োগ করে স্বচ্ছ পানি দুষিত করার সাহস পেতেন না। বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ওমর ফারুক মোবাইল ফোনে বলেন, মুরগীর বিষ্টা পুকুরে ব্যবহার করা যাবেনা। তবে এই বিষ্টা সাবধানের সহিত জমিতে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও বিষ্টা অপব্যবহারের ব্যাপারে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, যে ইউনিয়নে বিষ্টার অপব্যবহার করা হবে ওই ইউনিয়ন পরিষদেই লিখিত অভিযোগ করতে হবে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে পুকুরে মুরগীর বিষ্টা প্রয়োগের ব্যাপারে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পানেনি।