Home » » অনন্ত- অন্তরা >> (নবম পর্ব)

অনন্ত- অন্তরা >> (নবম পর্ব)

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 03 October, 2018 | 11:16:00 AM


























 = সৈয়দ মিজানুর রহমান =

অন্তরা বিদায় নিল ঠিক, অন্তরে রয়ে গেল অনন্ত- কী এক অবিদিত আগামী ছুঁয়ে যাবে বুঝতেই আঁতকে ওঠা অনুরণন শিহরণ রাতের আঁধার চিরে জাপটে ধরে আছড়ে পড়ে আঁধার সমুদ্রের জল ।
প্রশ্ন জেগে ওঠে বারবার এতোদিনের প্রত্যয় কিসের বদৌলতে শান্ত হয়ে যাবে? সে কি নীরব ঘাতক? নাকি ভুলিয়ে ভালিয়ে গোলক ধাঁধার চক্ররে!! নাকি পবিত্র প্রেম বলয়ে? হৃদয়ের মধ্যখানে তুমুল ঝড় বইছে বাস্তবতা আর নিগুঢ় অনুভব মিশ্রিত প্রেমের টানাপোড়ন, সব যেন ভুলে যাচ্ছে- সুনামির ছোবলে বাস্তবতার হাজারো প্রশ্ন নিমিষে মিটিয়ে দিলো ভালবাসার মরণ টানে । জীবন বড় তুচ্ছ হয়ে উঠছে কী মায়ার নিরবচ্ছিন্ন টানে এই বুঝি সেই- সেই বুঝি এই যাকে হৃদয়ে রেখেছি পুষে!!! মনে মনে বলতে বলেতে অশ্রুর নোনাজল বালিশ ছুঁয়ে নীরবে সাক্ষী হয়ে রইল । একটি লম্বা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মোবাইলে গানটা “ তুহ মেরা হ্যায় সানাম- তুহি মেরা হামদাম-তেরে সাঙ্গে জিনা আ’ব সাতজনম” শুনতে শুনতে বরফগলা নদী ঘুমের দেশে চলল অবোলা মায়ামুখ আঁধারের কোলে শুয়ে ।
 এক রানীর রাজত্বে আমি অধম পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়ে পড়েছি, যেন আমি সর্বতোভাবে বাঁধা পড়ে গেছে তার হৃদয়ে কোন্ খানে!!! একই প্রশ্ন বারবার- কী বলতে চায় সে? আমি না জেনে ভালবেসে ফেলেছি- সেই অপরাধের কী শাস্তি হবে কাল? আমি তো নতুন করে অপরাধ করতে পারবো না- আমার ভালবাসা আমার হৃদয়ের গভীরে জলে ভেজা থাক আলোর সম্মুখে আসতে চাইনা ।
তুমি থাকো তোমার রাজ্য নিয়ে,
আমি থাকবো আমার ছোট গাঁয়ে ।
তুমি মহারানী-
আমার স্বপ্নের রানী সেতো অন্য কোথাও!
 রবে সে মন-প্রাণ জুড়ে হৃদয়ের মধ্যখানে ।
উন্মুক্ত আকাশে- সমুদ্রের বিশালতায়-
 প্রকৃতির রূপে- প্রজাপতির রঙিনডানায়-
ফুলের পাপড়ির মুখরিত সুবাসে-
পাখির কলরবে- জলের জলকেলি-
পাহাড়ের ঝর্ণা ধারায়-
রামধনুর সাজে খুঁজে নেব তাকে ।
একদিকে ভালবাসা অন্যদিকে বাস্তবতা ভাবনাকে জমাট বেঁধে দিয়েছে, কোনকিছু ঠিকঠাক ভাবতে পারছে না কী জানি কোন্ চোরাগলিতে পথ হারিয়ে এক দিশাহারা পথিক ভালবাসার ঝোলাঝুলি খুঁজে বেড়াচ্ছে । ধূয়াময় এক রুমে পরিণত- প্যাকেটে হাত দিয়ে দেখে অবশিষ্ট একটিও নেই!! নিরুপায় হয়ে শুয়ে পড়লো ধূয়ার চাঁদর মুড়ে । কেন যেন সে আশার আলো বারবার ক্ষীণ হয়ে আসছে ছুঁয়ে দেখতে পারছে না স্বপ্ন ছোঁয়া প্রেমের অনাবিল আনন্দ ভালবাসার নিগুঢ় অনুভব । শুধু একটি প্রশ্ন কেন এমন দেখা? আবার ভাবছে কিছু শব্দের মতো- সবুজবাতির অনুভবের মতো ভাবনার রূপালী চাঁদ যদি বাস্তবায় সম্মুখে আসে- আসুক না – খুলে দেই বন্ধ দুয়ার, দক্ষিণা হাওয়া আসুক না- না হয় জীবনের পূঁজি মায়া কস্তুরী গন্ধ নিয়েই বিদায় নেব বাকী জীবনের রসদ নিয়ে । বুঁদ বুঁদ করে ডুবে যেতে লাগলো অনন্ত তার নিজেস্ব জগতে- সবুজমাঠ হয়ে গিয়েছে বরফসাদা তুলোর মতো উড়ছে তখন জলকণা তুষারের ছদ্মবেশে, তেমন কাউকে দেখছি না আসেপাশে শুধু আছে আমার কাছাকাছি রূপসীকন্যা আর আমি পিয়াসী হৃদয় টকবক ভরা যৌবনে কপোত-কপোতী দুটি হাতের একি বন্ধনে খুব কাছাকাছি উষ্ণতা অনুভবে মুখ ফিরে অপলক দৃষ্টিতে রয় তাকিয়ে- কী অপরূপ সাজে সেজেছে বন্ধুর আমার!! সাদা রঙের high length boots, চকলেট কালারের স্কিন টাইট জিন্স, সাদা T-Shirt সাথে কালো লেদার জ্যাকেট, গলায় জড়িয়ে আছে হালকা ওজনের সোনার চেইন সেই সাথে পদ্মনীলা লকেটটা লেপ্টে আছে বুকে- diamond stud, diamond nose star, diamond solitaire তর্জনীতে জ্বলজ্বল করছে- হাতে অকৃত্রিম Friendship Band বন্ধনে এক মায়া সৃষ্টি করেছে!!! উঠে দাঁড়িয়ে ওকে গোলাপী সিল্কের একটি স্কার্ভ উপহার দিলাম ও কোন চিন্তা না করে মুচকি হেসে নিজেই গলায় বেঁধে নিল- আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম তোমার এই পোশাকে আমার দেওয়া রঙ কতটুকু যায়? না বুঝেই বেঁধে নিলে? আবার মুচকি হেসে বলে ওঠলো সব রঙ হারমালো এই মাত্র তোমার দেওয়া রঙে— বলেই টেনে নিলো আমাকে- নাকে নাক মিশিয়ে বলল এতো রঙ যেখানে ভালবাসায় আর কিছু না
বালিকা-
চল যাই পালিয়ে অন্য কোথাও
অন্য কোন খানে-
যেখানে রবো শুধু দু’জনে
ভালবাসা বাসি
ভাগাভাগি করে নেব দুজনে ।
তুষারি সোফেদ নির্জন পরিবেশটিকে প্রেয়সী আমার মুক্তো ঝরাল খিলখিল হাসির বানে- আঁখিদুটি কতটা আবেদনময়ী হয়ে উঠছে যেন একসমুদ্র মায়াভরা প্রেমময়ী ভালবাসায় হাত বুলিয়ে দিয়ে গেল মনে মনে!! তৃষ্ণার বুক স্বস্তি ফিরে পেলে প্রশান্তির শীতল জলে আবেগী মন
উতলে উঠলো সে ভালবাসার ছলে-
চোখে চোখে চোখাচুখি- ইশারায় !
দে ছুট পঙ্খীরাজ কন্যা নিরুদ্দেশে্র পানে
পরাণের পাখি ছুটে চলে মোরে ছেড়ে,
আমি কি থাকিতে পারি দাঁড়িয়ে?
দে ছুট পিছে পিছে !!
দৌড়ের পর দৌড় অনেক দূর দৌড়-
 এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে
যেন এক বিজয়ী উল্লাসে দুটি মনের দেখাদেখি ।
হাঁপাতে হাঁপাতে ঝুপ করে পড়লো বসে নন্দিনী,
 প্রকৃতি সাজাতে লাগলো তুলো উড়া তুষারপাতে
 ঝাপসা হয়ে এলো তুষারের নোলক পরে
কালো জ্যাকেট আধো সাদা – উলের টুপি গোপালী
 যেন হাওয়াই মিঠাই – কেঁপে কেঁপে উঠছে ঠোঁট
শীতল জলকণায়!!!
আমিও ঝুপ- টুপ করে গা ঘেঁষে পড়লাম বসে
বাহু ডোরে নিলেম জড়িয়ে কী নিগুঢ় ঠাঁসাঠাসি
আদরে, পরাণপাখি মোর জড়িয়ে বুকের গভীরে ।
ঘুম ভেঙ্গে গেল- ঘড়ি দেখি সকাল আটটা – কী মধুর স্বপ্নে বিভোর ভাবতেই মনটা ফুরফুরে হয়ে উঠলো- উঠে গুনগুন গানে গানে ফ্রেস হলাম বরাবরের মতো- সন্ধ্যাকে নিয়ে ইউনিভার্সিটতে ১০টার মধ্যে পৌছিয়ে গেল- ওহ মাই গড – নেটতো অন করার কথাছিল – তাড়াতাড়ি নেট অন করলাম – সন্ধ্যাকে নামিয়ে দিয়ে আমি চললাম মধুর কেন্টিনের দিকে । যাতে যেতে সিগারেট খেয়ে নিলাম দুইটা- ব্যাস নেমে পড়লাম রিক্সা থেকে সোজা ক্যান্টিনে ডুকে পড়লাম, কিছুক্ষন পর একটি ম্যাসেজ হ্যালো-
আমি লিখলাম HI
kemon achen ?
Ji valo achi
Apni kemon achen ?
 Ji valo- kothai apni ?
Modhur kentine-----
Oh, shunun ami apnake location pathacchi , location follow kore chole asun kemon. Thik ache .
লোকেশন পেল- ফলো করে ঠিক পৌছে গেল- ঠিক ওখান থেকে মেইন রাস্তার ঐপারে একটু ভেতরে বেশ সুন্দর ছায়ামাখা একটি গাছের তলায় একা দাঁড়িয়ে আছে অন্যদিক মুখ করে ।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বুঝি আমাদের প্রথম সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে এখন- মনে হচ্ছে নীলপরী দাঁড়িয়ে আছে, আমি যেন জমে গেলাম, কদম আমার সামনে যাচ্ছে না – দাঁড়িয়ে লিখলাম ম্যাসেঞ্জারে- আপনি কী ড্রেস পরে এসেছেন?
নীল শাড়ী
ওকে আমি আপনাকে দেখেছি-
 তাহলে আসুন আমি অপেক্ষা করছি-
আমি এক পা দু-পায়ে এগুচ্ছি আর লিখছি
 হ্যাঁ আমি আসছি – আপনি ঐদিকে মুখ ফিরে তাকিয়ে আছেন কেন? আমি তো আপনার পিছন দিক দিয়ে আসছি ।
তাই বুঝি? আসুন না প্লিজ—আমি ঘুরে তাকাতে পারবো না --

==== চলবে>>>>