Home » » অনন্ত- অন্তরা >> একাদশ পর্ব

অনন্ত- অন্তরা >> একাদশ পর্ব

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 25 October, 2018 | 1:34:00 AM

























>> সৈয়দ মিজানুর রহমান << 

হঠাৎ করে মাথায় খেলে গেল আর আপনি নয়,,, যাকে মনে মনে যাপিত জীবনে তুমি বলে সম্মোধন করে এসেছি- মনের ঘরে খিল দিয়ে দু’জন দু’জনায় প্রেমের তুফানে বেপরোয়া ঢেউয়ের ঠোটে দু’জনে বসেছি পাশাপাশি, মুখ ঘুরিয়ে মুখোমুখি আঁখির তারায় প্রনয়ের সপ্ত ডিঙিতে ভাসেছি হৃদয়কম্পনে বাদ্যিযন্ত্র বেজে উঠেছে বিরহ যন্ত্রনা ভুলবার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে একটু ছুয়ে দেখা সাবলিল তোমাকে নিরেট তোমারই গন্ধ খুঁজে নেই লম্বা টানে মস্তিস্ক হয়ে পরাণে বোবা কথার ডালি সাজিয়ে হাতে হাত আদুরে নিবিড় বন্ধনে জড়াজড়ি এপিট-ওপিট দু’টিহাত না-বলা কথায় চুড়ির রিনিঝিনি মিষ্টি আওয়াজ, প্রস্থত কাঁধে মাথা রেখে অনন্ত প্রেমের নহরে ভাসি মন পবনের বৈঠা বেয়ে। সেই মানুষটি ধরা দিয়েছে প্রেয়সী বেশে রেশমি ওড়নার আড়ালে আবছা শরম-নরম মুখখানি। আর যে তর সইছে না কিভাবে বলি?- কিন্তু বলতেই যে হবে- তুমি- শুধু তুমি - স্রেফ একজন “জনম তুমি”
মনের এই কথাটা কিভাবে বোবা শব্দ থেকে সবাক হল " তুমি শুধু তুমি" ঠিক বুঝে ওঠার পূর্বেই অন্তরা কথা ধরে তুমি কথার চালান পাঠাল সম্মোধনে অনন্তকে । অধির আগ্রহে এক পায়ে নুপুর পরে আপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিল এমন একটি তুমি শব্দের প্রতীক্ষায় ।
অনন্ত তুমি আমায় একা বসিয়ে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলে? যখন ফিরে এলে তখন তুমি নিয়ে ফিরে এলে আমার কাছে--- কী ভাবছিলে তুমি?
আমি আপনি থেকে বিদায় নিয়ে তোমার কাছে গিয়েছিলাম তুমি বলে বরণ করে নিতে। সেই বরণ উৎসবে যখন বলে উঠি আমার অজান্তে “তুমি শুধু তুমি” ঠিক তখনি তুমি নরম হাতে ছড়ি বেহালার সারিবদ্ধ তারে সুর তুললে তুমি উজ্জাপনে। অপেক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে তুমির আপনত্বে মেঘের ভেলায় বরষণের নরম ফোঁটায় ভিজিয়ে ভালবাসায় সিক্ত করে প্রেম জোয়ারে ভাসালে ।
লজ্জায় লাল হয়ে কাঁপা কণ্ঠে জড়ানো কথা বলে উঠলো তাই বুঝি?
আমি অবুজ বালকের মতো ফ্যালফ্যাল করে ওড়নার আড়ালের অন্তরাকে নিবিড় ভাবে পরখ করে করে শতজনমের প্রেম অনুভব করছিলাম- দুধে-আলতায় এক অপূর্ব রঙা ভাসা ভাসা আয়াত আঁখির পলক পড়তেই বুকের মধ্যে কেমন করে উঠলো!! বুদবুদ শব্দে স্বপ্নলোকের সংসারে বুঁদ হয়ে গেলাম কিছুক্ষনের জন্য- আবার মহোনীয় মোহের ভালবাসায় ডাগর চোখে- চোখ মেলে ধরলাম প্রেয়োসীর মুখে, মুখ একটু ফিরাতেই নোলক পড়লো চোখে- এক অনুপমা অপরূপ নোলকি মুখশ্রী হৃদয়ের শিকড় ধরে ঝাঁকি দিলো! এই বুঝি সেই প্রেম- যে প্রেম জেগে স্বপ্ন দেখছি যাপিত জীবনে ।
তুমি তো বেশ গুছিয়ে কথা লিখতে নয় বলতেও পারো দেখছি-
‘তোমার কোথায় যে বেঁধে গিয়েছে মন আমার
 গেঁথে গিয়েছে কোন্ কাটায়?
গোলাপ জানে- আমি জানি না ।
ধিকিধিকি আগুন জ্বলে
জলোচ্ছ্বাসে বসন্তপ্রেম আসে ধেয়ে ।
তুমি বিহনে উতলা মন ঘরে যে আর রয় না,
 ভালবাসার আক্ষেপ করেছি নজরবন্দী-
 বেসে গেছি নিগুঢ় ভালো হৃদয়ের রেখাপথ ধরে,
ঝরাপাতা ধুলো পড়া আস্তর সে পথ গেছে বেয়ে
জরাজীর্ণর হাত ধরে, একটুখানি বসন্তের হাওয়া
আর একটু ঝুম বরষণের মেঘ পারে ধুয়ে দিতে
তোমার দেখানো পথ । নিটল স্বচ্ছ পথ ধরে
আমি যে পৌছাতে চাই তোমার ঐ হৃদয় মন্দিরে ।
 অনন্তর ফোন বেজে উঠলো, সন্ধ্যা ফোন করেছে- অন্তরার অনুমতি চেয়ে কল রিসিভ করলো ।
 হ্যালো – হ্যাঁ বলছি- সন্ধ্যা- তুই কোথায়?
এইতো আমার ক্লাস আজকে আর হচ্ছে না –
কেন হচ্ছে না?
সে অনেক কথা রাজনীতি বুঝলিনা! সাক্ষাতে বলব । আমার অনেক ক্ষুধা লেগেছে খাবো তুই তাড়াতাড়ি আয় । আজ বাইরে খাবো । যেখান থেকে প্রতিদিন রিক্সায় উঠি ঠিক ওখানে ৩৫ মিনিট পর তোকে দেখতে চাই ।ঠিক আছে?
ওকে ভয়ংকর --- এবার রাখ – একটু দেরী হলে নিজগুনে ক্ষমা করে দিস লক্ষীবন্ধু ।
অনন্তর কথা শুনে অন্তরা হেসে হেসে ক্ষুণ- ভয়ংকর!! আবার লক্ষীবন্ধু বলছে আর হেসে চলেছে ।
অনন্ত তোমরা দু’জন খুব ক্লোজ এটা আমি আগেই বুঝেছিলাম- আজ তোমার কথা শুনে খুব বুঝলাম ।
কী যেন তোমার বন্ধুর নাম?
সন্ধ্যা ওর নাম- অনেক ভালো অনেক জ্বালায় –
 তাই বুঝি- এরপর আমার জ্বালা নিতে পারবে তো? যাক সে কথা- তোমার সন্ধ্যা কী বলল সেটা বলা যাবে আমাকে? কেন বলা যাবে না? আলবৎ বলা যাবে- ও থাকবে তোমার আমার সম্পর্কের সেতু বন্ধন হয়ে- ও আমার খুনসুটে বন্ধু তুমি আমার হৃদয়ের উষ্ণতা- তৃষ্ণার জল । তোমার আমার যাপিত জীবনে সন্ধ্যা থাকবে বন্ধুত্বের শ্রেষ্ট উপমা হয়ে । সন্ধ্যা রুটিন মাফিক ক্লাস ছিল কিন্তু রাজনৈতিক কুটিলতায় ক্লাস বর্জন- কিছু সংখ্যক নেতা কর্মীর শক্তির কাছে জিম্মি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী- কী আর করার? নিরুপায় হয়ে আমাকে ডেকেছে ওর নাকি খুব ক্ষুধা পেয়েছে তাই আমাকে নিয়ে বাইরে কোথাও যেয়ে খাবে , ৩৫ মিনিট সময় বেঁধে দিয়েছে । ওহ- আচ্ছা, আচ্ছা- নিশ্চয় যেতে হবে
 চলো তুমি আমার সাথে- তোমাকে আজ সন্ধ্যার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো, কী বল?
আজ নয় অন্য কোন একদিন তোমার বন্ধুকে দেখবো-
 আজ চল না?
এই ভাবে না- তোমার বন্ধু বলে কথা একটু সাজুগুজু না করে দেখা করা যাবে না । প্লিজ আমার কথা বুঝতে চেষ্টা কর ! ওকে তোমার কথা মনে নিলাম –
হি হি হি – তুমি বেশ বললে অনন্ত । আজ রাত কয়টায় নেটে আসবে? ঠিক একি সময়ে আমি তোমাকে পেতে চাই । এটাই তোমার জ্বালানোর প্রথম শুরু তাই না ? হা হা হা- আমি তার আগেই আসবো তোমার গন্ধ নিতে ।
 এতো দূর থেকে?
হ্যাঁ এটা আমি পাই, সেই সবুজ বাতির প্রথম দিন থেকে, তুমি এসো তোমার সময়ে- আমি আছি তোমার হৃদয় আঙ্গিনায় । চলো সামনের দিকে যাই- ঐ যে ডাব দেখা যায়, ডাব খাবো চলো-
না না থাক – এখন আর নয়- তুমি যাও- ওহ হ্যাঁ তোমার মোবাইল নম্বরটা আমাকে ইনবক্স করো কিন্তু।
আচ্ছা- করবো, তোমার নম্বরটাও দিও ।
দিয়ে রেখেছি- নিয়ে নিও-
 তোমাকে এক নজর তোমার সম্পূর্ণ মুখখানি দেখতে চাই, দেবে একবার দেখতে?
আজ নয় তুমি ও সন্ধ্যা এক সংগে একি সময় আমাকে তোমার মতো করে দেখবে । এটাই আমার ইচ্ছে – নিশ্চয় মনে নিয়েছ? হি হি হি –
থাক তাহলে- তোমার কথা মেনে নিলাম- মনেও নিলাম ।
ধন্যবাদ তোমাকে অনন্ত- এবার আসি- তুমি সাবধানে যেও- আল্লাহ হাফেজ ।
তুমি ও – আল্লাহ হাফেজ ।
“দু’টি হৃদয়ে প্রশান্তির মিষ্টিগন্ধ
বিপরীত মেরুর আকর্ষণে ডানা
মেলে উড়ছিল অন্তরে অন্তরে ।
বিদায় নিতেই মন খারাপের
মেলা গেল বসে সে অন্তরের প্রাঙ্গণে
 বিমুগ্ধতায় ছায়া পড়ে গেল বিমূর্ষতার ছোঁয়ায় ।
এক পা দু’পা করে যায় যে দূরত্বে হেটে
তবু মন ফিরে দেখে নজরবন্দী করে ।
তুমি মন সে তো প্রিয়জন
জানে অন্তর্যামী”
“মনে হচ্ছিল দৌড়ে যেয়ে হাত ধরি!
বলি তুমি যেও না-
 আরো একটু খানি যাও থেকে- 
বসে যাও মোর পাশে ।
 তোমায় যে এখনো একটি বার
পরাণ ভরে দেখা হয়নি”
যে নাহি দেব হায়- তবু যেতে দিতে হয়- তবু চলে যায় ।
এর মধ্যে আবার ফোন বেজে ওঠলো – কিন্তু ফোন ধরল না, বেজেই চলল- মিনিট খানিকের মধ্যে সন্ধ্যার কাছে যেয়ে বলল এবার কল দেওয়া বন্ধ কর । একবার শুরু হলে আর থামার নাম পর্যন্ত থাকে না । কথা শুনে সন্ধ্যা আঁতকে উঠলো –
এই তুই এইভাবে বললি কেন? আমি যে আঁতকে ওঠলাম, ভয় পেলাম!! তুই এইগুলি বুঝিস না? এরপর থেকে তুই এমন করবিনা কখনও- বলে রাখলাম । এখনও আমার বুকের মধ্যে ধড়ফড় করছে- উফ --- তোরে নিয়ে আর পারি না –
সত্যি কি বুকের মধ্যে ধড়ফড় করছে?
হ্যাঁ করছে তো!
আমার মনে হয় তুই আমার সাথে জোক করছিস-
আরে না – সত্যি বলছি –
ধ্যাত্ আমার বিশ্বাস হচ্ছে না –
এখন কিন্তু আমার রাগ হচ্ছে-
 তাহলে এদিক আয়-
কেন?
আমাকে সেই ধড়ফড় শব্দ শুনতে দে- শুনতে না দিলে বিশ্বাস করবো না ।
হুম- বুঝেছি – এখন কমে গিয়েছে- এরপর আবার হলে তোকে শুনতে দেবো – কিন্তু তোর দুর্ভাগ্য কারণ এরপর থেকে তোর এটা করা নিষেধ হয়ে গিয়েছে । বেচারা ----
তাহলে যেটুকু আছে সেইটুকু শুনি –
হইছে--- এখন আর শোনা লাগবে না – তুইতো দেখছি দিনদিন দুষ্টু হয়ে যাচ্ছি – বুঝছি তোর বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে । হা হা হা – তুই এতো বুঝিস কিভাবে? মানুষ না খুঁজে কী আর বিয়ে – তা হয় না – একটা মানুষ তুই আজো খুঁজে দিলি না – আহারে! কী কষ্টরে আমার পরাণের বন্ধুর- আমি সব গুছিয়ে দেবো আর উনি চুকিয়ে প্রেম সোহাগ করবে!!! ক্যান তোর এই যোগ্যতাটুকুও নাই – একটা মেয়েকে আজ পর্যন্ত পটাতে পারলিনা – আর কয়দিন পর তোকে প্রেমের আটকুরা খেতাব দেবে – তখন কিন্তু আমার দোষ দিতে পারবি না ।
 যদি আটকুরা খেটাব ঘুচাতে পারি তাহলে তুই কী করবি আমার জন্য? যদি জাতির উদ্দেশ্যে কিছু বলতিস তাহলে জাতি আজ ধন্য হয়ে যেতে । তাহলে শুরু হোক- ক্যামেরা রেডি – ওয়ান, টু, থ্রী ---
এই তুই থামবি- আগে কর তারপর দেখিস আমি কী করি- আমি তোর মত ফটফট করি না – কাজে দেখিয়ে দেই ।
ওকে মহামান্য- মেনে নিলাম – দেখিয়ে দেবো আমিও – এই বলে রাখলাম । চল এবার যাই- ক্ষুধায় পেট চো চো করছে ।
 দু’জনের খুনসুটি চলতে চলতে রিক্সায় পৌছে গেল KFC তে – ভাড়া নিয়ে আবার শুরু হলো- সন্ধ্যা ভাড়া দেবে না কারন হিসেবে দাঁড় করালো আমি তোকে খাওয়াব তুই যাতায়াত ভাড়া দিবি । অনন্তের যুক্তি তুই যখন স্বেচ্ছায় আমাকে খেতে ডেকেছিস তুই সব খরচ বেয়ার করবি । কে কার কথা শোনে বরাবরের মত ইচ্ছে করে হেরে যায় অনন্ত ।
ভাড়া দিয়ে দিলাম মনে রাখিস- আমার বেলায় আবার এই একই নিয়ম যেন উল্টে না যায় ।
সে দেখা যাবে- চল যাই ভেতরে –
ওকে-চল- মাথা হট হয়ে আছে- এসির হাওয়ায় মাথা ঠিক করতে হবে ।
ভেতরে ডুকে চুপচাপ বসে বুকের দুটো বোতাম খুলে হেলান দিয়ে রিলাক্স মুডে বসে এসির হাওয়ার সাথে সখ্যতা গড়ছে – ঐ দিকে সন্ধ্যা খাবারের অর্ডার নিয়ে ব্যস্ত-
এই তুই কী খাবি তোর অর্ডার তুই দে-
 তুই যা খাবি আমি তাই খাবো –
খাবার ব্যাপারেও নিজের কোন ইচ্ছে বা পছন্দ নাই- ওকে ঠিক আছে – ওকে এই একই অর্ডার সেও খাবে তাহলে বুঝতেই পারছেন? জ্বী – আপনারা একটু ওয়েট করুণ আমি দেখছি । থ্যাং ইউ ম্যাডাম ।
ওয়েলকাম –-------

>>>>>>>> চলবে