Home » » বদরগঞ্জের স্থলে ভেদরগঞ্জ হওয়ায় বিপাকে হিন্দুধর্মাবলম্বি শিক্ষক-কর্মচারিরা

বদরগঞ্জের স্থলে ভেদরগঞ্জ হওয়ায় বিপাকে হিন্দুধর্মাবলম্বি শিক্ষক-কর্মচারিরা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 15 October, 2018 | 11:57:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে এমপিও সীট না আসায় অর্থাভাবে পুজা করতে পারছেন না উপজেলার বে-সরকারি ৮৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হিন্দু ধর্মাবলম্বি শিক্ষক কর্মচারিরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভের শেষ নেই। জানা যায়, সরকার স্বাভাবিক নিয়মে প্রতি মাসে এমপিও সীটের মাধ্যমে বেতন ভাতা ছাড় দেন। এ জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে এমপিও সীট জমা হয় সোনালী ব্যাংকে। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান হতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ ব্যাংকে গিয়ে শিক্ষক-কর্মচারিদের নামের তালিকা জমা সাপেক্ষে বেতন ভাতা উত্তোলন করেন। চলতি মাসের শিক্ষক কর্মচারিদের (সেপ্টেম্বর) বেতন ভাতা উত্তোলনের শেষ তারিখ নির্ধারিত ছিল ৯অক্টোবর। কিন্তু ৬দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও বদরগঞ্জ উপজেলার বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারিরা বেতন ভাতা উত্তোলন করতে পারেনি। উপজেলার প্রায় প্রতিটি বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিন্দুধর্মাবলম্বি শিক্ষক-কর্মচারি রয়েছেন। পুজার আগে বেতন বোনাস না হওয়ায় তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। সরেজমিনে গতকাল সোমবার (১৫অক্টোবর) সকালে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, হিন্দু ধমার্বলম্বি বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারিদের আহাজারির চিত্র। বদরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে কোন এমপিও সীট এখন পর্যন্ত আসেনি। তবে বদরগঞ্জের এমপিও সীট ভুলক্রমে শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জে চলে গেছে। বেতন বোনাস তুলতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের কর্মচারি নগেন মহন্ত জানান, প্রতিবছর পুজার আগে বেতন হয়। এবার নাকি বদরগঞ্জের স্থলে ভেদরগঞ্জ হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বেতন দিচ্ছেন না। এখন আমরা কিভাবে পুজা করবো। তিনি আরও জানান, আমার স্ত্রী বদরগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকুরি করেন। ভেবেছিলাম দু-জনের বেতন বোনাস তুলে পুজার যাবতীয় খরচ করবো। এখন তো দেখছি আমার পুজা করাই হবে না। এরপর কথা হয় খিয়ারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি সন্তোষ রায়ের সাথে,তিনি জানান, পুজার আগে বেতন বোনাস তুলতে না পেরে কিভাবে বাড়ির সকলের নতুন জামা কাপড় সহ পুজার যাবতীয় খরচ করবো, এ নিয়ে চিন্তায় আছি। পুজাটাই মাটি হয়ে গেল। উপজেলার খিয়ারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, হিন্দুধমার্বলম্বিদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপুজা। আর তাতেই যদি তারা বেতন বোনাস না পায় এটা অমানবিক। বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান, পুজার আগে বেতন বোনাস না হওয়ার বিষয়টি অমানবিক। তবে আমি ব্যাংক ম্যানেজারকে অনুরোধ করেছি প্রযুক্তির যুগে দ্রততম সময়ে বিষয়টির সমাধান করার জন্য। বদরগঞ্জ সোনালি ব্যাংক ম্যানেজার সামিউল হাসান জানান, ব্যাংকে গোটা উপজেলার বে-সরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের এমপিও সীট এখনও আসেনি। তবে আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, বদরগঞ্জের এমপিও সীট নাকি শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জে চলে গিয়েছে। আমি চেষ্টা করছি যাতে দ্রত সময়ে বিষয়টির সুরাহা করা যায়।