Home » » সুন্দরগঞ্জের দুই রিক্সা চালকের মেধাবি সন্তানের গল্প

সুন্দরগঞ্জের দুই রিক্সা চালকের মেধাবি সন্তানের গল্প

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 14 October, 2018 | 11:16:00 PM

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : ২০১৮ সালে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে উর্ত্তীণ হয়ে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পূর্ব ছাপড়হাটী গ্রামের রিক্সা চালক আলম মিয়া ছেলে। মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও ভর্তি ফি এবং কোর্স সম্পন্ন করতে খরচ যোগানের ব্যাপারে হিমসিম খাচ্ছে তার পরিবার। অনেকে ভর্তি ফি প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করলেও কোর্স সুম্পন্ন করার খরচের ব্যাপারে এখনো সাড়া মেলেনি সমাজের বিত্তবানদের। পূর্ব ছাপড়হাটী ব্র্যাক স্কুল থেকে ২০০৯ সালে পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করে। পরবর্তীতে ছাপড়হাটী এস. সি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে জিপিএ ৪.৭১ এবং প্রধান শিক্ষকের সার্বিক সহযোগিতায় ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন হয়। এরপর ২০১৭ সালে গাইবান্ধা সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় জিয়াউর রহমান। চলতি ২০১৮ সালের মেডিকেল ভর্ত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ভর্তি সুযোগ অর্জন করেছে। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্য নেই জিয়াউর রহমানের। তার জিয়াউর রহমানের পরিবার ছেলের অদম্য মেধা শক্তিকে উজ্জবীত রাখার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছে।এদিকে একই উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের জরমনদী গ্রামের হতদরিদ্র রিক্সা চালক ফরিদ আহম্মেদ বাকীর মেয়ে ফরিদা আকতার এবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভতির সুযোগ পায়। সে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬৭.৫ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। মেয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় রিক্সা চালক পিতা ও তার পরিবারের লোকজন গর্বিত এবং খুশি হয়েছেন। ফরিদা আকতারকে ১৫ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর এর মধ্যে ভর্তি হতে হবে। কিন্তু এত বড় একটা সুযোগ পাওয়ার পরেও দরিদ্র পিতা প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে মেডিকেল কলেজে ভর্তির বিষয় নিয়ে দুচিন্তা গ্রস্থ হয়ে পরেছেন। এমনকি আগামীতে শিক্ষা জীবনও বিপন্ন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ফরিদ আহম্মেদ বাকীর ২ মেয়ে ও ১ ছেলের মধ্যে ফরিদা আকতার সবার বড়। সে ২০০৯ সালে জরমনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, ২০১২ সালে সুন্দরগঞ্জ আমিনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, ২০১৫ সালে সুন্দরগঞ্জ আমিনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন এ+ পায়। ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নুরুল হাসান নাহিদ তাকে সংবর্ধনা প্রদান করে। এরপর ২০১৭ সালে ঢাকা ক্যামবিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে গোল্ডেন এ+ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। উক্ত পরীক্ষায় ৬৭.৫ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। ছোট মেয়ে ফারজানা আকতার ২০১৩ সালে জরমনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, ২০১৬ সালে সুন্দরগঞ্জ আমিনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। এখন সে দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। এছাড়া ছেলে সাব্বির হোসেন সৌমিক গাইবান্ধা শহরের সিরাতুল মুস্তাকিন ক্যাডেট মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। ২০১১ সাল থেকে সৌমিক থ্যালাসামিয়া রোগে আক্রান্ত হয়। তাকে প্রতিমাসে ১ থেকে ২ ব্যাগ রক্ত দেয়া লাগে। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। রিক্সা চালক ফরিদ আহম্মেদের সন্তানদের শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহের কারণেই শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু পরিবারে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধ মা’সহ ৬ জন হওয়ায় রিক্সা চালিয়ে তার সামান্য আয়ের উপর নির্ভর করে ৩ ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। এখন ফরিদ আহম্মেদ বাকী আগের মত আর রিক্সা চালাতেও পারছে না। তাই তিনি দেশের বিত্তবান মানুষের কাছে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।