Home » » ‘২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই’

‘২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই’

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 14 October, 2018 | 8:59:00 PM

চিলাহাটি ওয়েব,ঢাকা অফিস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সারাদেশে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। গ্রাম-শহর বদলে গেছে। রাস্তাঘাট উন্নয়ন হয়েছে। কৃষকদের বিনে পয়সায় ঋণের ব্যবস্থা করেছি। মাত্র দশ টাকায় তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছে। ঘরে ঘরে এমনকি দেশের প্রত্যেকটা মানুষের হাতে মোবাইল ফোনের ব্যবস্থা করেছি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছি। সড়ক, নৌ, রেল, বিমানবন্দরের উন্নয়নে কাজ করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে চাই। আজ রবিবার (১৪ অক্টোবর) পদ্মা সেতু পরিদর্শন শেষে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, যারা কোনো কাজ করতে পারেন না, তাদের জন্য ভিজিএফ কার্ড দিয়েছি। ১০০টা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। বৃষ্টি ও নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করতে ১২০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট করে দিয়েছি। নদী ভাঙন রোধে বিশাল ড্রেজিং প্ল্যান করেছি। শুধু নদী ভাঙন রোধই নয় যাতে আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ে, ফসল বাড়ে, সে ব্যবস্থাও করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে চাই আমরা। আপনাদের ঘরে বসে বিদেশে আয় করার সুযোগ করে দিয়েছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছিল জিয়া। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে খালেদা জিয়া-তারেক আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের ২২জন নেতাকর্মীকে হত্যা করে তারা। হত্যার বিচার যাতে না হয়, সেজন্য জজ মিয়া নাটক করেছিল। ২০০১ সালের পর এ অঞ্চলে যে নির্যাতন করেছিল, তা অবর্ণনীয়। দুর্নীতিতে দণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি নেতৃত্বে সঙ্গে জোট করায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আপনি নৌকা ছেড়ে দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন। আসলে রতনে রতন চেনে আর শিয়ালে চেয়ে কচু। ড. কামালদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল হোসেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী। আমরাই তাকে এই খ্যাতি দিয়েছি। তিনি নৌকা ছেড়ে ধানের শীষ হাতে নিয়েছেন। যেই ধানের শিষে শীষ নেই, আছে শুধু চিটা। গণফোরাম সভাপতির প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী বলে মনে করেন। আমরাই তাকে সেই খ্যাতি দিয়েছি। আদতে খুচরা আধুলিরা সব ঐক্য করেছে। বিএনপির পলাতক চেয়ারম্যান দুর্নীতিবাজের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন গং ঐক্য করেছে। যারা নীতিবাগীশ বড় বড় কথা বলে, তাদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন ঐক্য করেছে। তিনি আরো বলেন, দেশের এতো যেন উন্নয়ন তা তাদের চোখে পড়ে না। তারা নাকি ‍দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলে, মানবাধিকারের কথা বলে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলে। আপনারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন আবার হাত মিলিয়েছেন দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিতদের সঙ্গে। আপনারা হাত মিলিয়েছেন আগুণ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। হাত মিলিয়েছেন লুটেরাদের সঙ্গে, যারা এতিমের টাকা লুটে খেয়েছে। তাঁদের সঙ্গে জোট করেছেন ড. কামাল। জোট করে কী করবেন? কি আপনার উদ্দেশ্য? ড. কামাল হোসেন ‘মরা গাঙে’ যোগ দিয়েছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মান্না (নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না), রব (জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব)— তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন। তারা কী করতে পারবেন? তারা কী করতে চান? বাংলাদেশের উন্নয়ন তারা চোখে দেখেন না। জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়ার পরিবার খুনীর পরিবার, এতে কোন সন্দেহ নাই। তিনি বলেন, তারা ১৫ আগস্টের মতো ২১ আগস্টের সঙ্গেও জড়িত ছিল। আইভি রহমানকে হত্যা করেছে। জর্জ মিয়া নাটক সাজিয়েছে। শুধু এসব নয়, দক্ষিন বঙ্গে যে অত্যাচার চালিয়েছিল তা ভোলার নয়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আরও বলেন, আগুন সন্ত্রাস করে পেট্রোল বোমা মেরে বিএনপি ৩, ৮০০ মানুষকে পুড়িয়েছে। এই আগুনে পাঁচ’শ মানুষ মারা গেছে। আজ তাদের খবর নেওয়ার কেউ নেই। আমি তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের বিচার করেছি। বিএনপির প্রতি অভিযোগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুযোগ পেলেই তারা মানুষ খুন করে। দুর্নীতিতে তারা পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তারা মানি লন্ডারিং করেছে। লুটপাট আর দুর্নীতি দিয়ে পুরো দেশকে শেষ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমান দুর্নীতিবাজ আদালতের রায়ে তা প্রমাণিত হয়েছে। তাঁরা একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটিয়েছে। তাঁরা বিডিআর হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তারা এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে। যে টাকা অসহায়-দু:স্থদের জীবনমান উন্নয়নে এসেছিল। নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আগে বিএনপি-জামায়াত দেশে কোনও উন্নয়ন করেনি। সন্ত্রাস আর দুর্নীতির রাজত্ব চালিয়েছে। এতে জনগণের নয়, তাদের উন্নয়ন হয়েছে। প্রত্যেকের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হবে। নৌকাই জনগণের মুক্তির পথ। তাই উন্নয়নের জন্য আপনাদের নৌকা মার্কাকে জয়যুক্ত করতে হবে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. শামসুদ্দিন খান এর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, নূরে আলম চৌধুরী লিটন প্রমুখ।