Home » » নতুন পদ্ধতিতে রংপুর কৃষি অঞ্চলে শুরু হয়েছে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ

নতুন পদ্ধতিতে রংপুর কৃষি অঞ্চলে শুরু হয়েছে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 30 October, 2018 | 12:00:00 PM

মাজহারুল ইসলাম লিটন,ডিমলা প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : শীতকালীন সবজী চাষের আগাম কাজ শুরু হয়েছে উত্তরের জেলাগুলোতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগাম সবজী চাষে বাঁধা হতে পারেনি রংপুর কৃষি অঞ্চলে। এবারে বর্ষার পরেও বৃষ্টিপাত চলতে থাকায় নতুন প্রযুক্তিতে কৃষক সবজীর বীজতলা তৈরি করেছে এবং এখন সেসব বীজতলার চারা লাগানো হচ্ছে ক্ষেতে। 
রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৮ জেলায় অধিকাংশ জমিতেই লাগানো আছে রোপা আমন। আর মাস খানেক পর শুারু হবে সেসব কাটা মাড়াইয়ের কাজ। তাই এখন চলছে অপেক্ষার পালা, তবে যেসব জমি উঁচু এবং আমন আবাদ সম্ভব হয়নি, সে সব জমিতে লাগানো হচ্ছে সবজী। এসব সবজীর মধ্যে রয়েছে পাতা কপি, ফুলকপি, মুলা, টমেটো, বেগুন, পালংশাকসহ বিভিন্ন জাতের মৌসুমি ফসল। এবারে বর্ষার দু’মাস বিশেষ করে আষাঢ়ের শুরুত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকলেও পরে এ মৌসুমে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল কম। বলা যায় খরার সৃষ্টি হয়েছিল। শ্রাবণে গড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল কম। কিন্তু এরপরে ভাদ্রের শেষ থেকে এবং আশ্বিনের প্রথমে এ অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। আবহাওয়া অফিস সূত্র মতে, বর্ষা মৌসুমের একবারে শুরুতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৬৪৮ মিলিমিটার থাকেলেও পরে পুরো মৌসুমে বৃষ্টিপাত ছিল মাত্র প্রায় ৪৩৯ মিলিমিটার। তবে এরপরে এ পরিমাণ বেড়ে যায় এবং পরিমাণ দাঁড়ায় দ্বিগুণেরও বেশি। 
বর্ষা মৌসুমের পরে অসময়ে অতিবৃষ্টিপাতের ফলে রংপুর কৃষি অঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় বন্যাও দেখা দেয়। তবে বাকি ৬ জেলাতে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা । এতে আগাম শীতকালীন শাক সবজীর বীজ বপন বাঁধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু কৃষক এজন্য বসে থাকেনি। বাঁশের মাচাং বানিয়ে বীজতলা তৈরি করেছে। এ দৃশ্য চোখে পড়ে নীলফামারী, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরের ক’টি উপজেলা এলাকায়। ওইসব বীজতলার চারা তুলে এখন লাগোনো হচ্ছে যেসব জমির পানি শুকিয়ে গেছে সেসব ক্ষেতে।
 নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের দুবাছড়ি গ্রামের কৃষক প্রদিপ কুমার রায়। তিনি রাস্তার পাশে বাঁশের মাচাং বানিয়ে ফুল কপির বীজতলা তৈরি করেছেন। তিনি জানান, তার জমিতে পানি জমে থাকায় ১০ফুট লম্বা ও ৪ফুট চওড়া ওই মাচাংয়ে ১গ্রাম বীজ বপন করেছেন। এভাবে তিনি ৩টি বীজতলা তৈরি করেছেন। ফুল কপির তৈরি ওইসব বীজতলার একেকটি থেকে ২২ শতক করে জমিতে চারা লাগানো যাবে। তার মতে, এ পদ্ধতিতে বীজতলা থেকে ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে চারা তুলে ক্ষেতে লাগাতে হয় এবং কপি ফলবে ৫৫ দিনের মধ্যে এবং তা ঘরে তোলা যাবে। কিন্তু আগের মত সাধারণভাবে বীজতলা তৈরি করা হলে তাতে কপি ফলতে সময় লাগবে ৬৫ থেকে ৭০ দিন। মাচাংয়ে বীজতলা তৈরি এ অঞ্চলে একেবারে নতুন। এখনও সেভাবে প্রচারলাভ করেনি। তবে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ব্যাপকভাবে মাচাংয়ে এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
 রংপুর কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মহসীন আলী চিলাহাটি ওয়েব ডটকমকে জানান, কৃষক এখন অনেক সচেতন হয়েছে। তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী হচ্ছে মাচাং পদ্ধতি। সেখানে তারা বীজতলা তৈরি করছেন। তার মতে, এ পদ্ধতিতে বীজতলার চারা নষ্ট হয়না। তবে এ নতুন পদ্ধতির কিছু কিছু বীজতলা করেছে রংপুরের বদরগঞ্জ, দিনাজপুরের খানসামা, কুড়িগ্রামের ফুলছড়ি ও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায়। রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৮ জেলা রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে এখনও শীতকালীন শাক সবজী আবাদের লক্ষ্যমাত্রা কেন্দ্রিয়ভাবে আসেনি। তবে সংশি¬ষ্ট অফিসের একটি সূত্র জানায়, গত বছর এ অঞ্চলের ৮ জেলায় শীতকালীন সবজী আবাদ করা হয়েছিল ৪৮ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে এবং ফলন মিলেছিল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৫ মেট্রিক টন। সূত্র মতে, এবারে এর চেয়ে বেশি জমিতে শীতকালীন সবজী আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার সম্ভাবনা আছে। এসব শাক সবজীর মধ্যে রয়েছে পাতাকপি, ফুলকপি, মুলা, পালং শাক, বটবটি ও টমেটোসহ প্রায় ১৫ প্রকার সবজী জাতীয় ফসল। সূত্র মতে, এসব ফসল পুরোপুরি লাগানো শুরু হবে আর মাস খানেকের মধ্যে। তবে আগাম জাতের কিছু কিছু এসব ফসল লাগানোর কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে এবারের বিলম্বের বৃষ্টিপাত আগাম শাক সবজী আবাদের কাজ কিছুটা বাঁধাগ্রস্থ করেছে বলে কৃষি বিভাগ চিলাহাটি ওয়েব ডটকমকে জানায়। কারণ, যেমন পানি থেকে রক্ষা পায়, তেমনি প্রখর রোদ থেকে রক্ষা করতে ঢেকে দেওয়া যায়। ওই কর্মকর্তার মতে, এভাবে রংপুর কৃষি অঞ্চলের কৃষক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পোকা মাকড়ের আক্রমনকে মোকাবেলা করে ফসল ফলাচ্ছে।