Home » » অনন্ত-অন্তরা (তৃতীয় পর্ব)

অনন্ত-অন্তরা (তৃতীয় পর্ব)

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 17 September, 2018 | 12:52:00 AM


























॥ সৈয়দ মিজানুর রহমান ॥ 

একটি পাজরভাঙ্গা কষ্ট বিগলের সুর হয়ে আমাকে আছন্ন করে দিলো- ভালো মানুষ বা সত্যিকারের প্রেম ভালবাসা মানুষ বুঝতে চায় না! কতটা কষ্ট পেলে প্রেম দ্বিগুণ জ্বলে আকাংক্ষা বেড়ে যায় আরো বেশী তার খোঁজ রাখে ক’জনে- এই মুহূর্তে আমার কী করার উচিৎ আমি জানি না কিন্তু ভাবছি কেন এমন আচরণ করলো ? তার কোন অতীত- নাকি বাস্তবতার নিরিখে সতর্কতা, হ্যাঁ সে তো বলতেই পারে কারণ হাজার মানুষের ভিড়ে কে ভালো কে খারাপ সে কী করে ফেসবুকের মতো একটি ভার্চুয়াল জগতে সহজে চিনে নেবে । তাই দুঃখ পেলেও বিশ্বস্ততা বেড়ে গেল ।
মনে পড়ে গেলো একটি গান রবি ঠাকুরের “ না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখি জলে”

ব্যথা দেওয়ার মতো কথায়
আকাংক্ষা বেড়ে গেল
সূক্ষ্ম অনুভবে আবার পেয়ে বসলো
তুমি যে পরাণ মোর বেঁধেছ
যামিনী হৃদয়ে শশী হয়ে এসেছো
 মম হৃদয়ে বাজে সেই রিনিঝিনি
রিক্ত করেছে যে মোরে ।
বেহায়ার মতো আবার লিখলাম হ্যালো- প্লিজ কথা বলুন, আপানার কথায় আমি রাগ করিনি- ভাবে দেখলাম আপনি আপনার জায়গার সঠিক আছেন- যে কথা আজ আমাকে শুনতে হলো সেটা আমাদেরই জন্য আমাকে শুনতে হলো, আমি তো তাদেরই একজন দায় এড়াতে পারিনা । আপনি আমাকে যত অবহেলা করুণ না কেন- যত ইচ্ছে অপমান করুণ তবু আমার দৃষ্টি আপনার দিকে, জানিনা কেন আমি এতো আকর্ষিত হচ্ছি!
সবুজবাতি সাথে জুড়া
ঐ নাম সর্বস্ব অন্তরা
নাকি ঐ রেখে দেয়া একফালি
 অবাক নয়নের ছবি?
জানিনা কিভাবে নিবেন তবুও বলছিঃ-
প্রথম দর্শণ ছিল ঐ সবুজবাতি অন্তরা নামে-
হৃদয় মাঝে চির চেনা সুর বেজে উঠেছিল
যা কখন বাজেনি সুপ্ত অবস্থা থেকে জেগে ওঠেনি !
আপনার বলা শেষ?
আপাতত শেষ-
তাহলে শুনুন আপনি যত মিষ্টি করে আমাকে লিখুন না কেন- কথাগুলি পড়তে ভালো লাগবে আমার, প্রশংসা কার না শুনতে ভালো লাগে বলুন? আমার ও লাগছে কিন্তু আপনি যা ভেবে বসে আছেন এটা কোনদিন এই অচিনপুরীতে হবে না । তবে হ্যাঁ আপনাকে আমি অনেক শক্ত কথা শুনিয়েছি সেইজন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত । প্লিজ আমাকে আর বিরক্ত করবেন না ।
 আপনি ঠিকই বলেছিলেন- আমি সব দায় মাথা পেতে নিলেও আমি ব্যক্তিগত ভাবে তার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই । তবে আমি যা আপনার মাঝে দেখতে পেয়েছি সে দেখা আমার ভুল হতে পারে না ।
 কী দেখেছেন আমার মধ্যে আপনি? আমি এমন কী সুন্দরী বা গুনী মহারতি বলুন? আপনি তো আমাকে এখন দেখেনি, আমি ভালো কি মন্দ না কি খারাপ কিছুই জানেন না তাহলে কেন এই সস্তা অনুভূতি? আমাকে এ-ও বিশ্বাস করতে হবে এই জামানায় চন্ডিদাস খুঁজে পাওয়া যায় ! শুনুন আমি একালের হলেও মনে প্রাণে অস্তিত্বে বড় সেকালের । আমি সস্তায় বিশ্বাসি নই ।
আমি জানি বুঝি আমার অনুমান আমার বিশ্বাস, আমার স্বপ্ন জুড়ে ধ্যান সেও সেকালি ।
 তাই বুঝি? শুনুন পরে কিন্তু পস্তাবেন আমি বললাম!
কেন এই কথা বলছেন? আমি সব মেনে নেব হৃদয়ের কারণে ।
তাহলে শুনুন নাম আমার অন্তরা একদম ঠিক- আগে বুঝলে নামটি পালটিয়ে দিতাম- আমি সুন্দরী নই, নই ফর্সা, লম্বাও নই দেখতে খানিকটা রোগা কুৎসিত, আপনি কল্পনায় যে প্রেমে আপ্লুত হচ্ছেন তার সঙ্গে মোটেও যায় না ।
আমি হৃদয় সর্বস্ব মানুষ আমার মন বলে আপনিই আমার সেই মানুষ যাকে আমি জীবন ধরে খুঁজে ফিরছি- আপনি যা-ই থাকুন না কেন, আপনার হৃদয়টা আমার অন্তর দৃষ্টি ছুঁয়ে গিয়েছে সেই প্রথম থেকে, তাই যে কোন মূল্যে এই বাজি আমি জিতে নিতে চাই ।
 হি হি হি – হাসালেন ! আপনি দেখছি বড্ড পাগল আছেন, কিন্তু পাগলামি দিয়ে জীবন সংসার বা বাস্তবতায় বেমানান শুধু কল্পনার রাজ্যে ভাসা যা্য অন্যকিছু নয় । আমার বড্ড ঘুম পাচ্ছে আমি আর থাকতে পারছি না – এবার আমি যাব । আপনি ভালো থাকবেন – শুভ রাত্রি
আমাকে আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ । আপনিও ভালো থাকবেন – শুভ রাত্রি ।
 রাত ২টা বেজে গিয়েছে! কখন যে বেজে গেল বুঝতেই পারিনি এতো মনোযোগী বোধহয় এই প্রথম, মনে হচ্ছিল পাহাড়ে খাঁড়ায় খাঁদের কিনারায় দাঁড়িয়ে জীবন মরনের হিসেব কষছিলাম ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে কী এক তরঙ্গের খেলা চলছিল, মাঝে মাঝে বিকট শব্দে সেই তরঙ্গমালা আছড়ে পড়ছিল সমাদরে সূক্ষ্ম মন্ত্রে বুকের পাঁজরে ধূ ধূ বালুচরে । কম্পিউটার, রূমের লাইট সব বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম । ফ্যানের দোষন শব্দে ঝড় হাওয়ায় নিজেকে মেলে ধরলাম- ক্লান্তি নিবারণে ডুব দিলাম মনের ঘরে ঘুমের মোহে অন্তরে অন্তরা পুষে ।ঠিক সকাল ৭-৩০ টায় এলার্ম বেজে উঠলো- নো লেট একবারেই উঠে বসে পড়লাম- ব্যাস ১৫ মিনিটে রেডি বেরিয়ে পড়লাম রিক্সা নিয়ে সন্ধ্যাকে উঠিয়ে সোজা ইউনিভারসিটির পাবলিক লাইব্রেরির সামনে নেমে রাস্তার পাশে টং দোকানে বসে চা বিস্কিট কলা খেয়ে প্রতিদিনের বাজে অভ্যাস একটি সিগারেট ধরালাম সন্ধ্যা ততক্ষনে লাইব্রেরির দিকে চলে গিয়েছে । সিগারেট টানতে টানতে কেন যেন মনে হলো আজ সন্ধ্যা কেন এতো চুপচায় বসে ছিল আমার পাশে- মন খারাপ না তো অন্য কোন কারণে? ওকে তো কখনও এমন দেখিনি! ওহ! কী ভাবছি এইগুলি? আমাকে এখন লাইব্রেরিতে যেতে হবে- যেয়ে দেখি বই সামনে মাথা নিচু করে আছে, পড়ছে কিনা ঠিক বুঝতে পারছি না- ওকে, আমি একটু বসি পড়েত- সমাজকল্যানে নীতি ও কর্মসূচি উপরে কয়েকটি প্রশ্নের নোট তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ।ঘণ্টা খানিক পর আর ভাল লাগছিল না পড়তে, মনটা ঠিক বসছে না আজ, সন্ধ্যা আমি যাচ্ছি তুই থাক ।
না না আমিও যাব দাড়া মাত্র পাঁচ মিনিট ।
ওকে আমি বাইরে আছি তুই আয় ।
এই চল যাই-
চল- ফুস্কা খাবি?
এই দুপুর সময়? না খাবো না ।
 তাহলে কিছু একটা বল খাই, আমার ক্ষুধা লেগেছে ।
এই শুধু খাই খাই করিস ক্যান? যা- তুই খেয়ে আয় আমি এখানে বসছি ।
ওকে, তুই একটু বোস আমি আসছি- ভাইয়া আমাকে এক প্লেট মজা করে ফুস্কা বানিয়ে দাও তো-
বহেন ভাইয়া দিতাছি-
রিংটোন বেজে চলছে সেলফোন ধরার নাম নাই – হ্যালো- হ্যালো------ শুনতে পাচ্ছেন? মামা আমি অনন্ত কল ব্যাক করেন এক্ষনি । কেটে দিতে না দিতে মামার কল ব্যাক- হ্যালো- জ্বী মামা কেমন আছেন? বাসার সবাই ভালো আছেতো?
 হ্যাঁ সবাই আছে ভালো- তো- তুমি- তোমাদের বাসার সবাই কেমন আছে?
জ্বী মামা ভালো- মামা আমার স্মার্ট ফোন কবে পাঠাবেন আমার খুব দরকার হয়ে পড়েছে- এক সপ্তাহের মধ্যে পাঠাতে না পারলে টাকা পাঠিয়ে দিন আমি এখান থেকে কিনে নেব ।
খুব প্রয়োজন সেটা আমি জানি – তবে এক মাসের মধ্যে পাঠাতে পারবো, এতো তারাতাড়ি যদি চাস তাহলে আমাকে DHL করতে হবে । প্লিজ মামা তাই করো । আমি রাখছি ।
হ্যালো হ্যালো --- দুষ্টু ছেলে লাইন কেটে দিলো! যাকে বলে সবার আদর ।
এই লন ভাইয়া-
দাও- ভালো হয়েছে তো ?
আবার জিগায়- খাইয়া কন্ ক্যামন হইছে ভাইয়া
 ভাইয়া আর একটি চামচ হবে?
কয়ড়া লাগবো সেইডা কন্?
 একটা হলেই চলবে- ওকে ধন্যবাদ ভাইয়া ।
সন্ধ্যা এই নে আমার সাথে একটু খাবি- দুপুর বেলা তোর পছন্দ না তবে একটা দুইটা খেলে কিছু হবে না – নে খেয়ে দেখ ।
তোকে বললাম না তারপরও আমাকে খেতে হবে? ঠিক আছে একটা খাবো ।
 ঠিক আছে খেয়ে দেখ ।
সামনে চল তুই যা খেতে চাইবি তাই তোকে খাওয়াবো ।
কিরে অনেক টাকা মনে হচ্ছে পকেটে? বাসা থেকে টাকা পাঠিয়েছে বুঝি?
আরে না- এমনিতে আজ তোকে খাওয়াতে ইচ্ছে করছে । দুইদিন পর আবার সুদে আসলে ফেরত নিবি নাতো আবার । যদি নিস তাহলে খাবো না ।
বললামতো কোনদিন চাইবো না- একটা আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের জন্য ছোট্ট একটি আয়োজন ।
সত্যি?
হ্যাঁ একদম সত্যি । চল যাই –
শোন্ একটা কাজ করি এখন না খাই- একটু কষ্ট কর – ক্লাস করে একবারে বারিয়ে অন্য কোন ভালো জায়গায় দুজনে বসে খাই- কি বলিস ?
 হুম ঠিক আছে ডান-
দুইজন দুইদিকে- সন্ধ্যা আইন নিয়ে পড়ে- হঠাৎ বুদ্ধিতে ওর জুড়ি মেলা ভার- যখন আইন নিয়ে বা কোন বিষয়ের উপর আইনি ব্যাখ্যা দেয় – সেই ব্যাখার থ্রোইং মনোমুগ্ধকর মনে হয় পেশাদার আইনজীবী ! শুধু আমার সাথে অন্যরকম এক মানুষ । এমন একজন ভালো বন্ধু এইযুগে মেলা খুব কঠিন ।
ক্লাস শেষে ওকে কল করলাম হ্যালো সন্ধ্যা আমি এখন মধুর ক্যান্টিনের সাথে ঐ ছোট সবুজ ঘাসের মাঠটাতে বসে চা খাচ্ছি তুই সোজা এখানে চলে আসিস । কথার কোন উত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দিলো । মেজাজটা খারাপ করে দিলো । আমার আরো কিছু বন্ধুরা এসে আমার পাশে এসে বসলো শুরু হয়ে গেলো ধুমধারাক্কা গল্প কে কবে হিরো হয়েছিল – কে কী খাবে – তুই আজ খাওয়াবি- আর একজন বলে ও আজ ধরা! কেউ কেউ বলে আজ ছাত্রদলের মিছিলে মাছি-মশা ও পড়েনি – এতো ধাওয়া দিলে কি মিছিলে লোক হয় বল? –কেউ উত্তর দেয় সুযোগ পেলে তারাও কম নয় – ইতিহাস তাই বলে- আজব সব কথা – ভীষণ প্রাণবন্ত সবাই, মন আমারও দোল খেয়ে উঠলো- আনন্দঘন মুহূর্তকে ধরে রাখতে সবাইকে বাদাম শেষে চা খাওয়ালাম ।
অনন্ত—এই অনন্ত- এইদিকে আয় –
ওকে – এই আমি যাই রে—আবার দেখা হবে কাল- বাই ।
 আমাদের খাওয়ানোর জন্য তোকে অনেক ধন্যবাদ দোস্ত -
সবাই একসাথে জোরসোরে বলল – সেই আনন্দের মজাই অন্যরকম !এই চল যাই –
আগে বল তুই কল দিলি কেন? আমি না তোকে একদিন বলেছি – ক্লাসের সময় কল দিবি না – কিন্তু কেন দিলি – এতো কান টানি তাও লজ্জা হয় না । দ্যাখ আমি ভুলে গিয়েছিলাম এই মাত্র মনে পড়লো – আমি আরো উল্টো রাগ হয়েছি কেন কল কেটে দিলি আমার । এখন উল্টো আমাকে শাসানো হচ্ছে – বেশ ভালো – ভুলে যাওয়া কি আমার দোষ তাই তুই আমাকে শাসাবি?
হ্যাঁ শাসাবো- তুই কি ছোট পোলাপান যে কথায় কথায় পোলাপান সাজোস! ভুলে যায়- পরীক্ষায় তো ভুলিস না তখন তো রেজাল্ট সে-ই ।
 হা হা হা – আমার সে-ই তুই বলবি ক্যান ?
 তোর রেজাল্ট যে সে-ই তাই না বলে উপায় নাই ।
থাক হইছে চল- সময় অনেক কম-
কোথায় যাবো?
তুই আগে রিক্সায় ওঠ্ তারপর দেখি কোথায় যাওয়া যায়-
রিক্সার দু’জন চেপে বসলাম- বল এবার কোথায় যাবি- কী খাবি?
 বাহ্ সব আমার উপর?
হ্যাঁ তুই বলবি আমি খাওয়াবো-
না, এইভাবে বললে আমি বলতে পারবো না-
আচ্ছা গুন্ডি তুই! বল কী খাবি এবং সেটা কোথায়? তাড়াতাড়ি বল তানাহলে রিক্সা ঘুরাতে হতে পারে-
গুন্ডির উত্তর পরে পাবি- ওকে তিনশ’ ফুট চল- না হয় গুলশানের ইউনিমার্টে চল ওখানে এক ছাদের নিজে ২৬ রেস্তোরা আছে দেখেশুনে কোন একটায় বসে পড়বো,যাবি?
 তিনশ’ ফুট তো কয়েকবার গেছি আজ না হয় গুলশান যাওয়া যাক – ডান- ভাই সামনে রিক্সা থামান, ওখান থেকে সিএনজিতে যাই কি বলিস?
হ্যাঁ ঠিক আছে- হ্যালো মা আমি অনন্তর সাথে, আসতে একটু রাত হতে পারে কোন চিন্তা করা না বাবাকে বলে দিও কেমন—রাখছি ।
 চল চল আবার সিএনজি চেপে ফটফট শব্দ আর রাস্তার যত ধুলাবালি সাথে ফ্রী সুগন্ধী সব নেব ভাগাভাগি করে- ধুর উবার ডাকা ভালছিল- আমার স্মার্ট ফোন নাই তোরতো আছে, ভুলে গিয়েছিলাম, তুইতো আর কচি খুকী নয় তুই ভুলে গেলি কিভাবে? এবার জবাব দে ?
আমার উবার পছন্দ নয় তাই ডাকি নাই। বুঝছিস গাধা?
তুইতো বড় উকিল জিতে যাওয়ার জন্য এইমাত্র মিথ্যা বললি ।
বেশ করেছি চুপ করে বসে থাক ।
চুপ হতেই শব্দের সাথে হারিয়ে যেতে লাগলাম অন্তরে অন্তরার মাঝে বারবার তার ঐ অপ্রিয় সত্য কথাগুলি তীর হয়ে বিঁধে যেতে লাগলো দামামা হয়ে প্রতিধ্বনি হল বারবার নৈতিকতা, সততা, বিশ্বাস, বিশ্বস্ততা, দায়ভার, প্রেম-ভালবাসা-স্নেহ-মমতায় শ্রদ্ধা যদি সম্পর্কিত না হয় কিভাবে অর্জিত সব টেকসই হয়? প্রযুক্তি কল্যানের কল্যাণ অকল্যাণের সংযুক্ত জালে, বায়ুমন্ডল থেকে যেভাবে আমরা বাঁচার জন্য অক্সিজেন গ্রহন করি তদ্রুপ কল্যাণটুকু নিয়ে জীবনের কল্যানে শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে দেওয়ার বিপ্লব ঘটাতে হবে জনমনে । মানুষের অনুভূতি নিয়ে খেলা একটি জীবনকে নীল কারাগারে বন্ধী করা মুখোশের আড়ালে বাটিক চাঁদরে মোড়া রঙে যে সে কাঁচা অশ্রুজলে যায় ধুয়ে ধুয়ে । হঠাৎ শব্দ বন্ধ হয়ে গেল অনন্ত ডাক ভেসে আসলো- বলো নামতে হবে ।
অনন্ত- এই অনন্ত কী হলো তোর- যাবি না ?
চলে আসছি ?
হ্যাঁ- তাড়াতাড়ি নেমে পড়, রাত হবে ফিরতে অনেক সে খেয়াল আছে তোর ?
রাত হলে কী হবে আমি আছি না ?
ইস্ আমি মনে তোর ঘরের বউ?
 কারোর কাছে কৈফিয়ত দেওয়া লাগবে না তাই মনে হয় বুঝি ?
কেন আমার প্রতি বিশ্বাস নাই ?
আমার তো আছে বোকা – বাবা মা কী খুব বেশী নিশ্চিত থাকতে পারে? কত রকম বিপদ ঘটতে পারে- যে দিনকাল পড়েছে তুই নিজে বুঝিস না – শেষ পর্যন্ত আমাকে বাঁচাতে তুই মরে যাবি সেটা আমিও চাই না – হি হি হি – বাদ দে এইসব চল যাই উপরে ।
টুকটুক করে মৃদ পায়ে দু’জনে লিফ্টে চড়ে উপরে উঠলাম চোখ জুড়িয়ে গেল সিমসাম পরিবেশ দেখে বেশ নতুনত্বের সমাহার । বললাম কী খাবি বল?
তোর যদি সমস্যা না থাকে চল আমরা আজ সি-ফুড খাই-
শাহাজাদীর আদেশ শিরোধার্য –
কী বললি- আগেতো কখন এই কথা শুনিনি ! বেশ ভালো বললি রে !!
দু’জনে মিলে অর্ডার করলাম তারপর আমি উঠে গিয়ে একটা সে-ই কেকের অর্ডার দিয়ে এসে চুপচাপ বসে রইলাম আর ভাবছিলাম রিয়্যাকশনটা কিভাবে ফেস করবো! কিছুক্ষণ পর ফলের জুস সঙ্গে বরফকুচি দিয়ে সাজানো সৌন্দর্যে গ্লাস দু’টি বেশ রোমাটিক লাগছিল- দেখে পিপাসা ধুম করে আরো বেড়ে গেল! সন্ধ্যা ইশারা দিতেই আমি হাতে নিয়ে নিলাম গ্লাসটি, স্ট্রটি মুখে দিয়ে টান দিতেই বাঁশির সুরে সুরেলা রসে গলা ভিজে তৃপ্তি বোধ হতে লাগলো । এরমধ্যে ওয়েটার কেক নিয়ে আমাদের দিকে আসছে, আমি অন্যদিকে তাকিয়ে মনের সুখে টেনে যাচ্ছি যদিও কান পেতে আছি ওয়েটার আর গুন্ডির দিকে । বুঝতে পারছি টেবিলে কেকটা যখন রাখছিল ঠিক তখন- Excuse me - আপনি কোন ভুল করছে না তো?
কেন ম্যাডাম? আমি ঠিকই করছি কারণ ভাইয়া অর্ডারটা করেছিলেন । ভাইয়া --জন্মদিনের কেকটা কেমন হয়েছে দেখুন আর হ্যাপি বার্থডে বলুন আমরাও অপেক্ষায় আছি ।
অনন্ত তোর তাহলে মনে ছিল বুঝি?
কী এক মিষ্টি হাসিতে ঝরে পড়লো অজানা অধিকারে চোখ দু’টি ছলছল করছিল আবেগে আপ্লুত হয়ে আনন্দ ধারার ।আমি নির্বাক অপলক দৃষ্টিতে ঢোক গিলে গিলে দেখছিলাম সেই প্রেমময় নারীত্বকে ।

 >>>>>> চলবে >>>>>>>