Home » » বদরগঞ্জের শেখেরহাট গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় সভাপতিকে বহিস্কারের দাবীতে বিক্ষোভ

বদরগঞ্জের শেখেরহাট গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় সভাপতিকে বহিস্কারের দাবীতে বিক্ষোভ

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 04 September, 2018 | 11:16:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতনিধি, চিলাহাটি ওয়েব :রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শেখেরহাট গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির প্রতি অনাস্থা এনে তাকে বহিস্কারের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয় চলাকালে এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দুর্নীতিবাজ ওই সভাপতির নামে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে তাকে বহিস্কারের দাবী জানান। এ ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জানা যায়, উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের শেখেরহাটে অবস্থিত ১৯৬৪সালে স্থাপিত শেখেরহাট গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সহিত পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০১৭সালে স্থানীয় জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে তিনি বিদ্যালয়ের আয়ের উপর নির্ভর করে কোটিপতি বনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এমনকি তিনি তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গত দেড় বছরে অফিস সহকারী পদে ১২লক্ষ টাকা নিয়োগ বাণিজ্য করাসহ বিদ্যালয়ের ফান্ডের ৯লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ কারণে এলাকাবাসী তাকে বহিস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পাঠদান বিরতি রেখে একাধিকবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে তাকে বহিস্কারের দাবি তুলেছিল। কিন্তু ওই দুর্নীতিবাজ সভাপতি অদৃশ্য খুঁটির জোরে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এ বিষয়ে বিক্ষোভকারী ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোঃ মনছাল আলী ও পরিচালনা কমিটির সদস্যা ফরিদা বেগম জানান, জাকির হোসেন সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে স্থানীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তারই ধারা বাহিকতায় সম্প্রতিকালে বিদ্যালয়ের টিউশন ফি ৬৮হাজার টাকা উত্তোলণ করার পর ৪০হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অথচ, তার নানা দুর্নীতির ব্যাপারে প্রশাসনিক দপ্তরে একের পর এক অভিযোগ করেও কোন ফল হয়নি। মামুনুর রশিদ নামে অপর একজন বিক্ষোভকারী বলেন, সভাপতির দায়িত্ব ও অবহেলার কারণে এখনো অনেক ক্লাসে চেয়ার ব্যাঞ্চ নেই। যার ফলে শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্লাস করে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের কথা বলে সভাপতি ৬৮ হাজার টাকা টিউশন ফি উত্তোলণ করে তার মধ্যে ৪০হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রধান শিক্ষক মুকসেদুর রহমান বলেন, সম্প্রতিকালে তিনি আমার বেতন বন্ধ করেছিলেন। পওে ৭০হাজার টাকা নিয়ে বিল পাস করেছেন। এছাড়াও আমার শ্যালক লাইব্রেরীয়ান শিক্ষকের বেতন করার জন্য ৮০হাজার টাকা নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, তিনি সভাপতি নির্বাচিত ওয়ার পর থেকে দেড় বছওে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক ব্যঘাত সৃষ্টি হয়েছে। যা কখনো পুশিয়ে ওঠার নয়। অভিযুক্ত সভাপতি জাকির হোসেন মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, এলাকার একটি স্বার্থানেষী মহল আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছেন। আপনার সাথে স্বাক্ষাতে কথা হবে। আপনি তার আগে পত্রপত্রিকায় কিছু লিখবেন না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাশেদুল হক বলেন, বিক্ষোভকারীরা এখন পর্যন্ত আমার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।