Home » » অনন্ত-অন্তরা (ষষ্ঠ পর্ব)

অনন্ত-অন্তরা (ষষ্ঠ পর্ব)

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 24 September, 2018 | 1:39:00 AM



























 

॥ সৈয়দ মিজানুর রহমান ॥ 

সভার সভাপতি মধ্যমনি তাজের মুকুট যার কপালে শ্রোতা মাত্র একজন কোটি নক্ষত্রের প্রতিনিধি কবিমহলে! কী অবজ্ঞা! ধ্যানে মনে যার কথা নিলাম বুকের মধ্যখানে;একাকগ্রতায় ভুলে গেলাম বাকিসব কী মোহে! তবু শ্রোতা হতে পারলাম কই? সুযোগ না দিয়ে ক্ষমতার বলে অবজ্ঞার সূচক রেখে গেল তোয়াক্কা না করে না যেচে মন চলে গেল নিজের কথা বলে!! হে মোর স্রষ্টা তুমি বলে দিও তারে আমি নিরুপায়;ফিরে আসিব তারই কুলে বারেবারে – শুভ রাত্রি –
হ্যালো, জ্বী আমি অন্তরা- হ্যাঁ বলুন চাচা- জ্বী-জ্বী, আচ্ছা আপনাকে কষ্ট করে ওকে নিয়ে আসতে হবে না আমিই আসছি ।
রিং বেজে চলছে ধরার কেউ নেই- হঠাৎ ঐ পাশ থেকে আওয়াজ ভেসে আসলো, হ্যালো কে বলছেন?
জ্বী আন্টি আমি অনন্ত – আপনি ভালো আছেন তো?
হ্যাঁ বাবা ভালো, তুমি কেমন আছো?
হ্যাঁ ভালো আছি-
বাবা অন্তরা তো ওয়াসরূমে একটু পরে কল করো-
না না আপনি ওকে একটু বলে দিবেন আমি আজ ইউনির্ভাসিটে যাব না-
ঠিক আছে বাবা ।, ভালো থেক ।
আপনিও ভালো থাকবেন-ফোনটা রেখে দিয়ে মনে মনে ভাবছি ওর মোবাইল কেন বন্ধ করে রেখেছে আজ? কি সমস্যা? এতো ফর্মালিটি মেইন্টেন করা কী কষ্টের উফ আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল!! শুধু ফোনটা অন করুক না তারপর দেখাচ্ছি মজা ।
দুই তিনবার কলিং বেল টিপতেই কাজের মেয়েটি দরজা খুলে দিলো আমি ভেতরে ডুকতেই পেছন থেকে হঠাৎ কেউ যেন জড়িয়ে ধরলো, আঁতকে উঠলাম, কচি হাতের পরশে বুঝতে বাকি রইল না চন্দ্রা ছাড়া অন্য কেউ নয়! ঘুরে ওকে বুকে জড়িয়ে একদিকে মাতৃত্বের স্বাদ অন্যদিকে জীবনের সুখে-দুঃখের একমাত্র পরম আত্মার আত্মীয় বন্ধু আমার তার গন্ধ পেতে লাগলাম, অশ্রুসিক্ত হয়ে গেলাম মনে পড়তেই, কোথায় হারিয়ে গেলি?কেন ফাঁকি দিয়ে চলে গেলি? নিঃস্ব করে এই আমাদের! এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? চন্দ্রার চোখ জোড়া মুছে দিলাম ওর কচি হাতের আঙ্গুল দিয়ে আমার চোখ মুছে দেওয়ার চেষ্টা করলো । ওকে আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরে বললাম মা তুমি কেমন আছো?
আমি ভালো আছি আদরমা-
তাহলে তুমি তোমার আদরের নানাকে এতো বিরক্ত কেন করছিলে মাগো?
তুমি আসো না কেন তাই করেছিলাম, তুমি জানো না তোমাকে না দেখলে তোমার আদর পাই না, তুমি আদর না করলে আমার ভালো লাগেনা – তুমি না আমার আদরমা !!!!!
হ্যাগো হ্যাঁ আমি তো তোমার আদরের আদরমা- তুমি সকালে নাস্তে করেছো? মাথা নেড়ে বলল না- এসো মা আমি তোমায় খাইয়ে দেই । টপ টপ করে আনন্দ চিত্তে সবটুকু নাস্তা খেতে খেতে কত নালিশ কত আবদার, সব বিচার দিব, পুতুল কিনে দেব আরও কতকি এতো দিনের জমানো কথা ফুলঝুরির মতো বলেই যাচ্ছে, তার আবদারের জায়গা একমাত্র আমি অন্য কারোর কাছে কিছু চাইবে না । চন্দ্রা মা আমার এবার তুমি একটু পড় তারপর খেলা করো আমি তোমার জন্য খেলনা নিয়ে বিকেলে আসব কেমন?
ঠিক আছে আদরমা –
কী লক্ষী আমার মা-মনিটা! এবার আমি আসি – টা টা
আদরমা টা টা – পুতুল নিয়ে আসবে কিন্তু !!!
হ্যা আমি নিয়ে আসবো ------- আসি মা আমার ।
আবার কল করলাম এবার করার সাথে ধরলো- এই তুই সেলফোন অফ রেখেছিলি কেন?
তোর কাছে কি কৈফিয়ত দিতে হবে নাকি? তুই যে সেলফোন অফ রেখেছিলি গত রাতে আমি কিছু বলেছি? তাহলে তুই ভাব নিচ্ছিস কেন ?
সেতো রাত ছিল – এটাতো দিনের বেলা ব্যবধান আছেন না?
হ্যাঁ ব্যবধান তো আছেই আমাদের কোন সমস্যা হলে বা কারোর কোন emergency হলে তোকে খুঁজে পাওয়া যাবে না তাইতো? বুঝেছি আমাকে একটা ছবক দিলি উকিল সাহেবা, ঠিক আছে emergency হলে শুধু কল allow অন্যথায় বিপদ আছে বলে রাখলাম ।
হইছে এবার থাম, সে দেখা যাবে, তুই সেলফোন অফ রাখবি না এটা ফাইনাল । এবার বল কী হয়েছে ফোন করেছিলি কেন ?
আন্টি বলেনি?
না, বলল তোকে ফোন করে নিতে-
ইস! শুধু শুধু বকবক করলাম- শোন আমি আজ তোর সাথে যাচ্ছি না, কারণ মামা ম্যাসেজ পাঠিয়ে আজ DHL এ যেন একবার খোঁজ নেই, তাই আমি ওখানে যাব। একটু ধর, এইমাত্র একটি ম্যাসেজ এসছে, ইয়া----হু ----- সন্ধ্যা আমার সেলফোন এখন DHL অফিসে, আমি যাচ্ছি তুই সাবধানে যাবি কিন্তু—বাই ।
কেমন যেন লাগছে মনটা উদাস হয়ে গেল চন্দ্রার আকুতি মিনতি আর আবদারের কথা শুনে শুনে – কত নিস্পাপ বাচ্চাটা কত মিষ্টি তার কথা আজ মল্লিকা বেঁচে থাকতো তাহলে ওর সুখের সীমা থাকতো না আর মায়ের বুকে মেয়ের নিশ্চিত ছায়াতল জীবন কতটা প্রশান্তির হতো ভাবাই যায় না- চাচা দেখে শুনে কত ভালো বিবাহ দিয়েছিলেন, বড় ঘর, শিক্ষিত, বাইরে থেকে দেখতে আভিজাত্যের কমতি ছিল না অথচ বিবাহের পর কতটা সারশূন্য আজ তার প্রমাণ বিদ্যমান । S.S.C পর বয়স তার ১৫; হল বাল্যবিবাহ, বিয়ের সময় কথা ছিল পড়া বন্ধ করা যাবে না এবং সে পড়ে H.S.C পরীক্ষা দিয়ে মাত্র টেনে পাস করেছিল যেখানে অতীত রেজাল্ট গোল্ডেন+, অসতর্কতার কারণে চন্দ্রার আগমন ঘটেছিল যখন মল্লিকা H.S.C দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে, মায়ের অনুভবেই সে Abortion করতে চাইনি তার অনুভব কোল জুড়ে আসুক খিলখিল হাসুক সেই স্বপ্নে সে বিভোর ছিল । এখন চন্দ্রা আধোভাঙ্গা কথা বলে বয়স ৫+বছর । কী না করেছে মল্লিকার সাথে এহনো অত্যাচার যে তার স্বীকার হয়নি, যৌতুক মনে হয় প্রতি মাসের কিস্তি ছিল, মদ, মেয়ে নিয়ে ফুর্তি, এমনকি কাজের মেয়ে পর্যন্ত রেহাই পাইনি, পরিবারের সবাই তার কাছে জিন্মি ছিল । কতটা ধৈর্যের সাথে সে সবকিছু মেনে নিয়েছিল কোলে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ওর ভবিষ্যতের কথা ভেবে । কিন্তু যেদিন আমার দিকে ওর বর চোখ দিলো আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লো সেইদিন মল্লিকা অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে উঠেছিল, আমিও সেইদিন প্রথম চিনলাম মল্লিকা ও পুরুষ ।
তারপর কাল হলো সেই প্রতিবাদ- কালোছায়া ওর জীবনে ঘোর অন্ধকার হয়ে নেমে এলো ২৫শে মার্চ রাতে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে হত্যা । প্রথমে ঘুমের ঔষধ তারপর বিষ প্রয়োগ তদন্ত প্রমানিত রায় ফাসি এবং কার্যকর । দুই পক্ষে টাকার খেলা দেখে হতভম্ব হয়েছিলাম আমি । তারপরও থাকং গড – বিচার পেয়েছিলাম আমরা । ধর্মের কল নাকি বাতাসে নড়ে এখন আর নড়ে না , ন্যায় বিচার পেতেও অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে হয় অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে হয়, অন্যায়কে স্বীকৃতি দিয়েই ন্যায়ের স্বীকৃতি নিতে হয় । আইন প্রমাণ চায় সেই সাক্ষী প্রমাণ জোগাড় করা আবার বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশংক্ষা, জীবন নাশের হুমকি, প্রভাবশালীদের চাপের মুখে টিকে থাকা সে এক নৈতিক স্খলনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা । হায়রে পুরুষ- মানুষ হতে চেয়েছিলি আইনের সার্টিফিকেট নিয়ে!!!
DHL অফিসে ডুকে টোকন নম্বর নিয়ে বসে অপেক্ষায় আছি, ভাবছি নতুন সেটটা দিয়ে প্রথম কলটা কাকে দেব? নম্বর জানা থাকবে একটা conference কল করতাম- তার আগে মামাকে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতাম SMS এর মাধ্যমে । সন্ধ্যা, অন্তরার সাথে খুনসুটি নতুন সেটে কী আওয়াজ ভেসে আসতো একজন চিরদিনের বন্ধু অন্যজন হৃদয়ের শুষ্কতা ভিজিয়ে দেওয়ার আ’জমন সঙ্গী । আমার টোকন নম্বর ১২৭ এখন আরো পাঁচজন পর আমার ডাক পড়বে । হ্যালো কে বলছেন? জ্বী মামা আচ্ছালামু আলাইকুম কেমন আছেন, হ্যাঁ আমি এসেছি অপেক্ষায় করছি , জ্বী – অল্প সময়ের মধ্যে হাতে পেয়ে যাব – আপনি চিন্তা করবেন না আমি হাতে পেয়ে আপনাকে SMS করে জানিয়ে দিব । জ্বী- জ্বী মামা – ওকে মামা ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ । কাউন্টারে ১২৭ ভেসে উঠলো আমি সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে তথ্য দিলাম এবং আইডি নম্বর মিলিয়ে আমাকে পার্সেলটা দিলো আমি নিয়ে খুলে চেক করে মিলিয়ে বেরিয়ে আসলাম এবং সাথে সাথে একটা SMS স্বীকার উক্তি ও কৃতজ্ঞতা লিখে পাঠিয়ে দিলাম । সেটটা ওখান থেকে চার্জ করে পাঠিয়ে ছিল বলে আমি আমার ন্যানো সিমটা লাগিয়ে সেট অন করলাম সেটিং করা ছিল তাই বাড়তি কোন সময় আমার নিতে হয় নাই। সোজা সন্ধ্যাকে কল করলাম – হ্যালো
এই কয় জায়গায় কল শেষে আমাকে এতো পরে কল করলি শুনি?
কেন তোকে প্রথমে কল করতে হবে শুনি? নতুন সেট বন্ধু-বান্ধব আরও আছে না তাদের সাথে আজ আগভাগে কথা সেরে নিলাম– তোর সাথেতো সব সময় কথাই হবে তাই না?
এই তুই ফোন রাখ, আমার কাজ আছে যতসব, বাই ।
হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো------ ধাত্ লাইন কেটে দিয়েছে- ডোজটা মনে একটু বেশী দিয়ে ফেললাম, এই কিভাবে সামলাবো? ধুত্ করার সময় হুস থাকে না- এখন তো আর ফোন ধরবে না, না আরেক বার ট্রাই করি, ইস সুইচ অফ- আমি জানি যে ও কী করতে পারে!! শুধু শুধু ঝামেলা বাঁধালাম – যাই ওর কাছে তারপর দেখছি ।ধানমন্ডি থেকে বাসে সোজা শাহবাগ ছুটলাম- বাসে উঠে সিট মিললো না কপালে, মন খারাপ হলো কারণ নতুন সেটটা একটু চালিয়ে দেখতে চেয়েছিলাম, কী আর করা পকেট সাবধান সেই সাথে মন অস্থির বেশ imbalance মনে হচ্ছিল,সামলে নিতে থাকলাম আর চোখ রাখলাম সিট পেলেই বসার সুযোগ নিতে হবে ।বেশ সময় অতিবাহিত হলো কিন্তু কারোর উঠার নাম নাই ঘড়ি দেখি ৪৫ মিনিট হয়ে গিয়েছে উফ আজ এতো খুশীর সাথে এই চলমান সময়টা ঠিক যাচ্ছে না বলতেই বাস দাঁড়িয়ে গেল, সামনে তাকিয়ে দেখি গাড়ীর মিছিল সমেবেত হয়েছে একটি শ্লোগানে “শহর তুলনায় মানুষ বেশী রাস্তা তুলিনায় যানবাহন বেশী কেমন বন্টন মানি না মানব না” “জনচাপে আমরা কাহিল, গাড়ির চাপে প্রাণ কাহিল- নষ্ট ধূয়ার কষ্ট শহর- জীবন নাশের একি রঙ্গ!” পরিস্থিতি দেখে কিছু প্যাসেঞ্জার নামতে শুরু করলো সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বসে পড়লাম- বেশ একটু আরাম লাগছে, সুগোগ পেয়ে পানি বিক্রিতা বাসে ঢুকে “এই পানি- এই ঠান্ডা পানি বলে সুরে সুরে বলছে, মেঘ না চাইতে বৃষ্টি মতো জল ছুঁয়ে গেল প্রাণে- এই ভাই এই দিকে এক বোতল, নিয়ে ঠান্ডা পানি ঠোঁটে লাগিয়ে চুমুক গলা ভিজে প্রাণ জুড়িয়ে গেল, স্বস্তির ঢেকোর তুলে ফেসবুকে একটু মননিবেশ করার চেষ্টা, অন্তরার প্রোফাইলে গেলাম- এ-কী লিখেছে
মা-মনির জন্য খেলনা! বেশ কিছু খেলনার ছবি । একটা খটকা লেগে গেল মনে কিন্ত কোন ভাবে মন মেনে নিচ্ছে না । হেল্পার শাহবাগ শাহবাগ বলে চিৎকার করছে আবার নামার পালা, বাস দাঁড়ালো ইচ্ছে মতো নামতে বাধ্য হলাম । হায়রে নিয়ম ছাড়া চলবলন বলার কেউ নাই, হেটে যেতে শুরু করলাম পাবলিক লাইব্রারীর কোণায় যেতেই দেখি সন্ধ্যা এইদিকে আসছে । এই সুযোগ, তাকিয়ে দেখি পাশেই আইসক্রিম এই গরমে নিশ্চয় আইসক্রিমে খুশী হবে, দৌড়ে যেয়ে আইসক্রিম কিনে নিয়ে ওর পিছন পিছন হেতে খুব কাছে যেয়ে বললাম এতো ডাকি তাও শুনিস না কেন ও আতঙ্কিত হয়ে ফিরে দেখে আমি
এই তুই এভাবে আমাকে ডাক্লি কেন আমি তো আঁতকে উঠেছি উফ কবে যে মানুষ হবি!!! আমার কাছে কী ্ তুই তোর কাজে যা আমি এখন বাসায় যাব ।
একা যাবি কেন আমি যাব না?
 না এখন থেকে একা চলার অভ্যাস করতে হবে এবং নির্ভার চলা জানতে হবে । এই রিক্সা দাঁড়ান নিউমার্কের পাশে যাব, যাবেন? ওঠেন আফামনি
ঠিক আছে অনন্ত তুই থাক আমি আসি ।
ঠিক আছে তবে তোর জন্য আইসক্রিম কিনেছি এটা নিয়ে যা আর একবার সেটটা হাতে নিয়ে দেখ । ধর –
কিছু সময় ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল- ঠিক আছে তুই খেয়েনে আমার খেতে ইচ্ছে করছেনা আর সেটতো দেখাই যাচ্ছে ধরে দেখার কী প্রয়োজন- ভালো থাকিস বলে রিক্সা চালাতে বলল ।
মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে- সন্ধ্যা চলে গেল- তারপর উল্টোদিকে হাটা শুরু করল কিছু সময় পর পিছন থেকে অনন্ত বলে কে যেন ডাকছে ফিরে দেখ সন্ধ্যা । তবুও নিষ্প্রাণ আমি ।
এই অনন্ত চলে আয় ওঠ রিক্সায় – কী হলো?
কোন কথা না বলে রিক্সায় উঠে বসলো-
 আইসক্রিম গলে গলে ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরছে দেখে সন্ধ্যা বলল কিরে তুই ধরে বসে আছিস কেন আমাকে একটা দে আমি খাবো । কোন কথা না বলে আইসক্রিম ওর দিকে বাড়িয়ে দিলো ।
সন্ধ্যা নিয়ে খেতে শুরু করলো এবং বলল তুই বসে আসিছ কেন খাবি না ?
 না খেলে আমি ফেলে দেবো কিন্তু
অনন্ত খাওয়া শুরু করলো ।
সন্ধ্যা ফোনটা দেখবি না ? হ্যাঁ দেখব এইদিকে দে দেখছি, বাহ অনেক সুন্দরতো সেটটা – একটা কাজ করো আয় আমরা পাল্টাই ।
 ইস! এই তুই ফোন দে আমার আর দেখতে হবে না ।
দেবো না – এটা আমার সেট ।
মানে কী? এতো সখ করে আমি আনালাম এখন বলে কিনা এই সেট ওর! এই তুই আগে সেট দে তারপর অন্যকথা-/
 জ্বী-না , এটা আমার সেট ।
কী করে বলতে বলতে সেট ব্যাগে ঢুকাচ্ছিস কেন?
আমার সেট আমি ডুকাবো নাকি বাইরে রাখব সেটা আমার একান্ত ইচ্ছে তুই এটা বলিস কেন?
ঠিক আছে ঐ সেট নিয়ে আমি আর কোন কথা বলবো না – তোর যা ইচ্ছে কর আমি এখানে নামবো । এই ভাই এখানে রাখেন ।
এই রিক্সা আপনি চালিয়ে যান ঐ পাগলের কথা শোনা লাগবে না ।
কী বলে এইসব আমি নাকি পাগল
এই চুপ – তুই পাগল একটা কথা বলবি না ।
ঠিক আছে তুই ও আমার সাথে কথা বলবি না, ঠিক আছে?
ঠিক আছে আমি এখন তোর সাথে কোন কথা বলবো না ।
এখন না শুধু, কখনও কথা বলবি না ।
সেটা সময় এলে দেখব গাধা !
আর কোন কথা নয় দুজনেই রেগে ভোম ! শুধু চোখাচুখি আর অন্যদিকে তাকিয়ে থাকা । সন্ধ্যার বাসার সামনে এসে নেমে গেল কোন কথা বলল না ।
অনন্ত চলল নিজের নীড়ে ফিরতে, নেমে ভাড়া দিয়ে সোজা রূমে । ফোন বেজে উঠলো দেখে সন্ধার কল রিসিভ করলো না – ম্যাসেজ লিখে দিলো ঐ সেট তোকে দিয়ে দিলাম ওকে । তোর অনেক পছন্দ ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিলাম- ভালো থাকিস ।
আজ অনেক আগেই বাসায় ফিরেছে তাই অনন্ত ভাবছে একটু ঘুমিয়ে নেবে । ফ্রেস হয়ে শুয়ে পড়লো মোবাইল অফ করে দিয়ে । দরজায় নক করলো কোন সাড়া পেলো না কিছু সময় অপেক্ষার পর আবার নক করলো এবার সাড়া পেলাম, মিলি দরজা খুলে দিলো, কী খবর কেমন আছো তোমারা সবাই?
জে- ভালা আছি , আফনে কেমন আছেন?
ভালো, চন্দ্রা কোথায়?
ঐ দিকে খ্যালতাছে-
ওকে ডেকে নিয়ে আয় বল আদরমা এসছে ।
আইচ্ছা –
আদরমা আইছে চন্দ্রা – তোমারে ডাহে আদরমা
আদমমা এসছে? কোথায়?
ঐ রুমে –
আদরমা –আদরমা ও আদরমা! টূমী কেমন আছো?
 এইতো মা ভালো – এই দেখো তোমার জন্য অনেক খেলনা নিয়ে এসছি ।
দেখি দেখি – ওয়াও এতো খেলনা !! আদরমাকে একটু আদর করে দেই – বলে গালে লম্বা একচুমো ।
হি হি হি ঠিক আছে মা হয়েছে – কী মিষ্টি আদর – এটা না দিলে কী আমার মন ভরতো মা ? তুমি অনেক লক্ষী একটা মেয়ে । ঠিক আছে মা তুমি এইগুলি নিয়ে খেলা করো তারপর একটু পড়ো কিন্তু কেমন ?
ঠিক আছে আদরমা । তুমি চা খেয়ে যাও।
না মা আমার তাড়া আছে – আসি মামনি , ভালো থেকো । টা টা –
টা টা আদরমা ......

 >>>>>>>>চলবে>>>>>