Home » » অনন্ত-অন্তরা (পঞ্চম পর্ব)

অনন্ত-অন্তরা (পঞ্চম পর্ব)

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 23 September, 2018 | 12:37:00 AM
























> সৈয়দ মিজানুর রহমান < 

বাসার সামনে নেমেই ভাড়া মিটিয়ে সোজা দোকানে যেয়ে এক প্যাকেট ব্যানসন সিগারেট চাইলাম নাই বলে বিমুখ করলো- ওকে- 555 সিগারেট আছে কি?
জ্বী আছে –
তাহলে ওটা দিন – ফেরত টাকা পকেটে ঢুকাতে ঢুকাতে বাসায় ঢুকে পড়লাম, ধুম ধাম লাইট অন- ড্রেস চেঞ্জ এবং ঝটপট ফ্রেস – টাওয়ালটা ঘাড়ে নিয়েই কম্পিউটার অন করে কিচেনে চায়ের জন্য পানি ফুটাতে দিলাম – ফিরে এসে Password দিয়ে Enter করে চা বানাতে গেলাম । এক মগ ব্লাক টি বানিয়ে টেবিলে নিয়ে বসলাম- Yes Ashtray টা নিয়েই বসি- দিয়াশেলাইয়ের কাঠির একটি ঘর্ষনেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করে সিগারেটের মুখে আগুন দেওয়ার সুবাদে একটি সুখ টান এবং “ধুম পান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা ধুমপান বিষপপান” একটি পুর্নাঙ্গ বিজ্ঞাপন ফ্রী পরিবেশনের মধ্যদিয়ে রাতে শুরু উজ্জাপন করলাম । এবার একটা শান্তির নিঃশ্বাস নিলাম, চোখ নিবিড় হলো মনিটরের দিকে- Moving Mouse – Cursor খুজছে অন্তরাকে হৃদয়ের সঙ্গে বিনাতারের নিগুঢ় সম্পর্ক গড়ে দিতে । কিন্তু আমি জানি অজ্ঞ cursor এর বৃথা চেষ্টা কারণ ওর আগমনের সময় এখন হয়নি – তবে নাম ছুঁয়ে দিয়েও সুখ খুঁজে নেওয়া যায় cursor তা জানতো-ধন্যবাদ তোমাকে সেই অনাবিল সুখ তৃষ্ণা জাগানোর শিহরণ খুঁজে দেওয়ার জন্য । 
"তোমায় না পেয়ে বন্ধু মন মোর জাগে স্বপনে –
হলুদ জমিন লাল পাড়ে পরলে তুমি ঢং তার আটপৌড়ে
আলতা পায়ে- নুপূর তার এক পায়ে-
কাজল বরণ কেশ তার- খোঁপায় গুঁজা গোপাল সাদা-
প্রেয়সীর সাঝে সেও সেজেছে এ যেন নব যৌবনা প্রকৃতি !
কী অপূর্ব প্রকৃতি-
ঐ চরণ যেন যায় ছুঁয়ে হৃদয় –
সবুজ, ধুসর মেঘ, নুড়ি পাথর বুকে আগলে
ধন্য জনম তোমার পরশে ।
 হঠাৎ সোরগোল বাইরে চোর চোর আওয়াজ তুলে ভাবনায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো সুখের বৃষ্টি বন্ধ হলো ! এমন প্রায়ই ঘটে এখানে! চুরি-ছিনতাই হয় অহরহ বিভিন্ন জায়গায়, তা শুনি- কী আজব পেশায় নিয়োজত ?- অস্ত্র, সন্ত্রাস, মাদক- নেশা, ধর্ষণ, বিবেক ধ্বংস- সমাজের অবক্ষয় কী দিয়ে ঠেকাবে? অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে মানবতার উন্নয়ন একসাথে চলতে পারলেই শান্তির হাওয়া চলবে বয়ে ।
অনন্তকে ফোন করছি বার বার কিন্তু সুইচ অফ পাচ্ছি ! এতো তাড়াতাড়ি কি ঘুমে পড়লো? হতে পারে আজ বেচারার অনেক কষ্ট হয়েছে । আমি সন্ধ্যা অনন্তের কত কাছের বন্ধু সেটা আজ নির্লোভ চোখ দুটি দেখে বুঝে নিয়েছি, ও কত ভালো – আমার জীবনের সেরা এই একমাত্র বন্ধু অনন্ত যাকে পূর্ণ বিশ্বাস করা যায় । অনেক মায়া আছে ওর চোখ দুটিতে আছে অনড় বিশ্বাস দরদ ভরা কথা মায়া ভরা কথারমালা তাছাড়া আমার পরিবারও ভাবনাহীন হয়ে ছেড়ে দেয় ওর হাতে- কতটা বিশ্বস্ত হলে এমনটি হওয়া সম্ভব ভাবি মনে একা একা !!!
হ্যালো- কেমন আছেন? –এই যে বিধ্বংসী আছেন ওপাশে? নাকি এসেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন? দয়া করে আমায় একটু কৃপা করুণ – সেই কখন থেকে আছি বসে পথ চেয়ে আপনার সোজা কথা শুনবো ভেবে ।
 হুম- ভালো আছি, অনেক ভালো- বলতে পারেন দারুণ আছি হেব্বি আছি- নিশ্চয় আপনি ভালো আছে তাই আর জিজ্ঞাসা করলাম না । তা কী মনে করে আমার দুয়ারে হানিলেন আঘাত? কোন সমস্যা হয়নি তো? পালানোর জায়গা কিন্তু আমার বাসায় নেই- সেটা ভেবে যা বলার ঝটপট বলে ফেলুন ।
আপনার তেজ কথায় আমি ভুলে গিয়েছি সব ! কী বলবো বুঝতে পারছি না এখন । কত কথা সাজিয়েছিলাম সব পন্ড করে দিলেন! এতো নিষ্টুর হলে কি হয় বলুন? একটু সহজ হলে কী হয়?
হি হি হি --- ঠিক আছে আমি সহজ হলাম – এবার বলুন কী বলতে চান? কী ব্যাপার- ভয়ে পালিয়ে গেল না তো(মনে মনে বলছি)। হ্যালো---
 জ্বী— আমি এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না --- আমাকে আগে স্বাভাবিক হতে দিন পরে কথা বলল – ভালো থাকবেন –
 আরে এই দেখছি অন্য রকম ছেলে!! উল্টো আমাকে কিনা !! ঠিক বুঝতে পারছিনা – তাহলে তো একটু দেখতে হয় বাজিয়ে । ওকে- এখনই এক কাপ ধুঁয়া উড়া কফির চুমুক চাই ! মিলিকে ডেকে বললাম – আমার এই মুহূর্তের চাওয়াটা যেন পূরণ করে । হ্যালো- জ্বী বলুন হ্যাঁ আমি অন্তরা বলছি – হ্যাঁ – হ্যাঁ হ্যাঁ – ঠিক আছে কাল ওকে আমার কাছে একটু পাঠিয়ে দিবেন আমি ওর সাথে কথা বলা দেখি । ওকে --- আপনিও ভালো থাকবেন । কী যেন নাম ওহ অনন্ত- হ্যাঁ অনন্ত সাহেব এখন কথা বলা যাবে? মনটা কি স্বাভাবিক হয়েছে?
বুবু এই আফনের কফি – একদম যেমন কইছেন তেমনি হইছে- কী যে সুবাস মন ভোইরা যায় –
তাই নাকি?
এখানে রেখে যা ।
জ্বী বুবু-
হ্যালো-
জ্বী আমি আছি যাইনি –
 হ্যাঁ এবার বলুন কী বলতে চেয়েছিলেন?
হ্যাঁ বলছি-- আমি যখন আপনার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসেছিলাম এই জটিল নেটের দুর্গম পথে- তখন কিছু অনুভব আমায় তাড়া করেছিল- সেই কথাগুলি আমি লিখেছিলাম- যদি আপনি চান তাহলে আমি এখানে পাঠাতে পারি- তবে এক শর্তে রাগ করতে পারবেন না ।
হি হি হি --- আচ্ছা রাগ করবো না – পাঠান
তোমায় না পেয়ে বন্ধু মন মোর জাগে স্বপনে –
হলুদ জমিন লাল পাড়ে পরলে তুমি ঢং তার আটপৌড়ে
আলতা পায়ে- নুপূর তার এক পায়ে-
কাজল বরণ কেশ তার- খোঁপায় গুঁজা গোপাল সাদা-
প্রেয়সীর সাঝে সেও সেজেছে এ যেন নব যৌবনা প্রকৃতি !
কী অপূর্ব প্রকৃতি-
ঐ চরণ যেন যায় ছুঁয়ে হৃদয় –
সবুজ, ধুসর মেঘ, নুড়ি পাথর বুকে আগলে
ধন্য জনম তোমার পরশে ।
পেয়েছেন ?
হি হি হি – আপনি এইগুলি কী ভাবেন ? এটা একদম ঠিক নয় – আপনি শেষ পর্যন্ত কষ্ট পাবেন । আমি একজন নিরস মানুষ – আমার মধ্যে অনুভব থাকলেও তার বহিঃপ্রকাশ মোটেও নেই । আমারও কল্প জগত আছে তবে আমি বাস্তববাদী, তাই বলি কী সুবোধ বালকের মতো অন্য কাউকে খুঁজে নিন । আমি এই জগতে অধরা থেকে যেতে চাই ।
 আপনি পাথর তো নন- মন আছে বুঝতে পারেন – অনুভূতি আছে – প্রশ্রয় দেন না – মানুষ না পেলে কেনই বা সেই প্রশ্রয় দেওয়া – আমি চাই না আপনার মতো একজন ভালো মানুষ নিকষ সাদৃশ্য মানুষের দেখা না পেলে সেই গভীরতা্য় সাধারণ কেউ ঠাই পাবে না । বাস্তবতায় সেই সম্পর্ক টেনে নিয়ে আসতে তেমন কাউকে জীবনের প্রয়োজন ।
 আপনার কথাগুলি এই প্রথম এই জগতে এসে ভালো লাগলো – এই ভাবনার মানুষের সাথে এই প্রথম দেখা হয়তো আরো আছেন কিন্তু আপনি আমার দেখায় প্রথম – হতো এটা আমার ভাবনার জন্য কিছুটা হলেও পজিটিভ । আচ্ছা – আপনার সম্পর্কে কিছুই জানা হল না – এতো লম্বা সময় ধরে বকবক করছি অথচ আপনাকে জানা হল না – মোটেও ঠিক হয়নি এটা – এই জন্য আমি আন্তকির ভাবে দুঃখিত । যদি কিছু মনে না করেন অন্তত আপনি কী করেন সেটা বলুন – নিশ্চয় নাম আপনার অনন্ত?
 হ্যাঁ- আমিও আপনাকে জানতে চেয়েছিলাম –কিন্তু দুর্ভাগ্য সুযোগ পাইনি – এই সুযোগ দেওয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে সাথে আপনার পরিচয় ও ফিডব্যাক চাই । তাহলে জানুন – আমি অনন্ত মনে প্রাণে একদম নিখাত অন্তরার সনে – ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স করছি social welfare এ ছয় মাস আছি এখানে তারপর এখন ভাবিনি কী করবো-
আমি অন্তরা কোন হৃদয়ে নই আমি – নিশ্চিত আমি আক্ষরিক অন্তরা নামটা শুনতে মধুর- আমিও আপনার পাশেই আছি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে BBA তে শেষ সেমিস্টারে ।
তাহলে তো আপনাকে খুঁজে নেওয়া খুব কঠিন হবে না – আসুন আমরা দেখা করি –
 জ্বী না বাবু – সেটা হবে না
 ঠিকা আছে আমিই আপানার সামনে গিয়ে দাড়াবো হঠাৎ করে একদিন –
পাবেন না খুঁজে আমায় –
কেন?
অন্তরা আমার ডাক নাম এটা আমার পারিবারিক খুব আদরের নাম – ওখানে এই নামে আমাকে কেউ জানে বা চেনে না ।
তাহলে ?
তাহলে কিছু নয় – আপনি চাইলে এখানে অবসর সময় কাটাতে পারেন – আমারও অবসর সময় কাটেতে খারাপ লাগছে না ।
 দেখুন- জীবনে এতো সময় কোথায় পাবো বলুন – অপচয় করার মতো সময় আমার নেই – ভাবাবেগ আছে, ভাব করার জন্য নয়, ভালবাসার জন্য, একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার জন্য । অনুভূতি প্রখর,আছে কল্পনায় সাত রঙের রামধনু,সেখান থেকে রঙ নিয়ে আঁকতে চাই বাস্তবতার এক নতুন উন্মুক্ত দিগন্ত যেখানে অবাধ বিচরণ থাকবেন দু’টি মনের। ঝর্ণা থাকবে- থাকবে নদী, থাকবে দুকূল উপচে পড়া ভালবাসা,পাহাড় থাকবে, থাকবে তার পাদদেশে ছোট্ট একটি নান্দনিক কুঁড়ে ঘর বাতায়ন বেয়ে ভেসে আসবে ঝর্নার কলরব,স্বচ্ছ জলের অববাহিকায় জলে আধো ডুবা পাথরে মুখোমুখী কখনও পাশাপাশ প্রাণ খুলে প্রেমের দর্পনে চুখাচুখি অন্তর চিনে নিতে জীবন দর্শনে । সমুদ্রের বিশালতায় খুঁজে নেব অনুভবের ছায়াপথ,নীল আকাশের ডানা মেলবো চাতক মনের খেয়ালে,জলের নুপূর পরাবো প্রভাতে শিশির বিন্দু কুঁড়িয়ে, ঘাসের ডগায় শিশির কণা ভরের আলোয়ে মুক্তদানায় গলার মালা দেব বানিয়ে, যাবো চলো ঐ গোধূলী বেলায় বেড়াতে হাতে হাত ধরে গোধূলীর রঙ মাখবো দু’জনে । ভালবাসার স্বপন হৃদয় আলয়ে প্রেম প্রদীপ জ্বালা্বো ।
বাহ্ অনেক ভালো স্বপ্ন দেখে আপনি – কল্পনা শক্তি অনেক প্রখর দেখছি – এতো প্রতিভা যার মনে প্রাণে সে কী করে এতদিন একা? কৌতূহলী মন প্রশ্ন করে, জানতে ইচ্ছেও করে, যদিও সে অধিকার আমি চাই না, তবু কথা প্রসঙ্গে এসে গেল তাই ইচ্ছে হলে বলতে পারেন ।
"হৃদয় মন্দিরে ছায়ামুখ নিরন্তর আনাগোনা করে,
প্রকৃতির ছায়াতলে বীজমন্ত্র অবহেলায় ছিল পড়ে ।
অঙ্কুরিত হবার উদ্যমে ছায়ামুখ সঙ্গে ঘোরে সন্ন্যাসী হয়ে,
করবে সে ব্রত পালন ছায়ামুখ উদ্ধারে- বৃষ্টি লগনে
অঙ্কুরিত হবার স্বপনে ।
বাহ্ কবির ভাষায় সাড়ে চার লাইনে ব্যাখ্যা টেনে সারমর্ম বানালেন! অপূর্ব বলার ভঙ্গিমা ।তবে হ্যাঁ আপনি ভালো সাহিত্যিক এটা অকপটে স্বীকার না করে উপায় নেই । যদি এই লেখার সাথে মনটা হুবহু মিলে যায় তাহলেই জীবনের সার্থকতা । একটি অবিশ্বাস সব সময় তাড়া করে ফেরে মিষ্টি ভাষাভাষীর মানুষ দেখলে যেমন ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায় । সমাজজীবন সমাজচিত্র তাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ।
ধন্যবাদ, তবে আমি সাহিত্যিক নই- আমি আমার মনের ভাব বা ইচ্ছে, স্বপ্ন , আশা যে ভাবে দেখি তার নিমিত্তেই কথা বলার চেষ্টা করি আমার নৈতিকতা ও আদর্শের জায়গা থেকে এর বেশী কিছু নয় ।
আমি অলীক স্বপ্নে ভাসিনা, আমার দু’চোখ রঙহীন ফ্যাঁকাসে বাস্তবতার আকাশে জরাজীর্ণ কাটা বিছানো পথে- আমি রূপ দেখিনা, লম্বা বা খাটোও নয়, জীবনে ভালোভাবে বাঁচতে টাকার প্রয়োজন মানি, মেধা, শক্তি , সাহস, ইচ্ছে, মনোযোগ নিষ্ঠার সাথে নৈনিকতার বলয়ে এগোতে পারলে সততাকে পূঁজি করে জীবন চলতে সমস্যা হয় না, তাই আমি ভয় পাইনা, শুধু ভয় পাই একজন পুরুষকে ভালবাসতে কারণ যদি সে মানুষ না হয়ে ওঠে!!
“সবার উপরে মানুষ সত্য তার উপরে নাই
অন্তর্নিহিত নারী-পুরুষ অন্তহীন বীজমন্ত্র
সেতো পরিপূরক একের মধ্যে দুইয়ের”
এখানে যে যার অবস্থানে সে-ই অদ্বিতীয়, খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই ।আমি বলবো পুরুষ তো বেঁচে আছে নারীত্বে- নারীর ভালোবাসা বিহীন পুরুষ--
মানুষ হয় কিভাবে? সেই নারীকে অসম্মান, নির্যাতন, পাশবিক অত্যাচার, বয়স মানে না ধর্ষণে!! নৈতিকশিক্ষা আমলে না নেওয়ার কারণে মানসিক অবস্থা কদাকার “ মানুষ মানুষের জন্য” গানের কলিটি হারিয়ে যাচ্ছে দিনদিন মানবতার নামে যতসব বাণিজ্যে !! সমাজ বা সরকার প্রতিরোধে ব্যর্থ – সামাজিক বিপ্লব ছাড়া এখন আর কোন পথ খোলা নেই- তখনই কেবল আইন তার সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারবে যখন বিপ্লপ সফল হবে ।
 কথাগুলি বেশ গুরুত্বপূর্ণ, বিড়ালের গলায় ঘন্টি বাঁধার লোকের বড় অভাব, এতো ভারী ভারী কথা আর ভালো লাগে না , বাদ দিন না এইসব কথা অন্য কথা থাকলে বলুন ।
আজ ভরা পূর্ণিমা জানে তো?
 না জানিনা তো ! চাঁদকে ঘিরে চেড়া মেঘের কী দুর্দান্ত আনাগোনা! চাঁদকে ভালোবাসবে তাই এতো চাওয়া!
হা হা হা – বেশ বলেছেন! তার আগে বলুন তো আপনি এখন কোথায়? কিভাবে দেখছেন এই মোহিত দৃশ্য?
আরে বাবা আমি এখন ছাঁদে- ভরা পূর্ণিমায় কী করে ঘরে থাকি বলুন? ঐ চাঁদ যে আমার সখী, সহচর- কতকথা বলি ।
এতক্ষণে একটি জায়গায় মিল খুঁজে পেলাম, আচ্ছা আপনি গান গাইতে পারেন?/
তাই বুঝি – তাহলে খুঁজে পেয়ে গেলেন একটি দুর্বল জায়গা – এখন কী করবেন শুনি? হ্যাঁ একটু একটু গুনগুন করতে পারি, কেমন বলুনতো ?
হ্যাঁ পেয়েছি – আপনার দুর্বলতা আমাকে আরো বেশী নমনীয় করে তোলে- আজ একটি নদীর আবিষ্কার করলাম, যে নদী নারীর মতো – নারী ও নদীর মতো কথা কয় । গান যখন জানেন সে জানায় আমি ভীষণ পুলকিত ।
 কী ভীষণ কথা ! বাক রুদ্ধ হয়ে আসে শুধু ভেতরটা খিলখিল হাসে, আচ্ছা কেন এতো পুলকিত হলেন?
"চাঁদনী রাতে যাব ছাঁদে প্রেয়সীর হাত ধরে
বিছিয়ে পাটি হারমনিয়ামে ধরবে গান সুরে
সুরে ঐ ভরা পূর্ণিমা রাতে । হারিয়ে যাব সে
সুরের মূর্ছনায় অবাক নয়নে রবো চেয়ে প্রেয়সীর
মুখাবয়বে । চাঁদকে বলবো, তোমাকে বলেছি
যার কথা সে মোর বাহু ডোরে, আর কষ্ট দেবনা
জ্যোৎস্না বিলিয়ে তুমি যাও নীরবে ঘুমিয়ে ।
আমি থাকি প্রেয়সীর আঁচলতলে অঘোম মায়ায়
প্রেম জুড়ে ।
হি হি হি – হৃদয় বসনের একটি বোতাম খুলতেই একদম পেয়ে বসলেন? কী বলবো , অপরূপের কণা দেখেই মন এতো চঞ্চল হয়ে ওঠে- বোতাম সব খুলে গেলে কী করবেন সেটা বুঝতেই পারছি – হি হি হি।। আজ আর নয়, ভালো থাকবেন । শুভ রাত্রি ।

>>>>>>>>চলবে