Home » » অনন্ত-অন্তরা ==> অষ্টম পর্ব

অনন্ত-অন্তরা ==> অষ্টম পর্ব

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 29 September, 2018 | 12:45:00 AM

























> সৈয়দ মিজানুর রহমান <
  বেদনার আগুনে আকাঙ্ক্ষার রঙিন শব্দগুলি জ্বলে অঙ্গার হলো অনুভবের কথন । জ্বরের ঘোরে যদিও প্রলাপ হৃদয়ের সত্য এলো বেরিয়ে । তারপরও বিড়বিড় করলো অনেক সময়, চোখে মুখের প্রতিচ্ছবি এঁকে দিয়ে, দিলো বিরহের মলিন করুণ ছবি । সে মলিন ছবির আড়ালে কখন যেন ঘুম নামের মন্ত্রে শান্ত হয়ে গেল অনন্ত ।
 অন্তরা ভাবছে, সে কি ঠিক করেছিল না কি ভুল? গত রাতের জমকালো আয়োজনের রঙিন বাতিগুলি বন্ধ করে দিলাম, স্বপনের ঝাড়বাতি নিভে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে সাদাবাতির ঝলকে কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে পড়েছিল অনন্ত !!! কিন্তু কী করার ছিল বল? হাজারো ফাঁদের মোড়ক নামের মানুষ সে এক অন্যরকম পুরুষ নির্দয় বাহুবলি!! কী মধুর বাণী চমক লাগিয়ে অনুপম উপমা দেয় জুড়ে সুন্দরের পূজারীর নামে বহুরূপীর অবতারণ মুখোশী প্রেমিকমানুষ । হৃদয়ে যে প্রেম জাগে না তা কস্মিনকালেও বলবো না- প্রেম জোয়ারে মন যে ভাসে না-প্রেমিক পুরুষের বুকের উষ্ণতায় নিজেকে সঁপে দিতে মন যে চাই না- ভালবাসার উর্বরজমির স্বপ্নে প্রাণ যে দোলে না তা কিন্তু নয়!! ঢের বুঝি- স্বপ্নে ভাসি, শুধু খুঁজে পাইনি আজো সেই পুরুষ নামের সত্যিকারের মানুষটি । যার আঙ্গিনায় নগ্ন পায়ে রুমঝুম নুপুরের নিক্কন বাদ্যি বাজিয়ে কাঁচের চুড়ির রিনিঝিনি শব্দে এলো চুলে উদাস মনে গোধূলি বেলার দখিণা হাওয়ায় স্বপ্ন আঁকবো প্রিয়ার অপেক্ষায় । তাই তো বাজিয়ে নেওয়ার পালার সবে মাত্র প্রথম পালা । কী সব ভাবছি? হি হি হি (আবেগী অশ্রুসিক্ত হাসি) ।মুচকি হাসি দিয়ে অন্তরা ফেসবুকে ডুকলো- খুঁজছিল কোথাও কোন লেখা বা কমেন্ট আছে কি না- কিন্তু অবাক হয়ে ভাবল বেচারা কোথাও কোন একটি অক্ষরও রেখে যাইনি আমার জন্য!!তাহলে আমার কথায় কি খুব কষ্ট পেয়েছে? দেখি দেখি আমায় আবার আনফ্রেড করে দেয়নি তো? বাঁচা গেল এটা করলে যথেষ্ঠ অপমান বোধ হতো । কিন্তু অনলাইনে কেন আসছে না? আমি তো তাকে বলিনি আর কথা বলবো না কিন্তু সে আমাকে বলেছিল ঐ দিনের পর থেকে তার ভালবাসা আমার কাছে আর পৌছাবে না । কিন্তু কথা মানে তো আর ভালবাসা নয়! কথা সে কেন বলবে না । কিন্তু কেন আমার মধ্যে এইসব প্রশ্ন জাগেছে আজ? আমি আবার অনন্তের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছি না তো ? নাহ- তা কী করে? আমি তো এমন মেয়েই নই, বাস্তবতাই আমার কাছে বেশী গুরুত্ব সেখানে আবেগ থাকবে কিন্তু প্রশ্রয় নেই ।তবে ছেলেটা রাত দশটার দিকে অনলাইন হয় এখন সাড়ে দশটা, আজ মনে হয় আর আসবে না, হয়তো বাইরে কোথাও ঘুড়তে বা কাজে আছে । এগারোটা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকবো তারপর সোজা অফ লাইন । ভোরে উঠতে হবে অনেক কাজ আছে আগামীকাল ।
 সন্ধ্যা কয়েকবার অনন্তের রুমে এসে ফিরে ফিরে গিয়েছে ঘুম দেখে, ঔষধ খাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে তাই এবার অনন্ত, অনন্ত বলে ডাকে কিন্তু কোন সাড়া পেল না- ঘাবড়ে গিয়ে ওর গায়ে হাত দিয়ে অস্থিরতা কমালো- এবার ওর গায়ে হাত রেখেই মৃদু নেড়ে জিজ্ঞাস করলো এ-ই আর কত ঘুমাবি এবার ওঠ রাতের খাবার খাবি ঔষধ খাবি রাত প্রায় ১১টা হতে চলল- মুখে কোন কথা না বলে চোখ মেলে তাকিয়ে রইল- সন্ধ্যার চোখের ইশারায় অনন্ত বলে উঠলো কিছু বলবি ?
 তুই রাতে খাবি না তোর ঔষধ আছে সেটা খেতে হবে না? ওঠ ফ্রেস হয়ে আয় আমি তোর খাবার দিতে বলছি । উঠে ফ্রেস হতে হতে খাবার চলে এসেছে ওর রুমে, খেতে খেতে সন্ধ্যা বলল-
কী ব্যাপার এতো ঘুমিয়ে থাকলি কেন? কিছু স্বপ্ন টপ্ন দেখলি না তো আবার?
আরে না- কেন ঘুমিয়েছিলাম আমি নিজেও জানি না-
দেখি তোর গায়ে জ্বর কেমন? একদম জ্বর নাই বলে মনে হচ্ছে, খাওয়ার পর হয়তো বুঝা যাবে, জ্বর থাকলে জ্বর উঠতে পারে । তবে আমার মনে হয় জ্বর আর উঠবে না ।
এর মধ্যে সন্ধ্যার বাবা মা এলো অনন্তকে দেখতে, বাবা জিজ্ঞাসা করলেন কেমন লাগছে এখন---- বাবা?
অনন্ত বলল জ্বী আংকেল এখন বেশ ভালো ফিল করছি মা মুচকি হেসে ইশারায় জিজ্ঞাসা করলেন অনন্তও ইশারায় ভালো আছি বলল । ঠিক আছে বাবা তোমরা গল্প করো আমরা আসি । অনন্ত উঠে দাঁড়িয়ে বিদায় দিতে চাইলে বাবা বললেন না বাবা ঠিক আছে তুমি বসেই থাক ওঠে বিদায় দিতে হবে । চলেন গেলেন তারা –
যাওয়ার পর বলছিল অনন্ত- দম বন্ধ হয়ে যেতে ছিল – এতো ভয় লাগে সাথে লজ্জা আমি নিজেকেই নিজে চিনি না এই সময় !! দেখ তো জ্বর ওঠলো কিনা আবার?
না- উঠে নাই –
মানে বুঝলি এবার?
কী ???
 মানে হচ্ছে ফাইনালি তোর জ্বর সেরে গিয়েছে বুঝলি?
আমার ও তাই মনে হচ্ছে ।
তাহলে ঠিক আছে তুই থাক আমি আসি – রাতে আবার ফেসবুকিং করিস না – ঘুমিয়ে পড়িস । শুভ রাত্রি ।
না, করবো না – তুই যেয়ে ঘুমা – শুভ রাত্রি ।
সন্ধ্যা সেল ফোনটা ফেরত দেওয়ার পর আর ওপেন করা হয়নি । মন চাইছে মোবাইলটা একটু ওপেন করতে, আহত পাখির মতো ফেসবুকিং ছাড়া অন্য অপশনগুলি দেখছে, কিন্তু ভালো লাগছে না একবুক তৃষ্ণা ঢেউয়ের নিচে বুকের কম্পন রেখে ভাগ্য বিড়ম্বনার কথা ভাবছে, ভাবছে সময়ের কাছে চাওয়া, পাওয়া, স্বপ্ন কিভাবে অসহায় দুর্লভ হয়ে ওঠে! অযাচিত ভাবে বেদনায় কষ্ট জাপটে ধরে স্বপ্নমাখা রঙ চটিয়ে ফ্যাঁকাসে করে দেয় । ভাবতে ভাবতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়ে অনন্ত ।
আজ একটু আগে আগেই ঘুম ভেঙ্গে গেল নতুন জায়গা বলে ঠিক নিজের ঘুমের আয়েশটা খুঁজে পায়নি, কিছু করার নাই তাই আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলো এপাশ ফিরে ওপাশ ফিরে কিন্তু ঘুম আর আসে না ঘুম পালিয়ে গিয়েছে কী আর করা চাঁদর মুড়ি দিয়ে পড়ে আছে ।আর হরেক রকমের ভাবনা মগজে অনাধিকার চর্চা করতে ভিড় জমিয়েছে দম যখন বন্ধের উপক্রম ঠিক তখন চট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল সে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে বলেই উঠে পড়ল । ফ্রেস হয়ে সন্ধ্যার অপেক্ষায় বসে আছে এরমধ্যে লিপিকে যখন দেখলো এইদিকে আসছে তখন ওকে ইশায় ডেকে কাছে এনে বলল তুমি একটু সন্ধ্যাকে ডেকে দেবে? সে বলল আচ্ছা আমি ডেকে দিচ্ছি । কিছু সময় পর সন্ধ্যা এসে বলল কিরে তুই বাবু সাজে বসে আছিস কেন?
 হ্যাঁ বাবু যা বলিস!! শোন আমি এখন বাসায় যাই, যাওয়ার(বিশ্ববিদ্যালয়) সময় তোকে উঠিয়ে নিয়ে যাব, কেমন?
 কেন তুই কি সুস্থ হয়ে গিয়েছিস? রাতে জ্বর আসেনি তো?
 না একদম আসেনি – আমি এখন একদম সুস্থ । আমি গেলাম গেট আটকে দিতে বল আর শোন আংকেল আন্টি উঠলে ম্যানেজ করে নিস, ওকে ?/ ওকে-তবে কিছু খেয়ে গেলে ভালো করতি-
তুই চিন্তা করিস না- আমি ম্যানেজ করে নেব ।
অনন্ত বাসায় চলে গেল এইদিকে সন্ধ্যা নিজে হোম ওয়ার্ক করতে বসলো । অনন্ত বাসায় যেয়ে মন ভরে গোসল সারলো বেশ ফ্রেসনেস নিয়ে হালকা সুগন্ধি মেখে একবারে বের হলো এবং সোজা শঙ্করের চায়ের দোকানে- এই শঙ্কর কেমন আছিস রে? সব ঠিকঠাক চলছে তো?
হ্যাঁ দাদা ভালো- তবে আপনার জন্য মন খারাপ হতো মাঝে মাঝে-
কেন রে? বোকা আমি তো সব সময় ভালো ছিলাম কোন সমস্যা হয়নি –
আমিতো আর জানতাম না দাদা আপনি কেমন ছিলেন, তাই মন খারাপ হতো- তবে মাঝে মাঝে মনে প্রশ্ন জাগতো সে-ই চায়ের কদর কি কমে গেল? নাকি এমন চায়ের সন্ধ্যা্ন বাসার আশেপাশে পেয়ে গিয়ে আমায় ভুলে গেলেন ।
হা হা হা --- না—বোকা ! শুধু কথাই বলে যাচ্ছি, শোন আজ তোর সে-ই চা- কফি-এক এক কাপ করে দিবি আর পাশের হোটেলের সেরা নাস্তাটা নিয়ে এনে আমায় দিতে পারবি না?
একদম পারবো- একটু বসেন দাদা আমি আগে নাস্তা নিয়া আসি ।
নাস্তা নিয়ে এসে সামনে দিলো মচমচা ভাঁজা পরাটা আলুরদোম গরুর মাংস ভুনা ইস কী তার খুশবো- গন্ধেই অর্ধেক ভোজন হয়ে গেল- মনে হচ্ছিল কতদিন খাইনা !! সকালবেলা পেট ভরে নাস্তা কোনদিন আমি করিনা আজ প্রথম খেলুম সে-ই । খেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতেই ধুঁয়া উড়িয়ে গম কফি নিয়ে হাজির শঙ্কর, কফির গন্ধ আগে মন ভরে নিঃশ্বাসে নিলাম তারপর চুমুক অনেকদিন পর সুদেআসলে স্বাদ নিলাম । এই শঙ্কর নতুন সে্ল ফোন নিয়েছি এইদিকে আয় তোর একটা ছবি নেই আমার সাথে-- আয় আয় ওয়ান , টু, থ্রী হয়ে গেল তোলা– এই দেখ কী দারুণ ছবি হয়েছে তোর জানিস এই ছবিটা দিয়ে আমি কী করবো?
নাতো দাদা --- আমি জানবো কিভাবে?
আজ ফেসবুকে তোর ছবি আপলোড করে দিব্, আমার সব বন্ধুরা তোকে দেখবে এবং সবাই এসে যাবে আগামীকাল চা খেতে । হা হা হা । কফি শেষ এবার চা দিয়ে যা-
এই নেন রেডি আছে
বাহ্ এই না হলে সঙ্কর!!
চা শেষে ফিরলো সন্ধ্যার বাসার সামনে – দেখে সন্ধ্যা বাসা থেকে বেরিয়ে আসছে – একদম পারফেক্ট সময়ে হাজির হতে পেরেছে – না হলে তো বকুনির ফ্রী সার্ভিস খোলা ছিল !!!!
সন্ধ্যা ---- ওঠ রিক্সায়- এই পাশদিয়ে আয়-- আরে গর্ত দেখছিস না? গর্তের মধ্যে পড়লে কাঁদা পানিতে তুই একাকার হয়ে যাবি । ওকে ওকে ঠিক আছে – এবার চালাও রিক্সাওয়ালা ভাই ।
স্যার, এখন কেমন আছেন? জ্বর ওঠে নাই তো আর? তারপর কী দিয়ে নাস্তাটা সেরেছেন শুনি? ঔষধ কি আর খেয়েছেন? কি হল উত্তর নাই কেন – তুই তো আমার অনেক দেখভাল করিস রিক্সায় ওঠার সময় দেখলাম, বেশ ভালো লাগলো । উত্তর দিতে হবে – আমি কিন্তু ভুলে যাইনি ---
তুই তো উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত অন্য কোন কথা বললেও শুনবি না এটা আমি খুব ভালো করে জানি- তাহলে শোন—হেব্বি একখানা নাস্তা সাথে এককাপ কফি ও এককাপ চা দুধ দিয়ে তবে সিগারেট খাওয়ার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল কিন্তু খাইনি, ঔষধ ও খাইনি – এবং এখন পর্যন্ত জ্বর ওঠেনি । তবে শাওয়ার নিয়ে ভীষণ ফ্রেস লাগছে বুঝলি?
 সব এখন পর্যন্ত ঠিক আছে কারণ জ্বর ওঠেনি- যদি ওঠে তাহলে কথা আমার চেঞ্জ হয়ে যাবে বুঝলি?তবে তুই অনেক ভদ্র হয়ে গেছিস দেখলাম—
কিভাবে?
ঐ যে ইচ্ছে থাকা সত্যেও সিগারেট খাসনি – শুনে ভালো লাগলো –
তাতো লাগবেই- খেলেতো আমাকে রিক্সা থেকে নামিয়ে দিতি— এমনিতে আর বিড়াল মান্দার গাছে ওঠে নাই – বুঝলি??
হি হি হি --- মনে আছে তাহলে --- গুড বয় ... এই রিক্সাওয়ালা ভাই দাঁড়াও এখানে- ঠিক আছে তুই যা, আমার এখানে একটু কাজ আছে, কাজ সেরে তারপর ক্লাসে যাব—বাই ।
চালাও ভাই --- ঠিক আছে ঐ টঙ্গের পাশে রাখো – ভাড়া ঠিক আছে তো?
জ্বী ভাইয়া ---
টঙে যেয়ে জরাজির্ন একটা বেঞ্জে বসে চায়ের কথা বলে একটা সিগারের নিয়ে ধরালো- চায়ের সাথে সিগারেট অন্যরকম এক স্বাদে ভরা- পরপর দুইটা টেনে লম্বা সময়ের দম নিয়ে ক্লাসে দিকে রওনা দিলো ।
এইভাবে দুইদিন এক বিষাদের জীবন কাটিয়ে রাতে ঠিক ১০টায় ফেসবুকে ডুকলো, কে কি লিখেছে পড়ায় মন দিতে চাইলো এরমধ্যে হ্যালো ইনবক্সে-
কেঁপে উঠলো মন আমার- চেয়ে দেখি অন্তরা নক করেছে আমায়- চোখ বন্ধ করে ভাবছি সাথে সাথে জ্বর জ্বর অনুভব করছি!! আবার ভাবছি ব্লক করে দেবো কিনা – কোন দিকেই মন সাড়া দিচ্ছে না ।। চুপাচাপ বসে দেখিছি –
কী হলো লিখছেন না কেন ? অন্তত এতোটুকু লিখে জানান- আপনি কেমন আছেন? আপনার শরীর ভালোতো? এই কয়দিন ইউনিভার্সিটিতে এসেছিলেন কি? উত্তর দিন !! আপনি যেন কোথায় আড্ডা দেন ও মধুর কেন্টিন কিন্তু আমি অনন্ত নামের কাউকে খুঁজে পাইনি – প্লিজ কথা বলুন !!!! আমার উপর আর রাগ করে থাকবেন না – আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে !!
দু'চোখ বেয়ে ঝরঝর করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে- এক অজানা তোলপাড় মুচড়ে দিচ্ছে কী দিয়ে শুরু করবে ভেবে!!
নিজেকে দমিয়ে একদম সাদামাটা উত্তর – হ্যাঁ আমি ভালো- আপনি এতো অস্থির কেন হচ্ছেন? আমি তো কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছি না?
আপনি কেনই বা আমাকে মধুর কেন্টিনে খুঁজতে গিয়েছিলেন? সারাদিনের কখন আমি ওখানে যাই সেটা তো আপনার জানার কথা না তাই খুঁজে না পাওয়াটাই স্বাভাবিক তাই না ?
এক তৃপ্তির হাসি হেসে লিখল- ভালো আছেন শুনে বেশ ভালো লাগছে আমার- তবে অস্থিরতার অন্য কোন কারণ নাই তবে মানবিক বোধ থেকে আমি অস্থির হয়ে পড়েছিলাম এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নাই । তবে আপনাকে খুঁজে না পাওয়ার যুক্তি অনেকাংশে ঠিক তবে আমি সকাল সন্ধ্যা লোক লাগিয়ে রেখেছিলাম কিন্তু কোন খোঁজ আপানার হয়নি । তবে এটা হতে পারে আপনি আমার সামনে দিয়ে চলে যাওয়ার পরে আমি আপনাকে খুঁজেছি ।
আপনি আমাকে খুজেছেন?
ধরে নেন – কারণ আমার পক্ষ থেকে কেউ মানেই তো আমি তাই না ?
হ্যাঁ যুক্তিতে মানতে হবে ।
রাতে খেয়েছেন?
হ্যাঁ খেয়েছি-
কী কী দিয়ে খেলেন?
বন্ধুর বাসা থেকে খাবার পাঠিয়েছিল সেটা খেয়েছি – সেখানে ছিল কৈ মাছ মসলা দিয়ে লাউয়ের পাতায় ভর্তা , চিংড়ি মাচ ভূনা, গরুর মাংস, ডাল। সালাদ । এতো এই সব ----
বাহ্ অনেক মজার খাবার তো!! আমার তো এখন খুব লোভ লাগছে – এই ভাবে বলা ঠিক হয়নি – আমার সব পছন্দের খাবার একসাথে আপনি খেয়ে নিলেন---
তাই ? আপনি জিজ্ঞাসা না করলে তো আমি বলতাম না –
হ্যা , ওটা আমার ভুল হয়ে গিয়েছিল – কে জানতো সব খাবারগুলি আমার পছন্দের হবে ...।
যাক, শুনে খুব ভালো লাগলো এই ভেবে, আমার একজন প্রিয় মানুষ আমার পছন্দের সব খাবারগুলি খেয়েছেন- সেইজন্য আপনার বন্ধুকেও আমার শুভেচ্ছা পৌছে দিবেন । একটা কথা জিজ্ঞাসা করি?
 হ্যাঁ করুণ—
এই যে কয়েকটা দিন আপনি উধাও হয়ে গিয়েছিলেন তার কারণটা কি আমি জানতে পারি ?? যদি বলার মতো হয় বা মনে করেন আমাকে বলা যায় তাহলে কোন ভাবেই ইততস্ত করবেন না প্লিজ আমাকে এখনি বলতে হবে –
দেখুন, সেদিনের পর আজ কেন নতুন করে নতুন কিসের আভাস আমি বুঝতে পারছিনা , সে যেটাই হোক আপনার ব্যাপার – আপনি জানতে চেয়েছেন আমি বলছি- কথা শেষ হওয়ার পর আমি অনেকটা বেসামাল হয়ে পড়েছিলাম- তারপর প্রচন্ড জ্বর, এক সময় আমার অজান্তেই আমি বেহুঁশ হয়ে পড়েছিলাম, সকাল দশটার দিকে আমার বন্ধু এসে অনেক ডাকাডাকির পর আমি জেগে উঠি, তখনও আমার জ্বর, ডাক্ততার নিয়ে আসলো জ্বর মেপে পেল ১০২ ডিগ্রী , ঔষধ লিখে দিলো এরপর আমার বন্ধু আমাকে তাদের বাসায় নিয়ে গেল কারণ আমার বাসায় আমি একা থাকি । পরেদিন সকালে বাসায় ফিরে আসি- এখন আমি সুস্থ ।
পড়তে পড়তে অন্তরা এক মায়ার জালে অন্তহীন পথে দিশাহারা বার বার প্রশ্ন আমি কি দেখা পাবো সেই মানুষটি যার মধ্যে সত্যিকারের মনুষ্যত্ব আছে, আছে নিটোল ভালবাসা , দায়িত্ববোধ, আছে কি সেই চোখ নারীকে মানুষ হিসেবে দেখা বা ভাবা ? সরি সরি আপনাকে না জানিয়ে আমি ওয়াস রুমে গিয়েছিলাম –
তাই? আমি তো লিখেই যাচ্ছি --- হ্যালো হ্যালো হ্যালো- কোন সাড়া নাই—একটা চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলেন আমাকে !!
যাক সেই অনুভূতি একটু হলে ফিরে এসেছে --- আমার অনেক ভালো লাগছে আপনার চিন্তার কথা ভেবে—শুনুন আপনাকে আমি এখন যা বলবো আপনাকে তাই শুনতে হবে – কোন অজুহাত চলবে না –
এখন দেখছি আমার জন্য অনেক কঠিন করে দিলেন --- তারপরও আমি শুনবো- বলুন –
কাল আমরা দেখা করছি ইউনির্ভারসিটিতে- ঠিক আছে ?
কী বলছেন আপনি – এটা আমাকে মানতে হবে ?
হ্যাঁ মানতে হবে – আমি তো আর আপানার ফাঁসির রায় দেইনি তাই না ? 
অতএব আগামীকাল আমাদের দেখা হচ্ছে।
 কোথায় দেখা হবে ? কিভাবে যোগাযোগ হবে এবং কয়টায়? 
কিছুইতো বললেন না ?
এখন আমি কিছুই বলবো না – নেট অন রাখবেন- মেসেঞ্জারে সব জেনে নেব দুজনে – কেমন ?
এখন রাখছি --- আগামীকাল দেখা হচ্ছে কথা হচ্ছে—ভালো থাকবেন – শুভ রাত্রি----
আপনি ভালো থাকবেন---
শুভ রাত্রি----
...................... >>>> চলবে-----------