Home » » অনন্ত-অন্তরা > (সপ্তম পর্ব)

অনন্ত-অন্তরা > (সপ্তম পর্ব)

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 25 September, 2018 | 1:05:00 AM


















 







> সৈয়দ মিজানুর রহমান < 

কাঁচা ঘুমে এই অবেলায় আমার দরজায় কে ঠক ঠক করছে? ইস! এখন ঘুম থেকে উঠতেই হবে না হয় দরজাওয়ার আস্ত রাখবেন । কোন্ পাগলের পাল্লায় পড়বো দরজা খুলে আল্লাহই জানেন । দরজা ভেঙ্গে ফেলবেন তো একটু রক্ষা করুণ আমি আসছি । কি হয়েছে? আরে তুই? পাগল না পাগলী ভুল করে পাগল বলে ফেলেছিলাম । তো কি হয়েছে এতো হৈ চোই কেন? মনে হয় বাড়ি ডাকাত পড়েছে! আর একটু হলে তো দরজা ভেঙ্গে ফেলতি !!
তোর বাসায় এসে তোর সাথে এখন আর ঝগড়া করবো না –
বাসায় কোথায়? এখনো বাইরে দাঁড়িয়ে আছিস, এখান থেকে ঝগড়া করা যায়, করা না ঝগড়া- জ্বালা মেটেনি তাই বাসায় এসছিস । শোন তুই আমাকে সেট দিয়ে দিয়েছিস ঠিক তো? সেটাই সামনা সামনি শুনতে এসছি । এবার বল ।
হ্যাঁ আমি যা বলি সেটা বুঝে শুনে বলি এবং সেই কথায় অনড় থাকি । সেট তোকে দিয়ে দিয়েছি । এটাই ফাইনাল ।
আমি যে কী খুশী হলাম অনন্ত, এই না হয় বন্ধু, একেই বলে পরাণের বন্ধু । আমি তোর কাছে চিরকৃতজ্ঞ থেকে আমি আবার আমার পরাণের বন্ধুকে এই আনকোরা সেটটি আমার পক্ষ থেকে তোকে উপহার দিলাম । এই নে বন্ধু আমার ।
আরে না আমি তোকে মন থেকে দিয়েছি ওটা তুই রাখ আর যদি দিতে চাস তাহলে তোরটা আমাকে দিয়ে যেতে পারিস ।
বন্ধুত্বের ভালবাসায় আমার বুক ভরে গিয়েছে – অনেক সময় হয়ে গিয়েছে আমাকে বাসায় ফিরতে হবে, প্লিজ তুই সেটটা রাখ, আমি যাব । এই ধর সেটটা । পারলে আমাকে একটু এগিয়ে দিয়ে আয় সন্ধ্যা উৎরে গিয়েছে ।
চলে তোকে দিয়ে আসি, তুই ভেবেছিলি আমি মন থেকে বলিনি তাই না? তোর সাথে ঝগড়া না করতে পারলে আমার কেমন যেন লাগে! তাই ঝগড়া করি এই ঝগড়া মধ্যে এক অন্যরকম মায়া আছে যা ঝগড়ার সাথে ভুলতে বসেছিলাম, যখন বুঝলাম, তখন মনে হল এটাতো সামান্য একটা সেট এর চেয়ে বেশী কিছু চাইলেও আমি দিয়ে দিতাম ।
আমি জানি, আমি তোর মতো , ঝগড়া না করলে তোর আমার সম্পর্ক ঝিমিয়ে যায় পানসে লাগে, ঝগড়া পরে যখন তুমি আমার কাছ থেকে চলে যাস তখন বুঝি তোর প্রতি আমার মায়া কতবেশী !!! যাক ও সব কথা, তুই বাসায় ফিরে যা আমি এখন যেতে পারবো । আচ্ছা তাহলে তুই যা কাল আবার দেখা হবে আল্লাহ হাফেয ।
আল্লাহ হাফেয ।
বাসায় ঢুকে কী করবো? ওকে যেয়ে প্রথমে কী রান্না আছে সেটা দেখবো, তারপর ফেসবুক সাথে গরম এককাপ কফি । চা বসিয়ে পিসি অন করলাম এবং একটি গান দিয়ে শুরু করলাম “তুমি আজ কত দূরে” আইডি ওপেন করলাম কোন খবর নাই – কে বা আমার খবর নেবে বলতেই ইনবক্সে হ্যালো, চেক করে দেখি নীল রাত নামের একটি থেকে আমাকে নক করেছে, ঠিক ভালো ভালো লাগলো না, মনকে প্রশ্ন করলাম সারা পেলাম না, বাদ, অন্তরা কোথায় হায়রে আমার কফির পানি কী আছে না শুকিয়ে গেলো ্ হায়! পানি শুকিয়ে গিয়েছে আবার একটু পানি দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে কফি বানিয়ে রুমে আসলাম । প্রোফাইলে গিয়ে খেলানাগুলিতে কমেন্ট করলাম, খেলনাগুলি বেশ দেখতে যদি সাথে মা মেয়ে ছবি রাখতেন তাহলে খেলনাগুলি পূর্নতা পেত । লাইক দিলো সাথে সাথে ওয়াও অনলাইনে আছে দেখছি । রিপ্লাই এলো- মায়ের ছবি দেওয়া যাবে না তবে মেয়ে ছবি আমগামীতে দিব । ধন্যবাদ । কী বলে কিছু বুঝলাম না । জানতেই হবে আসলে ব্যাপারটা কী । শুভ সন্ধ্যা – কেমন আছেন ?
শুভ সন্ধ্যা – জ্বী ভালো আছি , আপনি কেমনা আছেন ?
 ভালো আছি। যদি কিছু মনে না করেন একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে পারি?
 জ্বী করতে পারেন ।
আপনি কী বিবাহিতা ?
 হ্যাঁ আমি বিবাহিতা –
আপনার পরিবারে কয়জন ?
আমাদের পরিবারে একমাত্র মেয়ে ।
ওহ খুব ভালো , আপনার হাসবেন্ড কী করেন ?
উনি আর্মি অফিসার ।
জ্বী খুব ভালো সুখী পরিবার ।
এখন আমাকে নিয়ে নিশ্চিয় আর স্বপ্ন দেখবেন না ?
 স্বপ্নের সাথে বিবাহিতার কী সম্পর্ক আছে বলুন ? ভালো তো অনেক আগেই বেসে ফেলেছি, স্বপ্ন তো আজনমের! আমার এই পবিত্রতা বিয়ে নামের একটা সম্পর্ক নষ্ট করতে পারবে । চাঁদের ও কলঙ্ক আছে এই ভেবে আমার কষ্ট মুছে ফেলব, আমার এক জীবনের লক্ষ্য নিগুঢ় প্রেম মায়া ভালবাসা তার স্বপ্নের গভীরে অনড় । আপনি শারীরিক ভাবে আমার থেকে যোজন যোজন দুরে থাকবেন কিন্তু আমার হৃদয়ের গভীরে প্রেমের বাসর ভালবাসার সঙ্গম সে প্রথমদিন থেকে । আমার এই পবিত্র ভালবাসা বাহ্যিক কোন সম্পর্ক দিয়ে আমাকে সরিয়ে দিতে পারবেন না ।
 কি সাংঘাতিক আপনি এই সব কী বললেন বুঝে বলেছেন? একজন বিবাহিত মেয়ে সাথে প্রেমকরা সেতো পরকিয়া এটা অন্যায় সেখানে আপনি পবিত্রতা কোথায় পেলেন?
হ্যাঁ পবিত্রতা আছে, আমার ভালবাসা রিদয়সর্বশ্ব যেহেতু আপনি বিবাহিত সেহেতু আপনার সঙ্গে বাস্তবতায় আমার আর কোন সম্পর্ক রইল না । আমার স্বপ্ন আমার হৃদয়ের সংসার শুধু সে সংসারে কিছু শব্দের যোগ হলো কাল্পনিকতার অবসান ঘটিয়ে ।
পারবেন এই শব্দগুলি নিয়ে বেঁচে থাকতে?
নাকি সুন্দরী পেলে শব্দ ভুলে বিয়ে করে শব্দ ভোলার প্রায়শ্চিত্ত করবেন?
হি হি হি সব পুরুষ এক আপনিও তার ব্যতিক্রম নন ।
সামান্য পরিবর্তনে আর কী ব্যতিক্রম বলবো নিজেকে , তবে নারীর ক্ষেত্রে শুধু অন্যরকম ব্যতিক্রম বাকী কমবেশী সব ভালো মন্দ মিলিয়ে আমি এক পুরুষ বলতে পারেন ।
আচ্ছা একটা কথা উত্তর দিবেন?
বলুল-
যদি আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই তা হলে আপনি কি আমাকে বিয়ে করবেন?/
অসম্ভব এটা আমি করতে পারবো না ।
কেন আপনি না আমাকে ভালবাসেন?
তাহলে কেন বিয়ে করবেন না ?
আপনি বিবাহিত না হলে বিয়ে আবশ্যি করতাম ।
 বিয়ে করবেন না অথচ ভালবাসবেন তাহলে মতলবটা কী ?
আমার ভালবাসা আজকের পর থেকে আপনার কাছে আর কোনদিন পৌছাবেন না । এটাই মতলবেন উত্তর ।
আপনি আপনার সংসারের সবাই নিয়ে সুখে থাকুন সেই দোয়া করি । আমি এখন যাব ।
আপনি তো ভালো থাকবেন । শুভ রাত্রি ।
শুভ রাত্রি ।
হঠাৎ করে কাঁপিয়ে জ্বর অনুভব করছি, ভীষণ খারাপ লাগছে মনে হচ্ছে রুম নিয়ে ঘুরছি আবার বমি বমি লাগছে । ফ্যান লাইট অফ করে দিয়ে শুয়ে পড়লাম । প্রচন্ড মাথা ব্যথা শরীর কাঁপিয়ে চোখ দুটি ফেটে যাচ্ছে নোনা জল গড়িয়ে । এক সেকেন্ডে স্বপ্ন ভেঙ্গে এই ভাবে বুঝি চুরমার হয় ? বিড়বিড় করতে করতে কখন কিভাবে বেহুস হয়ে পড়েছিলাম পরের দিন সকাল দশটায় সন্ধ্যা এসে প্রচন্ড ডাকাডাকির পর আমি হুস ফিরে পাই , দরজা খুলে দিয়ে আবার যেয়ে শুয়ে পড়ি । সন্ধ্যা রুমে ঢুকে আমার কপালে হাত রাখেই বেরিয়ে পড়ে, কিছুক্ষণ পর ডাক্ততার নিয়ে বাসায় আসে । ডাক্তার জ্বর মেপে দেখে তখনও ১০২ ডিগ্রী! প্রেসক্রিপশন লিখে দিলো । ডাক্ততার চলে গেল কাজের মহিলা বাসায় ঢুকল ।
অনন্ত তুই কী খাবি আমি তোর জন্য খাবার নিয়ে আসি সাথে তোর ঔষধ ঠিক আছেন । কিছু বলল না ।
সন্ধ্যা চুপচাপ বেরিয়ে পড়লো, ঔষধ কিনে প্যাক্ট সুপ কিনে নিয়ে বাসায় ঢুকল, বুয়া এই সুপটা ওকে বানিয়ে দাও তার আগে পানি নিয়ে আসো ওর মাথায় জলপট্টি দিতে হবে ।
এইযে পানি
এখানে রেখে তুমি সুপটা বানিয়ে নিয়ে আসো । এই দিকটা আমি দেখছি । পলিব্যাগ মাথার নিচে দিয়ে ওর মাথা পানি ঢেলে দিতে লাগলাম সেই সাথে জলপট্টি দিয়ে রাখলাম কপাল চোখ জুড়ে । মনে হচ্ছে আগুন বেরিয়ে আসছে চোখদিয়ে । হঠাৎ এতো জ্বর কিছু বুঝতে পারছে , কেন এমন হল ? মাথাটা মুছিয়ে দিতে বুয়াকে ডাকলাম উনি মাথা উঁচিয়ে ধরলো আমি ভালো করে মাথাটা মুছে দিলাম । অনন্ত – এখন একটু ভালো লাগছে না তোর?
হ্যাঁ একটু –
পারলে উঠে বোস – সুপ নিয়ে আসছে একটু খেয়ে ঔষধ খেয়ে নিবি কেমন- ঘাটের সাথে হেলান দিয়ে বসলো , কী বিমূর্ষ দেখাচ্ছে ওকে! কেউ নেই একা একা থাকে কিভাবে একা একা থাকবেন ভাবতেই চোখ ভরে উঠলো । শোন তুই চিন্তা করিস না , তুই আগে সুপটা খেয়ে ঔষধটা খেয়েনে আমি বাসা থেকে আসছি । বুয়া আজ রান্না করা লাগবে না আপনি একটু বসুন আমি আসছি ।
ওদের বসিয়ে দ্রুত বাসায় যেয়ে মায়ের সাথে অনন্তের প্রচন্ড জ্বরের কথা জানালো, মায়ের কাছে অনুরোধ করলো ওকে এই বাসায় না আনলে কে দেখবে কে দেখবে ওকে? আমারাই তো ওর আপনজন মা ওকে আমাদের বাসায় আসতে অনুমতি দাও প্লিজ!! সবই বুঝি মা, বাড়িতে অবিবাহিতা মেয়ে থাকলে অনেক কিছু ভেবে চিন্তে করতে হয়, দেখি তোর বাবা কী বলে? তুমি একটু বোস এখানে, আমি শুনে আসি, দেখি তোমার বাবার কী বলে কেমন?
মা যখন বাবার রুমে গেল সন্ধ্যা তখন পিছে পিছে পা টিপে টিপে বাবার রুমের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো আড়িপাততে, বাবাকে মা ভীষণ গম্ভীর স্বরে কথাগুলি বলছিল ছিল বাবা নির্লিপ্ত উদার চোখে শুনছিল, সব শোনার পর হেসে দিয়ে অনুমতি দিয়ে আরো বলল ছেলে খুব ভালো এমন ছেলে আজকাল পাওয়া খুব দুষ্কর । তুমি চিন্তা করো না মেয়ের সাথে কাউকে পাঠিয়ে দাও ছেলেকে নিয়ে আসুক । কথা শেষ হওয়ার পর দ্রুত সরে গেল সন্ধ্যা, একটু পরেই মা যেয়ে সন্ধ্যাকে মলিন মুখে তার বাবার কথা জানিয়ে দিলো, সন্ধ্যা মায়ে বলল- মা তুমি নিশ্চিন্তে থাকতে পার তোমার মেয়ে কোন ভুল করবে না , আমি শুধু আমার পরম বন্ধুর সেবা করবো সেখানে কোন পাপা থাকবে না , তোমাদের মান-সম্মান আমার জীবন থাকতে কখনই ধুলোই মিশতে দেবো না, মা মেয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল যাও তাকে নিয়ে এসো । সন্ধ্যা তাদের কাজের মেয়েকে নিয়ে ঐ বাসায় যেয়ে অনন্তকে সব বুঝিয়ে বললে ও সম্মতি দিলো এবং প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস পত্র নিয়ে ওদের বাসায় ফিরে আসলো তবে আসার সময় বেশ কষ্ট হয়েছে অনন্তের রিক্সায় ওঠতে এবং নামতে । ভীষন দুর্বল হয়ে পড়েছে সেটা বুঝতে সন্ধ্যা আর বাকী রইল না । অনন্তকে ওদের অতিথি রুমে থাকতে দিলো এবং কাজের মেয়ে ও বুয়াকে সব বুঝিয়ে দিলো রুমটা ওর মতো করে ঘুয়েছে দেওয়ার জন্য । অনন্তর কাজের বুয়াকে বলেদিল আগামীকাল থেকে যদি আপনার কোন সমস্যা না হয় তাহলে আমাদের বাসায় এসে শুধু অনন্তের কাজগুলি করবেন কেমন- পারবেন তো? বুয়া সম্মতি দিলো দিয়ে ঐদিনের মতো কাজ শেষ করে বুয়া চলে গেলেন ।
সন্ধ্যা আছেন এখানে? কাজের মেয়ে দৌড়ে সন্ধ্যাকে যেয়ে বলল ঐ ভাইয়া আপনাকে খুঁজছেন- ঠিক আছে তুমি এইদিকটা দেখ আমি শুনে আসছি-
এই অনন্ত কিরে কেমন লাছে তোর?
 না- মাথাটা আবার প্রচন্ড ব্যথা করছে একটু জলপট্টি দিয়ে দেনা-
 ঠিক আছে তুই শান্ত-হ দিয়ে দিচ্ছি- জলপট্টি কপালে দিতেই ও কেঁপে ওঠলো-
উফ অনেক ঠান্ডা লাগছে-
একটু ধর্য্য ধর দেখবি ঠিক হয়ে যাবে- আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসলো- কিন্তু ওর মুথটা হঠাৎ করে মলিন হয়ে উঠলো । কিছু না বলে সন্ধ্যা কিছু সময় বসে ওর কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ভাবল, অনেক ক্লান্ত শরীর জলপট্টি পেয়ে মনে হয় একটু ভালো লাগছে তাই হয়তো তন্দ্রা ছুঁয়েছে ওকে । ঠিক আছে থাকুক কিছু সময় এমন আমি ঐ দিকটা যেয়ে ওর দুপুরের খাবারটা রেডি করি । অনন্তর দু’চোখ বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়ছে জলপট্টির জলে মিশে, ভাবছে কত আশা্য বুক বেঁধে কত আপন করে স্বপ্নকে বাস্তবতার জীবন উঠানে বউ সাজিয়ে বসাতে চেয়েছিলাম অথচ ভাগ্য বিধাতা কোন্ সূত্রে অংক কষে রেখেছেন আমি বুঝতে পারিনি! সরল মানুষগুলিকে বুঝি এইভাবে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়, সহজ সরল মানুষগুলির চলার পথ কি সব সময় দুর্গম হয়? এটাই কি সহজ সরল উদারতার উপহার?
 সহজ সরল উদারতা নয় চাকচিক্য
সহজে যায় না তা বুঝা-
ভালবেসে তাই ন্যায়নীতির হয় পরীক্ষা
 ভালবাসা পেতে তাই হতে হয় অঙ্গার
বেদনায় জ্বলে যায়, কষ্টে পুড়ে যায়-
দুঃখ যন্ত্রনার নোনা জলে সমুদ্র ভেসে যায়!
প্রতিটা কথা যেন বেদনার ঝর তুলে জগদ্দল পাথর উড়ে আসে আমার বুকে আঘাত করে বুক চেপে ধরে বসে আছে । বুঝতে পারছি না আমি কী করব? কী করা উচিৎ আমার? জন্মান্তর যাকে খুঁজে চলেছি সেই ধরা দিয়ে না দিলো ধরা- দিলো উড়াল অল্প সময়ের ব্যবধানে । চিনিনা জানি না শুধু সবুজবাতি সর্বশ্ব্য অন্তরা নাম আমায় পাগল করে দিয়ে গেল । ভালবাসার তীব্র যন্ত্রনায় পাজরভাঙ্গা রক্তক্ষরণ আমায় করেছে দিশাহারা!
অঝরে কান্নায় ভেসে যাচ্ছে বুক নিজেকে সামলাতে চেয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে অনন্ত ।
হঠা ৎ পায়ের শব্দ পেয়ে বুঝতে পারলো কেউ এদিকে আসছে, তাই এবার ঠিক সামলে নিতে চেষ্টা করলো ।
অনন্ত এখন কেমন লাগছে রে – কোন সাড়া পেলে না – খুব কাছে যেয়ে আস্তে করে ডাকল অনন্ত – অনন্ত
হুম- এতো বল-
কেমন লাগছে? ওঠে বসতে পারবি-
কেন?
তোর খাবার নিয়ে এসছি খাবি এখন-
না এখন না , আমার একদম খেতে ইচ্ছে করছে না – খেলেই বমি হয়ে যাবে ।
একটু তো খেতেই হবে বন্ধু, না হলে ঔষধ দেওয়া যাবে না আর ঔষধ না খেলে তোর জ্বর ভালো হবে না । তাই লক্ষী ছেলের মতো উঠে বসে খেয়ে নে আমি সব একটু একটু করে দিয়ে দিচ্ছি ।
 কী দিয়ে খেতে হবে?
তেমন কিছু না শুধু শিং মাছে ঝোল- খেয়ে দেখ অনেক মজা হয়েছে – আজ আমি নিজ হাতে রান্না করেছি অনেকদিন পর শুধু তোর উপলক্ষ্যে । আয় খাবি – ওঠে বোস !
ঠিক আছে – উফ উঠে বসতে ও কষ্ট হচ্ছে – তুই ভাত মেখে দে – সাথে একটা চামুচ দিস –
আচ্ছা --- এই নে প্লেট্টা ধর –
মনে হয় অনেক ভালো রান্না করিস তুই এই জ্বরমুখে তাও একটু একটু ভালো লাগছে – আর খেতে পারবো না – এই বার ঔষধ দে আমি খেয়ে নিচ্ছি ।
 মাছ টুকু অন্তত খেয়ে ফেল-
ঠিক আছে খাচ্ছি -
এবার ঔষধ দে-
অনন্ত ঔষধ খেয়ে নিল –সন্ধ্যা কাজের মেয়ে ডেকে বলল লিপি তুমি এইগুলি সব নিয়ে যাও ।
অনন্ত এবার একটু ঘুমানোর চেষ্টা কর- আমি একটু ফ্রেস হব এখন- ঠিক আছে কোন সমস্যা হলে ডাকবি কিন্তু- একদম নিজের বাড়ির মতো এখানে থাকবি- বুঝলি?
ঠিক আছে তুই যা আমি ঘুমাতে চেষ্টা করছি । সন্ধ্যা যেতেই-
 হৃদয় বীণার মসৃণ তার
 বেদনার ঝড় সুর হারালো সে বোবা কান্নায়-
মুচড়ে দিলো কোমল হাতের গোটা গোটা
প্রেমের ছন্দে লেখা কবিতা ।
অন্তরা তুমি রবে অন্তরে অনন্তের পথে
যদি কোনদিন ভাষাহীন নৈশব্দে আমায় ডাকো
যদি সাড়া না-ও পাও-
বুঝে নিও তোমার প্রতীক্ষায় আছি ।

>>>>>>>>>>>>>> চলবে -