Home » » অনন্ত-অন্তরা (চতুর্থ পর্ব)

অনন্ত-অন্তরা (চতুর্থ পর্ব)

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 18 September, 2018 | 10:30:00 PM


























॥ সৈয়দ মিজানুর রহমান ॥ 

স্ফটিক-স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ঢাকনাটা উঠিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বন্ধু বাঁধনে শুভ জন্মদিনে সুগন্ধ Yami Yami নজর কাড়া কেকের মোড়ক উম্মোচন সন্ধ্যার উপলক্ষে । রেস্তোরার উদ্যোগে কিছু সংখ্যক বন্ধুরা এলো মোদের মাঝে জানাতে শুভেচ্ছা সন্ধ্যার শুভ জন্মদিনে । কেকের চারিপাশে সাজানো মোমবাতিগুলি জ্বালিয়ে দিলাম- হঠাৎ করে ঠিক টেবিলের উপরের লাইটগুলি বন্ধ হয়ে গেল! অপ্রস্তুত সন্ধ্যার মুখ মোমের আলোয়ে গলে গলে বন্ধুত্বের বন্ধন রেখা ঘুরে ঘুরে ভরাট হতে লাগলো অটুট বন্ধনে । আমি এমন করে কখনও দেখিনি ওর ঐ দু’টি চোখ আত্মবিশ্বাসে ভরে ওঠা আনন্দে! বরাবরের মতো খুনসুটি মনোভাব কোথায় যেন মিলিয়ে গেল ফুটে উঠলো চটক চপলতা এক মায়াবী ইন্দ্রজাল! 

ওগো বন্ধু!
 তুমি মোর বিশ্বাসে বিশ্বস্ত
বন্ধুত্বের অমরবাণী ।
 তুমি সুন্দর তুমি অবোলা
তুমি নারী- সব সম্পর্কের
উর্ধে বন্ধু তুমি ।
সন্ধ্যার মুখোরিত লগনে
চাতক মনে-
তুমি সন্ধ্যা হৃদয়ে মোর জাগরিত
শুভ লগন যে যায় বয়ে
 সে তোমার জন্মদিনে ।
Happy Birthday to you// Happy---- Birthday------- to you-------
 জীবন তোমার উঠুক ভরে অনাবিল আনন্দে
হে শুভদিন যাক ভরে জন্মদিনে আগামী পথ চলা অবারিত আনন্দে,
সানন্দে জীবন হোক সুখময় অপ্রতিরুদ্ধ ।
শুভ হোক শুভ দিনে
শুভ জন্মদিন ।
কবিতা আওড়ানোর শেষে সবাই আনন্দে উদ্ভাসিত হলো- তালি বাজালো- মনে হলো ছাব্বিশটা রেস্তোরার সুপ্রশস্ত ক্ষেত্রটি স্তমিত হয়ে ভালবাসার সম্মান জানালো- মুহূর্তে আবার ঝলমল করে উঠলো খিলখিল হাসি আনন্দে ।
অনন্ত আমার পাশে এসে দাঁড়া –
আমি চুপচাপ ওর পাশে এসে দাঁড়ালাম, পাশের বন্ধুরা কেক কাটতে বলল, সন্ধ্যার হাতে কেক কাঁটা ছুরিটি দিয়ে বললাম দেরি নয় এখনি কেক কাটতে হবে । আমরা সবাই হ্যাপি বার্থডে বলতে শুরু করলাম, সন্ধ্যা জলন্ত মোমবাতিগুলি এক এক করে নিভিয়ে কেক কাটতে আমার হাত নৈশব্দে টেনে নিল ওর হাতের মধ্যে- আমি মানা করলাম না একসঙ্গেই কেক কেটলাম-পরমুহূর্তে ওর মুখে তুলে দিতে ইশারা করল ।
তুলে দিতেই আনন্দের বন্যা বয়ে গেল । এরপর সবাই মিলে কেক খাওয়া হলো – বিদায়ের পালা – অপূর্ব ঘন আনন্দ মুহূর্তে বিদায় নিলাম অব্যক্ত ভাললাগার মধ্যদিয়ে ।
 অনন্ত তাড়াতাড়ি চল গাড়ি নিচে ওয়েট করছে
মানে?
হ্যাঁ- তাড়াতাড়ি চল-
ওকে চল – নিচে নেমে আমি কোন গাড়ি দেখছি না – সন্ধ্যা কোথায় তোর গাড়ি?
আমার গাড়ি মানে উবার থেকে ডেকেছি-
কী উবার? ওকে তুই যা আমি যাব না । তোর পছন্দ না উবার- তাই তুই উবার ডাকিস নাই, বলেছিলি না?
 হ্যাঁ বলেছিলাম তাতে কি হয়েছে? এখন পছন্দ- এখন যাব ।
 ভালো তোর পছন্দ তুই যা আমি যাব না-
এই ফাজলামো করবি না তাড়াতাড়ি গাড়িতে ওঠ, গাড়ী ভাড়া বাড়ছে কিন্তু ।
 তুই দিয়ে দিবি আমার সমস্যা কী ?
শোন গাধা – আমার পছন্দ না কথাটা একদম তোর ক্ষেত্রে ঠিক কিন্তু এখন রাত বেশ হয়েছে আমাদের নিরাপত্তার জন্য উবার ডেকেছি । কোন কথা না বলে গাড়িতে ওঠ(বলেই আমার হাত ধরে টেনে গাড়ির দিকে নিতে চাইলো)-
ঠিক আছে টানাটানি করতে হবে আমি উঠছি গাড়িতে । গাড়ি চলতে শুরু করল-
 রিং টোন বেজে উঠতে- হ্যালো মা আমরা গাড়িতে আধাঘন্টা লাগবে চিন্তা করনা বলেই লাইন কেটে দিলো সন্ধ্যা ।এমন সারপ্রাইজড দিলি ! আমিতো ভাবতেই পারিনি- অবাক করা কান্ড ঘটালি আজ! যা ভুলার না কোনদিন ।
থাক থাক আর গদগদ হওয়া লাগবে না – কিন্তু আমার প্রশ্ন আছে- তুমি সকালে মন খারাপ করে ছিলি কেন? সেটা বল আগে ?
এমনিতেই ভালো লাগছিল না তাই মনের উপর তার প্রভাব আর কিছু না ।
 কিন্তু তোর চোখে কিছু একটা লুকিয়ে বিষণ্ণতায় প্রলেপ ঢেলে কথার গাঁথুনি দি্লি গেঁথে- এটা কি ঠিক করলি?
এই তুই সমাজ কল্যাণ নিয়ে না পড়ে বাংলায় পড়লে অনেক বেশী ভালো করতিস- সব কথায় সাহিত্যের রস খুঁজিস! হি হি হি ---- তাহলে শোন আমার মনে না আসলেও কেন যেন এখন কথাটা তোকে না বললে আমার মনের মধ্যে খচ খচ করবে – হুম – তুই জানতি আমার আজ জন্মদিন তাহলে আমাকে রাত ১২টা ১ মিনিটে Wish করলি না কেন? এই জন্য আমার মন একটুও কি খারাপ হতে পারে না? তো মন খারাপের জন্য একটুস খানি হলেও তুই দায়ী ছিলি ।
 তাই বুঝি দোস্ত? আমি তো বুঝতেই পারিনি তুই আমার অপেক্ষায় ছিলি? কেন তোকে ১২টা ১ মিনিটে কেউ wish করেনি?
হাজার করুক আমি তোর কথা বলেছি –
ইস-ওকে সরি এরপর আর কখনও ভুল হবে না – একটু স্বাভাবিক হলে কী হয় ।
আমি সব সময় স্বাভাবিক – তুই কথা তুললি তাই কথার পিঠে কথা না বললে ঐ কথা আর কখনও বলা হয়ে ওঠে না বা হয়ে উঠলেই সময়ের এক ফোট অসময়ের দশ ফোটের সমান হয়ে ওঠে বুঝলি – তাই বলে ফেললাম ।
 এই যখন তোর ভালবাসার মানুষ হবে তখন কী ১২টা ১ মিনিটের আসনটা আমার জন্য শূন্য থাকবে ? ভেবে চিন্তে বলিস কিন্তু !
তুই এই আমাকে চিনলি ? তোর সাথে আমার আর কোন কথা নাই –
আরে আমি তো অপ্রিয় সত্য কথাটি বললাম – তুই সহজ করে নিতে পারবি না আমি তো বুঝতেই পারিনি --- গুমড়া হয়ে থাকিস না আজকের এই শুভ দিনে প্লিজ একটু হাস- প্লিজ ----
আমি কষ্ট দিতে কথাটা বলিনি – এই কান ধরলাম- উঠবোস করার সুযোগ থাকলে করতাম – গাড়ির মধ্যে তাই ----- একটু হাস না প্লিজ ।
হি হি হি --- হইছে? তুই জানিস না – আমি প্রেমে বিশ্বাসী না – বিয়ে আগে কোন প্রেম নয় – যা হবে বিয়ের পর- তাহলে তুই ঐসব কথা কেন বললি?
আমি কী বিয়ের আগের কথা বলেছিলাম নাকি --- যদি তাই হবে তাহলে Boy Friend বলতাম-
এইবার নিশ্চিত ধরা উকিল সাহেবা !!!
কিসের ধরা – বিয়ের পর সীমানহীন wish থাকবে যেখানে কোন সময় নির্দিষ্ট হয়ে উঠবে না বরং তোর অপেক্ষায় আমার সাথে আমার ভালবাসার মানুষটি থাকবে বুঝলি – তাই ১২টা ১ মিনিট অন্ততকাল তোকে বরাদ্দ দেওয়া হল – মাথা টুপি হাতে নিয়ে জ্বী শাহাজাদী বলে গ্রহন কর –
জ্বী শাহাজাদী- সাদরে গ্রহন করলাম এমন অমূল্য তোফা –
এই অনন্ত চলে এসছি, ড্রাইভারকে বল বাম পার্শ্বে থামাতে –
প্লিজ ভাই একটু সামনে গিয়েই বাম পার্শ্বে রাখেন – সন্ধ্যা দেখে নামিস- ওকে- ভেতরে যা আমি দাড়িয়েছি –
তুই ভেতরে আয় মায়ের সাথে দেখা করে যা –
 না এখন আর যাব না – শুভ জন্মদিন My dear সন্ধ্যা –
Thank you my dear অনন্ত । শুভ রাত্রি ।
শুভ রাত্রি ।
>>>>>>> চলবে <<<<<<<