Home » » কাল সুন্দরীরা ভাল নেই

কাল সুন্দরীরা ভাল নেই

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 16 September, 2018 | 11:57:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : জলাশয়ের আশে পাশেই দেখা মেলে কালসুন্দরী পাখিদের ছোট ছোট গ্রাম। তাদের বাড়ীঘর ইট কিংবা পাথরের তৈরি না হলেও তারা বসবাস করে গাছের মগডালে খড় কুটোর তৈরি জীর্ণ নীড়ে। সাধারণত দিনের বেলায় এই পাখিরা বাসা ছেড়ে জলাশয়ের ধারে নেমে আসে শিকারের সন্ধানে। দিনের বেশিরভাগ সময় জলের তলদেশে মাছ শিকার করে সন্ধ্যায় ফিরে যায় আপন নীড়ে। কাক কোকিলের মত গায়ের রং কাল বলে কোন কোন এলাকার লোকজন এই পাখিকে কালসুন্দরী বা পানি কামড়ী বলে থাকে। তবে যে যাই বলুক না কেন এই কালসুন্দরী পাখির প্রকৃত নাম হচ্ছে পানকৌড়ি। অতিশান্ত প্রকৃতির এই পাখিটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক না হলেও পুকুর ডোবা খাল বিলের মাছ শিকার করতে জুড়ি নেই তার। জলাশয় যত গভীর হোকনা কেন একটু সুযোগ পেলেই ডুব মেরে শিকার খুঁজতে থাকে চঞ্চলা এই পানকৌড়িরা। প্রতিদিন তাদের খাদ্য তালিকায় থাকে ৪-৫ শ গ্রাম ছোট মাছ। আর এই খাদ্য সংগ্রহ করতে শীত কিংবা গ্রীষ্মে জলের তলদেশে ডুবতে হয় দিনে কমপক্ষে ৩৪-৩৫বার। তবে পুকুর ডোবায় মাছের পরিমানের উপর নির্ভর করে তাদের জলকেলি করা। এছাড়াও জলাশয়ে মাছ না পেলে শামুক ঝিনুক, ব্যঙ, কাকড়া ও পোকা মাকড় খেয়ে এই পাখিরা জীবন ধারণ করে থাকে। পরিবেশ বিদদের মতে, আগের দিনে যত্রতত্র জশালয়ের ধারে এই পানকৌড়িদের দেখা পাওয়া যেত। এখন নদীনালায় ভাটা পড়ে যাওয়ায় দেশীয় জাতের মাছের মতই প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে চিনচেনা এই পানকৌড়িরা। অন্যদিকে দেশের পুকুর ডোবার স্বচ্ছ জলে মুরগীর বিষ্টা, মলমুত্র ও নানা ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহার করার ফলে জলের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই দুষিত জলে পর্যাপ্ত পরিমান শিকার করতে না পেরে বংশ বিস্তার করতে পারছেনা সৌখিন পানকৌড়িরা। রোববার বিকেলে বদরগঞ্জ পৌরশহরের মুন্সিপাড়া এলাকায় একটি জলাশয়ের ধারে হঠাৎ করে সবার চোখে পড়ে পানকৌড়ি জুটির। তারা ডোবার জলে শিকার করার পর বৈকালী রোদে সারাদিনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে ডানা শুকাতে ব্যস্ত ছিল। ঠিক সেই মুহুর্তে অনেকের মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় বন্দি হয়ে যায় পানকৌড়ির ডানা শুকানোর একটি মনোরম দৃশ্যপট। এ প্রসঙ্গে কথা হয় মোরশেদ আলম নামে একজন মৎস্যচাষীর সাথে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পানকৌড়ি পাখি সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে নর্দমা কিংবা নোংরা জলাশয় এড়িয়ে চলে। তারা প্রতিবার জলের তলা থেকে মাছ ধরার পর ডাঙ্গায় এসে ডানাপাখা শুকিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, জলে নামার পর যতক্ষণ পর্যন্ত শিকার ধরতে না পারে ততক্ষণ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যায়। এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, দেশের নদীনালা খালবিলে আগের মত দেশীয় জাতের মাছ পাওয়া যায়না। তাই পানকৌড়িদের বেঁচে থাকা এখন দুস্কর হয়ে পড়েছে। এবিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডাঃ ওমর ফারুক বলেন, আমি শুধু পানকৌড়ি পাখির কথা বলব না। বন্য পরিবেশ পরিস্থিতি ও ক্ষেতে খামারে অব্যাহত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এদেশ থেকে দিনেদিনে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে নানা জাতের চেনা পাখি। তার উপর আবার অসাধু পাখি শিকারীরা নির্বিঘেœ শিকার করছে বক, সারস, হরিয়াল ও ঘুঘু পাখি। এভাবে চলতে থাকলে হয়তোবা আর কখনো বঙ্গ জলাশয়ের ধারে দেখা মিলবেনা শোভামন্ডিত কালসুন্দরী পানকৌড়ি পাখির।