Home » » দিনাজপুর বিজিবি সেক্টরে সোয়া ১৩ কোটি টাকার পণ্য আটক ॥ ৮৫৯টি মামলা

দিনাজপুর বিজিবি সেক্টরে সোয়া ১৩ কোটি টাকার পণ্য আটক ॥ ৮৫৯টি মামলা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 13 August, 2018 | 11:17:00 PM

স্বরূপ বকসী বাচ্চু, দিনাজপুর ব্যুরো,চিলাহাটি ওয়্ ে: দিনাজপুর বিজিবি সেক্টরের ৩টি ব্যাটালিয়নে গত ৭ মাসে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ৫১ প্রকার ভারতীয় পণ্যসহ ১৩ কোটি ১৬ লক্ষ ১১ হাজার ৪৩ টাকার মালামাল আটক করে সরকারী কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। দিনাজপুর বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোঃ আনিসুর রহমান জানান, চলতি বছর ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দিনাজপুর বিজিবি সেক্টরের অধীনস্থ দিনাজপুর সদর, ফুলবাড়ী এবং জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের ২০৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে বিজিবির হাতে ভারত থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য প্রবেশ এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে দেশী পণ্য পাচার করার অভিযোগে ২ হাজার ৫২৬ জন চোরাচালানীর বিরুদ্ধে ৮৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে পণ্যসহ আটক করা হয়েছে ৬৪ জন চোরাচালানীকে। এসময় বিজিবির হাতে আটককৃত পণ্য শুল্ক গুদামে জমা দিয়ে মূল্য নির্ধারন করা হয় ১৩ কোটি ১৬ লক্ষ ১১ হাজার ৪৩ টাকা। সূত্রটি জানায়, যে সব পণ্য জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকারক নয় তা নিলামের মাধ্যমে কাষ্টমস অধিদপ্তর বিক্রি করে আদায়কৃত অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা করেছেন। তুলনামূলক জনবল স্বল্পতা ও সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত না থাকায় চোরাচালানীরা যে পরিমাণ পণ্য ভারত থেকে নিয়ে আসে তার ১০ থেকে ২০ ভাগ পণ্য বিজিবির সদস্যরা আটক করতে সক্ষম হন। সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি ও অপরাধীদের আটক করতে আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজিবির প্রস্তাবনা সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব বাস্তবায়ন হলে চোরাচালানীর পরিমাণ শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার জন্য বিজিবির পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্রটি জানায়, গত ৭ মাসের অভিযানে উল্লেখযোগ্য আটককৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের শাড়ী, থান কাপড়, থ্রি পিস, শিশু পোশাক, শীত কালীন পোশাক, চাদর, সোয়েটার, জ্যাকেট, জিরা, আতর, চশমা, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, কসমেটিক্স সামগ্রী, ব্যাটারি চালিত ভ্যান, পিক-আপ গাড়ী, পলিথিন, বন্যপ্রাণী, মুরগীর ভ্যাক্সিন, হরলিক্স, ইমিটেশন সামগ্রী, জুতা, ব্যাগ, চকলেট বোমা, সালফার এসিড, স্টীল সামগ্রী, বিভিন্ন ধরনের ফল, পোস্তদানা, লবণ, বিভিন্ন ধরনের খাবার সামগ্রী, গরু, মহিষ, ছাগল, চাপাতা, বিভিন্ন ধরনের তেল, গরুর মাংস, কারেন্ট জাল, স্বর্ণ-রূপা, মুরগির বাচ্চা, সীম কার্ড, মোবাইল ফোন, কচ্ছপের শুটকি, মেমোরি কার্ড, বিভিন্ন মেশিনের যন্ত্রাংশ, প্রসাধনী সামগ্রী, কীটনাশক ওষুধ, পাটের বীজ, বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, মাছসহ বিভিন্ন প্রকারের মালামাল রয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ থেকে চাল, ধান, ইলিশ মাছ, পাওয়ার ট্রিলার, শ্যালো মেশিন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ভারতে পাচারের সময় বিজিবি আটক করতে সক্ষম হয়েছে। বিজিবির চোরাচালান বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সচেতন জনসাধারণের সহযোগিতার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ বৈঠক করা হয়। বৈঠকের ফলে অনেকেই চোরাচালানের ব্যবসা থেকে ফিরে আসে। আবার নতুন করে অনেকেই এ কাজের সাথে যুক্ত হয়। এসব কারণে চোরাচালান থেকেই যায়।