Home » » বদরগঞ্জে বাঁশের ফাঁদ তৈরি করে দেশীয় মাছ নিধন

বদরগঞ্জে বাঁশের ফাঁদ তৈরি করে দেশীয় মাছ নিধন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 12 August, 2018 | 11:20:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে ভরা বর্ষা মৌসুমেও পর্যাপ্ত পরিমান মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। প্রকৃতি ও পরিবেশ গত কারণে দিনদিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতীর অনেক মাছ। খাল বিল ও সরকারী জলাশয় গুলোতে মাছের উৎপাদন তেমন একটা নেয়। হাট বাজারে কিছু দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও তার দাম আকাশ ছোঁয়া। যা সাধারণ ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে নেই। এক শ্রেনীর মৎস্য শিকারীরা নদী নালা ও মুক্ত জলাশয়ের মাছের বংশ বৃদ্ধির গতিকে বাধগ্রস্থ করেই চলেছে। তারা কারেন জাল, হোকোস জাল ও “বানা”(বাঁশের তৈরি ফাঁদ) বসিয়ে অবাধে পোনা ও ডিম ওয়ালা দেশীয় মাছ নিধন করছে। যার ফলে দেশীয় মাছের ঘাটতি আরো বেড়েই চলেছে। অথচ প্রচলিত আইন থাকলেও কোন কাজেই হচ্ছে না। গতকাল শনিবার (১১আগষ্ট) বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নে ঘৃনই নদীতে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় সাজানো গ্রামের ইসলাম মিয়া (৪৮), নামে এক মৎস্য শিকারী আইনের তোয়াক্কা না করে ঘৃনই নদীর সাজানো গ্রাম নদীর ঘাটে “বানা” (বাঁশের তৈরি ফাঁদ) বসিয়ে অবাধে মাছ ধরছেন। সেখানে নদীর প্রস্থে এমন ভাবে ওই বানা বসানো হয়েছে যাতে করে উজানের একটি মাছও বেরিয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। তার প্রধান টার্গেট হচ্ছে বিভিন্ন জাতের দেশীয় মাছের পোনা ধরা এবং পোনা গুলো ধরে স্থানীয় বদ্ধ জলাশয়ের মালিকের কাছে চড়া মুল্যে বিক্রি করা। এছাড়াও মধুপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খারুভাঁজ নদীতে বিরাট আকৃতির “বানা” বসিয়ে একই উপায়ে ডিম ও পোনা ওয়ালাসহ দেশী মাছ নিধন করছেন। এদিকে বানা বসানোর নদীর ভাটি অঞ্চলের কৃষকরা পাট জাগ দিতে পারছেনা। এ প্রসঙ্গে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের গুদাম পাড়ার মৎস্যজীবী দীনেশ (৪৫) আক্ষেপ করে বলেন, ঘৃণই নদী ছাড়াও উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া, বুড়িতিস্তা, চিকলী, খাড়–ভাঁজ নদী সহ এলাকার প্রয় সব নদী খালে “বানা” বসিয়ে মাছ নিধনের কাজ চলছে। এসব কারো চোখে পড়ছেনা। নদ-নদীতে মাছের অভাবে বদরগঞ্জের মৎসজীবিরা অন্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এবিষয়ে বদরগঞ্জ সিনিয়র উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রবিউল আলম পারভেজ বলেন, মাছের ঘাটতি পূরনের জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন নদীতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বিপুল পরিমান কারেন জাল ধ্বংস করা হয়। আর যে সমস্ত স্থানেয় বাঁশের ফাঁদ (বানা) বসিয়ে দেশীয় মাছ নিধন করা হচ্ছে, ওই সব এলাকায় অচিরেই অভিযান চালিয়ে সে ফাঁদগুলো ধ্বংস করা হবে। আশা করছি এবার মাছের উৎপাদন ভাল হবে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মৎস্য চাষীদের প্রশিক্ষণসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে করে উপজেলার প্রত্যেক দরিদ্র লোকজন নদী থেকে অনায়াসে মৎস্য শিকার করতে পারে। বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের মৎস্যচাষী সাইফুল ইসলাম (৩০) বলেন, পুকুর ও বিল থেকে দেশী মাছ বাইম, কালবাউশ, ধেদাই, খাকলা, পবদা, গছি, শিং, মাগুর, কই, নাড়িয়া, চেলা, আইড়, গুনি, ফলি ,আছিম, ভাগনা, বাইগর, চিতল, উড়–য়াসহ অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন নদী খালে বিলে কারেন্ট জাল , হোকস জাল এবং বানা বসিয়ে এক শ্রেনীর অসাধু মৎসজীবী পোনা ও ডিম ওয়ালাসহ দেশীয় মাছ মারছেন। পানি কম হলে ইন্ডিয়ান “ফসট্রাকসিন” ও “কুইজফর” বিষের ট্যাবলেট দিয়ে মাছ মেরে বাজারে বিক্রি করেন। ফলে বদরগঞ্জে দিন দিন দেশীয় মাছের অভাব দেখা দিচ্ছে। এব্যাপারে গতকাল উপজেলা নির্বাহী মোঃ রাশেদুল হক বলেন, ঘৃনই ও খারুভাঁজ নদীতে বানা বসিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ওই সব অসাধু মৎস্য শিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।