Home » » নীলিমা শামীম এর একগুচ্ছ কবিতা

নীলিমা শামীম এর একগুচ্ছ কবিতা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 12 August, 2018 | 12:28:00 AM

























তোমার উপস্থিতি 
(শামীম মাহবুব আলম কে উৎসর্গ ) 

॥ নীলিমা শামীম ॥ 
মাঝে মাঝে কাছের, মানুষের কাছ থেকে,
নিজেকে আড়াল করে রাখি আর অপেক্ষা করি এই ভেবে,
দেখি আমায় মিস করে কিনা,।কিন্তু.
আমি সতিই খুব বোকা, এই জিনিসটা কখনো ভাবিনা,
আমি নেই তো কি হয় হয়ছে, আমার থেকে ভালো কাউকে সে পেয়েছে,।
আমাকে মিস করবে কেনো
পরক্ষনেই দেখি না ওতো আমার জন্য পাগল।
এইতো সেদিন তার সাথে রাগ করেই।ছিলাম।
 আমি হারলাম ও জিতলো। আজ ও হয়তো,?
 ভালোবাসার কোন সংজ্ঞা হয় না/
একটা নিশ্চুপ অনুভূতির নাম ভালোবাসা,
এই অনুভূতিটা উপলব্ধি করার ক্ষমতা যার যত বেশী
 সে তত বেশী ভালোবাসতে জানে,
কিন্তু, যখন এই অনুভূতিটা নষ্ট হয়ে যায়
কারো ভুলের জন্য,যা আমার মাহবুবের মাঝে নেই।
তখন দুটি মানুষের মাঝে তিক্ততা ব্যাতিত আর কিছুই থাকে না,
যেনো আমিও অকে সব ভালবাসা দিয়ে যেতে পারি।
 প্রকৃতপক্ষে এই অনুভূতিটা নষ্ট হয় না,
বরং অনুভূতিটাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। আর
পেছনে দায়ী থাকে দুজনের মাঝে আমিত্ব,অহংকার আর কিছু ফালতু
আধুনিকতা..................
তাই যে কোন সম্পর্কে জড়ানোর আগে এইসব ব্যাপারগুলো নিজের মন থেকে উপড়ে ফেলে দিতে হয়,।
তাহলে সম্পর্কগুলো অনেক সুন্দর হয় ।
কারন সম্পর্ক টিকে থাকার মুল কারনঃ
 "দুজনের মাঝে যে কোন বিষয়ে সেক্রিফাইস করার তীব্র পজিটিভ মন-মানসিকতা"


 সেকাল একাল 

॥ নীলিমা শামীম ॥
এখন কি আর মন মাতানো জলে ভিজে গা
চারিদিকে দালান -কোটা খেলার মাট তো দেখি না
সেই কালেতে শ্রাবন এলে রইতো না মন ঘরে হায়
এখন কি আর জানলা ছাড়া বরষা দেখা যায়?

ভারি ভারি বইয়ের বোঝা কোচিং প্রাইভেট
ঘুমের ঘোরে পরীক্ষার চিন্তায় শ্রাবনের গত শেষ
 বরষা এলেই নাও বানিয়ে ভাসাতাম জলে
এখন ভাবি পড়লে রেজাল ভালো তো পাবো

 জীবনের শিক্ষার ভার এখন কি আর পায়
 বইয়ের বোঝা ঠিকই আছে শিক্ষা তেমন নাই
বাবা মায়ের হুকুম কড়া হতে হবে সন্মানী
এখন বলে দেখ পাশের বাড়ীর ছেলে হলো সন্ত্রাসী।

যেইখানেতে ছিল মোদের খেলার মাট ও সরোবর
সেইখানেতে এলাহী দেখ বহুতলা হিলস ও টাওয়ার
 তোমরা বলো মা তোমাদের ভালোই ছিল সেই দিন
আমরা মাগো কোনো মতেই পাইনা সুখের সেই মিল।

 মিষ্ট ভরা মনটা আমার সুখ হলো বড় কঠিন
তোমার আমার মাঝে কেনো এতোই ব্যবধান।
 ওই পারার ছেলের দল। নিত্য করে খেল
আমি কেনো পাইযে মাগো শুধুই অবহেলা।

 শুধুই তোমার ইচ্ছাই 
॥ নীলিমা শামীম ॥
আজ আকাশ খুব কষ্টে ভারাক্রান্ত
আমিও তোমার খোজে বড় পরিস্রান্ত।
 তুমি নেই কোথাও তাই আমি বড় একলা
দুটি সন্ধ্যা, দুটি ভোর, গেলো যে বিফলে।

 কাল সেজে ছিলাম শ্রাবন্তিকার সাজে
নাকে নোলক,কানে পাশা,গলাই মাদুলি,
হাতে পরেছিলাম সেই খাড়ু,পায়েতে মল,
পড়নে ছিল মোর শাড়ী ভেলুয়ারি,লম্বা
চুলের বেনি মাঝে মাঝে তারার ফুল।

 তুমি চাওনি বলে দেখাইনি কাউকে
তোমার নিশেধ উপেক্ষা করতে বড্ড
ভয় লাগে।তাই নিজেকে ক্যামেরাই
বন্ধি করি নাই প্রিয়তম তুমি কি জান।

ওই নীল আকাশ কে রেখেছি সাক্ষী
তুমি এলে সব কিছু তোমায় বলবে নাকি।
পাহাড় কে বলেছি ডেকে, আমার পায়ের
ধ্বনি রাখতে মেপে, ঝরনা কে বলেছি তার
 নিমুজ্জিত জল দিয়ে মোর পাদুকা দোয়াতে।
 চাদকে বলেছি শুধু জোচ্ছনা ছড়িয়ে দিতে।

তোমার উপস্থিতি
॥ নীলিমা শামীম ॥

আজকের এই দিনে তুমি এসেছিলে মোর দ্বারে
হাত বাড়িয়ে নিয়েছিলে মোরে তুমি বাহুডোরে,
সেই থেকে আমি তুমি ছাড়িনি কেউ কারো হাত
 কত রাত্রি গিয়েছে চলি, কত হলোযে সুপ্রভাত।।

যে মালা খানি পড়িয়েছো গলে, শুকিয়ে গেছে তা
জড়িয়েছো বাধনে এই অনাহুতিরে, ভুলিব তো না
তোমার ভালোবাসা ছুঁইয়েছি,বিষাদ ময়তার রুকে
চোখের পানি কভু আসিতে দাওনি এই পাগলীনিকে।

দুজনার হাসিতে দুজনে হাসিয়াছি কাদিনো এই ভুবনে
বাকি পথ টুকু বাধিয়া রাখিবো ভালোবাসার মহা বাধনে
তুমিহীনা যেনো কভু থাকিতে না হয় ধরার ও ধরনীতে/
হাত ধরে রেখো বাকিটা পথ ছেড়োনা কভু রেখো ওই বুকতে।।

সেই সুদুরিকা 
॥ নীলিমা শামীম ॥ 
 বৃষ্টির জলে আজ মন কিছু বলে চোখ ছলছলে
আকাশের নীলিমায় আছি দুজনেই ঘোলমিলে।
সাগড় মিলেছে এসে সমুদ্রের মোহনার জলে
একি বিশালকায় র্য়েছি মোরা অতিতকে ভুলে।
হারিয়ে যাওয়া বালিকা বেলা পিছুটানে সেই সুদুরিকায়
বৃথা ভাবনায় মগ্ন মন পরাভূত সব কিছুই অহমিকায়।

অনন্ত আকাশে রহস্য বাজি সবি মনের কারসাজি
নিরজনে বসে ভাবি শুধুই তোমাকে আজি ,
আকাশের নীলাভ স্বপ্নেরা লুটাই রন্ধে রন্ধ
রঙ্গিন উদ্বেলিত আবেগে আহলাদের সেই গন্ধে ॥

মনে পড়ে সেই সুদুর বেলার রাত, দিন, দুপুর ও ভোর,
কখন যে গড়াতো হত কত আনন্দাল্লাশে ভর পুর।
ক্ষনে ক্ষনে আকাশ কোণে সাঁঝে অশ্রু স্বজল চোখে
মৌমাছির গুঞ্জরণে লাজুক লাজুক মন আনমনে,
 চোখে জল প্রপাত স্পর্শ পেতে চাই তোমার বিজনে ॥

প্রেম যুগল বন্ধি চাই, হতে চাই সন্ধি, দুজনায় সপনে/
কাছাকাছি আসি, পাশাপাশা বসি, নেই সে দুর্ভাবনা,।

অবাঞ্চিতা 
॥ নীলিমা শামীম ॥
ভাবনাগুলো সপ্ন ছড়ায়
তোমার সাথে কল্প মানায়,
একটাও আর মিলছে না,।

ভালবাসার মন্ত্র বাড়ায়।
কেমন করে মনকে বোঝাই
তোমার কথা বলছে না।

যখন আমি তোমার ছিলাম
তোমার কথাই ভেবেছিলাম/
একটুও তো বুঝলে না।

আপন থেকে পর হলাম
অন্য জনেরে সংগী বানালাম
কোন কারণ তো খুঁজলে না।

অবজ্ঞা আসে না কোন কাজে
অস্থিরতায় মনের বারোটা বাজে,
আমাদের মাঝে এলো সুজাতা।।

 যেটা ঘটার সেটাই ঘটে শেষে
গলা টেনে বলি আসলেই নেসে
সি বিচের সংগী হলাম দুজনাতে।
আপনজন না থাকলে তিন কূলে
ধৈর্য হারাই না যেন কোন ভুলে,
বাসর সাজানো উচিত ফুলে ফুলে।
 ভেবেই মরি পথ হাড়িয়ে কুলে
হয় না জানা কি আছে মুলে
সব স্বভাব যায় কি আর ধূলে।।/


ভালবাসার আবেশে
॥ নীলিমা শামীম ॥ 
ঝড়ো বাতাসের মত ছুঁয়ে যাও
কাঁনে কাঁনে কত কথা বলে যাও।
এক হাসিতে স্বর্গ দেখাও
সব কষ্ট তুমি ভুলিয়ে দাও।
মুখে না বলে চোঁখে বলে দাও
আমার সব কথা বুঝে নাও।
মুগ্ধ এ মন ভাবে সারাক্ষণ/
তুমি কতটা অসাধারণ।

 আমি ভাবি এ সময়টা যেন থেমে যায
যখন তুমি থাকো আমার খুব কাছে
আমার দৃষ্টি যেন থেমে যায়।
যখন দেখি তোমার পানে
মুগ্ধ আবেগে, স্নিগ্ধ পরশে,
বেঁধে রাখো আমায় সারা জনম
তোমার ভালবাসার আবেশে।

পরক্ষনেই তুমি হয়ে যাও কেমনি
ভুলে থাকো অন্যেরি বাসনার জেরে
আমায় কর তুমি অবহেলা অনাদর
তখনি এই মনটা ভেংগে হয় চুরমার
ক্ষনিকের তরে আমি হই হিংস্র
করি তোমায় হাজারো প্রশ্নবিদ্ধ
তুমিও কি ভাবোনা আমায় অবাধ্য
মান-অভিমান প্রেমের ক্ষুদ্র অজুহাত মাত্র।


তুমি ভেজাও মন
॥ নীলিমা শামীম ॥ 
যদি বৃষ্টির জল চোঁখ ছুঁয়ে যায়,
ভেবনা আমি কাঁদছি।
ফিরে আসবেনা জেনেও,
 মিথ্যে আশায় বুক বাঁধছি !

হতে পারে কান্না অথবা/ শুধুই বৃষ্টি জল।
হয়তো সেটা মনের
হাজার অনুভুতির যোগফল !
বৃষ্টি জলে শরীর ভেজায়,
তুমি ভেজাও মন,
কেনো হানা দাও
মনের ঘরে যখন তখন ?

 কে বা দেখে মনের ব্যাথা,
আর কে ই বা শোনে কথা ?
হাজার কথা গুমরে ফেরে
শুধুই নীরবতা !


আমার প্রানপ্রিয় সাথী 
॥ নীলিমা শামীম ॥ 
আজকের এই দিনে তুমি এসেছিলে মোর দ্বারে
 হাত বাড়িয়ে নিয়েছিলে মোরে তুমি বাহুডোরে
 সেই থেকে আমি তুমি ছাড়িনি কেউ কারো হাত
কত রাত্রি গিয়েছে চলি, কত হলোযে সুপ্রভাত।
 যে মালা খানি পড়িয়েছো গলে, শুকিয়ে গেছে তা
জড়িয়েছো বাধনে এই অনাহুতিরে, ভুলিব তো না
তোমার ভালোবাসা ছুঁইয়েছি,বিষাদ ময়তার রুকে
 চোখের পানি কভু আসিতে দাওনি এই পাগলীনিকে।
দুজনার হাসিতে দুজনে হাসিয়াছি কাদিনো এই ভুবনে
বাকি পথ টুকু বাধিয়া রাখিবো ভালোবাসার মহা বাধনে
তুমিহীনা যেনো কভু থাকিতে না হয় ধরার ও ধরনীতে
হাত ধরে রেখো বাকিটা পথ ছেড়োনা কভু রেখো ওই বুকতে।