Home » » তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে নীলফামারীর দুই উপজেলার ২০টি গ্রাম বন্যাকবলিত

তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে নীলফামারীর দুই উপজেলার ২০টি গ্রাম বন্যাকবলিত

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম News Editor : 07 July, 2018 | 10:36:00 PM

আব্দুল্লাহ আল মামুন ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : পাহাড়ী ঢল আর ভারী বর্ষনে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া নদীর তীরবর্তী নীলফামারী দু’টি উপজেলার অন্তত ২০টি চর ও গ্রামের মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্ট বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার এবং সন্ধ্যা ৬টায় ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং সর্বশেষ পানি কমে বিকেল ২টা থেকে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছচাপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার, গোলমু-া, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের প্রায় ২০টি চর ও গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান জানান গত দুই দিনের চেয়ে উজানের ঢলের গতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এলাকার নিচু স্থানে নদীর পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া চরগ্রাম গুলোর ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। ইতিমধ্যে তার এলাকার ১ হাজার ৪০ পরিবারের বসত বাড়ীতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এলাকার ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর মৌজাটি তলিয়ে গেছে। হুমকীর মুখে পড়েছে সেখানকার মাটির রাস্তাগুলো। এ ছাড়া ঝাড়সিংহেশ্বর মৌজার ৬টি পরিবারের বসতবাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার কারনে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। পরিবারগুলো হলেন, বাবুল ইসলাম (৩৫), সফিকুল ইসলাম, রহিমা বেওয়া (৭০), চাঁদ মিয়া (৫৫), হাফিজার রহমান (৫০) ও ফরিদুল ইসলাম (৪০)। পরিবারগুলোকে তিস্তার ডান তীর বাঁধে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামার চর,ফরেষ্টের চর, সোনাখুলীর চর ও ভেন্ডাবাড়ি চরে দেড় হাজার পরিবারের বসতবাড়ীতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ইতিমধ্যে ৭টি পরিবারের বসত ঘর হুমকীর মুখে পড়ায় তাদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন তার এলাকার দক্ষিন খড়িবাড়ি ও পূর্বখড়িবাড়ি মৌজায় তিস্তার বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রবার দুপর থেকে তা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারেজের সবগুলো জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
শেয়ার করুন :