Home » » উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি-চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বন্যা

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি-চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বন্যা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 05 July, 2018 | 12:08:00 AM

মাজহারুল ইসলাম লিটন,ডিমলা প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : উজানের ঢলে ও ভারি বর্ষনে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, তিস্তা বেষ্টিত নি¤œাঞ্চল ও চরাঞ্চলের শতাধিক বাড়িতে বন্যা দেখা দিয়েছে। উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে নতুনভাবে বিপদসীমার পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ দশমিক ৬০ মিটার। পানি বৃদ্ধির কারনে চরাঞ্চলের বসত বাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এবং বেশকিছু আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। নীলফামারীর ডালিয়ার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বুধবার সকাল থেকে নতুন পয়েন্টের হিসাবে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধির কারণে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। এদিকে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার চর বেষ্টিত গ্রামে গুলিতে নদীর পানি প্রবেশ করেছে। এদিকে তিস্তা অববাহিকার জনপ্রতিনিধিরা জানায়, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের জলকপাট খুলে দেয়ার ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারনে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টা হতে সোমবার দুপুর পয্যন্ত ডালিয়ার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ৫২ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যা বুধবার সকাল ৬ টায় ও দুপুর ১২ টায় আরও ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ দশমিক ৫৫ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এদিকে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকায় তিস্তার নি¤œাঞ্চলে ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, নাউতারা, জলঢাকা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বসতবাড়ীতে পানি উঠেছে। বানের পানি বসত বাড়ীতে প্রবেশ করায় বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন উচুস্থানে আশ্রয় নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া গত দুদিনের হটাৎ ঘুর্নিঝড়ে উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত ছাতনাই ও পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ফুলছড়ি পাড়ার বেশকিছু ঘরবাড়ী উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার মানুষজন মানবেতর জীবন যাপন করছে। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, বন্যা দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ঘুর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রেরন করা হয়েছে। এবং প্রতিটি ইউনিয়নের জন প্রতিনিধিদের খোজ খবর নিতে বলা হয়েছে। নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছি। বন্যা দূর্যোগ মোকাবেলায় সর্বাত্বক ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবো। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ বন্যা দূর্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এবং যে সকল এলাকা ক্ষতির মুখে থাকেন তাদের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা কাজ করছি।