Home » » বদরগঞ্জে সহকারী শিক্ষকের ঈঙ্গিতে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

বদরগঞ্জে সহকারী শিক্ষকের ঈঙ্গিতে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম News Editor : 10 July, 2018 | 10:12:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার খালিসা হাজীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মোঃ সদরুল আলকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকসহ একজন দুস্কৃতকারীর বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বুধবার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার আশ্বাস দেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক শাহ মোঃ সদরুল আলম চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ওই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে সেখানকার শিক্ষা কার্যক্রম সচল হয়ে উঠে। কিন্তু বিদ্যলয়ের সহকারী শিক্ষক শাফিউর রহমান সরকারী নিয়মনীতি উপেক্ষা করে আগের গতিতেই চলার চেষ্টা করেন। যার ফলে প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারী শিক্ষকের মনোমানিল্যের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে গত ৩রা জুলাই সকালে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে কাজ করাকালিন সময়ে সহকারী শিক্ষক শাফিউর রহমানের ঈঙ্গিতে এলাকার চিহিৃত দুস্কৃতকারী ওবায়দুল হক নামে এক ব্যক্তি প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে ঢুকে তাঁকে এলোপাতাড়ী মারধর করে। এ সময় অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাফিউর রহমান সেখানে উপস্থিত থাকলেও প্রধান শিক্ষককে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসেননি। আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে সহকারী শিক্ষক শাফিউর রহমান ও দুস্কৃতকারী ওবায়দুল হককে অভিযুক্ত করে বদরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করেন। এবিষয়ে গতকাল বুধবার খালিসা হাজীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মোঃ সদরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, আমি এই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে সহকারী শিক্ষকের স্কুল ফাকি দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে তিনি আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরই জের ধরে ঘটনারদিন লোকজন লেলিয়ে দিয়ে আমাকে লাঞ্চিত করেছেন। আমি ওই ঘটনার পর বদরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলেও মানসম্মান ক্ষুন্ন হওয়ার ভয়ে এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিলাম। কিন্তু থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর অভিযুক্তরা আমাকে ফাসানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্র করছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক শাফিউর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, আমার শারীরিক অবস্থা অতিরিক্ত খারাপ ছিল বলে প্রধান শিক্ষককে মারধরের সময় এগিয়ে যেতে পারিনি। তবে বিয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার জন্য চেষ্টা চলছে। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা বদরগঞ্জ থানার এসআই তপন কুমার রায় বলেন, গতকাল বুধবার ঘটনাস্থল তদন্তপুর্বক বাদীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসাবে নথিভুক্ত করার জন্য প্রস্তুতি চলছে। বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শোনার পর ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষককে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
শেয়ার করুন :