Home » » সৈয়দপুর স্বাদুপানি উপকেন্দ্রে বিলুপ্ত প্রায় বরালি মাছ নিয়ে গবেষণা শুরু

সৈয়দপুর স্বাদুপানি উপকেন্দ্রে বিলুপ্ত প্রায় বরালি মাছ নিয়ে গবেষণা শুরু

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 06 May, 2018 | 11:48:00 PM

এম এ মোমেন, নীলফামারী ব্যুরো,চিলাহাটি ওয়েব : দেশে প্রথমবারের মতো বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির মাছ বরালি নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সৈয়দপুর উপকেন্দ্র। এ তথ্য জানিয়েছেন ময়মনসিংহস্থ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে মাছটির পোনা সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে সুস্বাদু মাছ হিসেবে পরিচিত বরালি মাছ চাষের আওতায় আসবে এবং বিপন্ন হওয়ার হাত থেকেও রক্ষা পাবে। এতে করে দেশের উত্তরাঞ্চলে মৎস্য উৎপাদনে মাছটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মৎস্য বিজ্ঞানীরা আশা করছেন। সুস্বাদু মিঠা পানির মাছ বরালি আমাদের দেশে বৈরালি ও খোকসা নামে পরিচিত। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম বারিলিয়াস বারিলা। মিঠা পানির জলাশয় বিশেষ করে খাল, বিল, পাহাড়ি ঝর্ণা ও অগভীর স্বচ্ছ নদীতে মাছটি পাওয়া যায়। এর মোট ৫টি প্রজাতি রয়েছে যেগুলোকে আইইউসিএন (২০১৫) ইতিমধ্যেই বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেছে। কৃষি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, নদীতে বানা ও কারেন্ট জাল ব্যবহার এবং বিভিন্ন জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরায় দিন দিন অন্যান্য মাছের মতো এ মাছের উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে। বিপন্ন হওয়ার হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, স্বাদুপানি উপকেন্দ্র, সৈয়দপুর কর্তৃক রংপুরের চিকলি নদী ও দিনাজপুরের আত্রাই নদী হতে বরালি মাছসহ অন্যান্য প্রজাতিগুলো সংগ্রহ করে উপকেন্দ্রের পুকুর ও অ্যাকুরিয়ামে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রতিপালনসহ অন্যান্য গবেষণা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগত প্রজনন মৌসুমে (জুন-জুলাই) কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রজাতির বরালি মাছের পোনা উৎপাদন সম্ভব হবে। সৈয়দপুর উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা জানান, বরালি মাছের আবাসস্থল হিসেবে বাংলাদেশের সিলেটসহ দিনাজপুর ও রংপুরের বিভিন্ন নদী-খালকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারের বিভিন্ন জলাশয়ে মাছগুলোর অস্তিত্ব লক্ষ্য করা গেছে। মাছটির দেহ লম্বা ও সরু এবং পাশে সামান্য চাপা। উভয় চোয়ালের দৈর্ঘ্য সমান অর্থাৎ সমআকৃতির এবং পেছনের দিকে চোখের নীচ পর্যন্ত বিস্তৃত। পরিপক্ক মাছের মাথায় কয়েক সারি ছিদ্র দেখা যায়। পৃষ্ঠপাখনা পায়ুপাখনা থেকে অনেকটাই সামনে অবস্থিত। পুচ্ছপাখনা দ্বিখন্ডিত এবং উপরের খন্ডের চেয়ে নিচের খন্ড তুলনামূলক বড়। দেহের পার্শ্বরেখায় ৪৩-৪৬টি করে আঁশ রয়েছে। মোট দৈর্ঘ্য মাথার দৈর্ঘ্যরে ও দেহ উচ্চতার যথাক্রমে ৫.০-৫.৫ ও ৫.২-৫.৪ গুণ। মাথার দৈর্ঘ্য চোখের ব্যাসের ৩.৫-৪.০ গুণ। রূপালী বর্ণের দেহে ১৪-১৫টি ডোরা উলম্বভাবে পার্শ্বরেখা বরাবর বিস্তৃত। কান সোনালী বর্ণের ও পাখনাগুলো গোলাপী বর্ণের হয়। এ বিষয়ে ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যেই বিপন্ন প্রজাতির ১৮টি মাছের প্রজনন ও চাষ কৌশল উদ্ভাবন করেছে। এবার বিপন্ন প্রজাতির বরালি মাছ নিয়ে ইনস্টিটিউটের সৈয়দপুর উপকেন্দ্র গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ মাছের পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হলে তা দেশে মাছের বৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান রাখবে।