Home » » পলাশবাড়ীতে তামাক চাষ করে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে

পলাশবাড়ীতে তামাক চাষ করে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা,প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বৃট্রিশ টোবাকো কোম্পানির প্রলোভনে নিষিদ্ধ তামাক চাষ করে দালালের মাধ্যমে তামাক ক্রয় করায় শত -শত চাষী চাষাবাদের খরচ তুলতে না পেরে মাথায় হাত পড়ে লোকসানের মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা একদিকে যেমন চাষাবাদের খরচ তুলতে না পারায় আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। অপরদিকে কিছু চাষী তামাক কাটা,শুকানো,বাঁধাই প্রক্রিয়ার কাজ করে খোঁস,পচড়া, ক্যান্সারসহ হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্য পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা নিষিদ্ধ তামাক চাষের এই সেন্ডিকেডের হোতাদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জানা গেছে,গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ১ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বি.টি.সি মোড়ে গড়ে তোলা হয়েছে কৃষকের ক্ষতিকারক বৃটিশ টোবাকো কম্পানির ক্রয় কেন্দ্র,গোডাউন ও অফিস। সেখান থেকে নিয়জিত ক্রয় কেন্দ্রের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে মানিক,জীবনসহ ফিল্ড ম্যানেরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা বলে কৃষকদের নিষিদ্ধ তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করে তামাক চাষ করান এই চক্রটি। আর নির্বিঘেœ দাপটের সাথে তামাক চাষ থেকে তামাক ক্রয় কেন্দ্রে নিয়ে দালালের মাধ্যমে কেনা পর্যন্ত ম্যানেজ করা থাকে তদারকি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তাই এই চক্রটির ক্ষতিকারক কর্মকান্ড নিয়ে কখনো আইনী জটিলতায় পড়তে হয় না। আর যেসব এনজিও নিষিদ্ধ তামাক চাষ বন্ধে এর ক্ষতিকারক দিক নিয়ে চাষীদের বিভিন্ন সময় জনসচেতনা মূলক কর্মকান্ড সভা,সেমিনার করার কথা তারা মোটা অংকের টাকা নিয়ে ম্যানেজ হয়ে থাকেন।এতে ওই এনজিও গুলির একদিকে সভা,মেনিনারের বাজেটের অর্থ যেমন ব্যায় হয় না। অপরদিকে টোবাকো কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ পেয়ে মুখ বন্ধ রাখেন তারা। পলাশবাড়ী উপজেলার হাসবাড়ী গ্রামের কৃষক সাইদার রহমান জানান,আমি ধান,পাট,গম,ভুট্টা এসব চাষ করে আসছিলাম। কিন্তু বৃটিশ টোবাকো কম্পানির ফিল্ড ম্যান মানিক ও জীবন মিয়ার প্রলোভনে পড়ে ৩ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করে বিঘাপ্রতি চারা,সার,গোবর,লেবার সহ প্রায় ২০হাজার টাকা করে মোট ৬০হাজার টাকা খরচ করে বিঘা প্রতি ৫/৬ বেল্ট করে মোট ৩ বিঘায় মোট ১৬ বেল্ট প্রতি বেল্ট ৫০ কেজি করে মোট ৮ শত কেজি তামাক উৎপাদন করেছিলাম। কিন্ত আমি যখন গত সপ্তাহে তামাক বিক্রি করতে বি.টি.সিতে গেলাম সেখানে মাত্র ৪ বেল্ট তামাক ৮৫ টাকা কেজি দরে তামাক বিক্রি করে মাত্র ১৭ হাজার টাকা পেলাম। তামাকের আনোয়ার সাহেব বাকী ১২ বেল্ট তামাক কোয়ালিটি খারাপ হয়েছে এমন অযুহাতে রিজেক্ট করে ফরিয়ে দেয়। পরে আমি নিরুপায় হয়ে বাকী তামাক ফিরিয়ে আনি। এবং কোথাও বিক্রি করতে না পেরে তাদের টোবাকোর দালালের কাছে ২০টাকা কেজি ১ হাজার টাকা বেল্ট বিক্রি করি এতে আমি ৩বিঘা জমির তামাক ২৯ হাজার টাকায় বিক্রি করি।আমার মত অনেকেই লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছে। গন্ধববাড়ী গ্রামের তামকচাষী নরুল ইসলাম জানান,বাবা আমি ২ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করে কি যে ভুল করেছি। তার মাশুল হয়তো সম্ভব হবে না। আমারমত এলাকার অনেক চাষী একি পদ্ধতিতে লোকসান গুনছে। আর টোবাকো কম্পানীর তামাকের আনোয়ার সাহেব ও ফিল্ডম্যানরা বাছাই প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে শত- শত চাষীর মূলধন কেড়ে নিয়ে কোটি টাকার বানিজ্য করেছেন এ যেন দেখার কেউ নাই। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বি.টি.সি অফিসে গিয়ে দেখা গেলো সাইন বোর্ড কাপড় দিয়ে ঢাকা। যেন এসব অনিয়ম -দুর্নীতি কেউ বুঝতে না পারে ভিতরে কি হচ্ছে। এসব অনিয়ম ব্যাপারে মোবাইলে ম্যানেজার আনোয়ারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বক্তব্য দেয়া নিষেধ আছে বলে জানান।
শেয়ার করুন :